কাতারের উপর অারও অবরোধ আসছে

ডেস্ক : কাতারের উপর নতুন অবরোধ আরোপ করতে যাচ্ছে সৌদি আরব, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন। এ নিয়ে আজ রোববার বাহরাইনের রাজধানী মানামায় ৪ দেশের মধ্যে এক বৈঠক হয়েছে।

 সংবাদ মাধ্যম আরব আল হায়াতের খবরে এ তথ্য জানানো হয়।

সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ তুলে গত ৫ জুন কাতারের সঙ্গে ৪ দেশ সম্পর্ক ছিন্ন করে।

ওইদিন বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপ-সাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ নিয়ে গঠিত জিসিসিতে ভাঙ্গনের সুর বেজে ওঠে। গত একমাসে তা আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। আকাশপথ, স্থলপথ, পানিপথ সবখানেই কাতারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এ ৪ দেশ।

যদিও দোহা বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

খবরে বলা হয়, ৪ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারের উপর নতুন অবরোধ আরোপের কথা ভাবছেন। কাতারকে অর্থনীতিকে পঙ্গু করতে পারে- এবার এমন ধরনের অবরোধ আরোপ করা হচ্ছে।

তবে কোন কোন খাতে অবরোধ আসতে পারে- সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি প্রতিবেদনে।

প্রসঙ্গত, সংকট নিরসনে সৌদি নেতৃত্বাধীন দেশগুলো কাতারকে ১৩ শর্ত জুড়ে দেয়।  শর্তের প্রথমেই ছিল আল জাজিরা টেলিভিশন চ্যানেলটি বন্ধ করার দাবি। এর পরের শর্ত হিসেবে ইরান ও তুরস্কের সঙ্গে সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাসের দাবি করা হয়। এছাড়া কাতারে তুরস্কের সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করে দেওয়ার দাবিও জানানো হয়।

দাবিতে ওই এলাকার নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করার কথাও বলা হয়।

কাতারে অবস্থান করা ওই চার দেশের তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসীদের হস্তান্তরের দাবিও জানায় দেশ চারটি। চরমপন্থী যেকোনো কোনো সংগঠনে অর্থায়ন বন্ধ করার বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে বলা হয়।

কিন্তু গত দেড়মাসে কাতার এসব শর্তে কোনোটিই মানতে নারাজ।

কাতারের স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজনে তারা যুদ্ধ করতে হলে করবে, কিন্তু কারো কাছে মাথা নোয়াবে না।

এদিকে কাতার যখন শর্তগুলোর ব্যাপারে ভ্রক্ষেপ করছিল না, তখন তাদের উপর দেওয়া ১৩ শর্ত থেকে সরে আসে সৌদিরা। এর পরিবর্তে ৬টি মূলনীতি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।

এ ‘মূলমন্ত্র’গুলোর মধ্যে রয়েছে-সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রপন্থা মোকাবিলার অঙ্গীকার করা, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর জন্য অর্থায়ন না করা ও তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় না হওয়া, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করা এবং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকা।