ঐতিহ্যবাহী পুতুলের জায়গায় কাঁচ পণ্য

ডেস্কঃ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালকের নির্দেশে পুরনো স্থায়ী গ্যালারীর ঐতিহ্যবাহী পুতুল সরিয়ে ‘সমকালিন কাঁচ ও কাঁচ পণ্য’র গ্যালারী করা হয়েছে। স্থায়ী গ্যালারি বন্ধ করে নতুন কিছু করা জাদুঘরের ‘ঐতিহ্যে’ না থাকলেও মহাপরিচালকের ‘একক ইচ্ছায়’ এটা করা হয়েছে বলে অভিযোগ সেখানকার দুজন কিপারের।
পুরনো এই গ্যালারি বন্ধ করে সমকালীন নিদর্শন তোলার কোনো ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলেও এই ব্যাপারে তিনি কোন সঠিক ব্যাখ্যা দেন নাই। রাজনৈতিক কারণে এমনটি হয়ছে বলে তিনি ইংগিত দেন।
জাতীয় জাদুঘরের তৃতীয় তলার ২৭ নম্বর গ্যালারি ছিল পুতুল গ্যালারি। যেখানে মাটির, কাগজের, কাঠের ও সিমেন্টের তৈরি অনেক পুতুল ছিল বলে জানিয়েছেন জাদুঘরের একজন কিপার।
পুরোনো এই গ্যালারির পুতুলের বদলে ‘কাচ ও কাচ পণ্য’ গ্যালারি উদ্বোধন করা হয় চলতি বছরের ২৩ মে। বিকার, বোতল, মেজারিং সিলিন্ডার, ম্যাগনিফায়িং গ্লাস, সিসমোগ্রাফ ও অনুবীক্ষণ যন্ত্রের পাশাপাশি এখন সেখানে ঠাঁই পেয়েছে গৃহসজ্জার নানা উপকরণের পাশাপাশি সুরাপাত্র, আতরদান, কালির দোয়াত, হ্যালোজেন লাইট, ছাইদান ও পানপাত্র।
পুতুলের গুরুত্ব তুলে ধরে জাদুঘরের একজন কিপার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “পুতুল এই ব-দ্বীপের নদী-মাটি ঘেরা অঞ্চলে সমৃদ্ধ একটি উপাদান। আমাদের সিন্ধু সভ্যতায় এবং সর্বশেষ উয়ারী বটেশ্বরে খননকাজেও পুতুলের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।”
ওই কিপার আরও জানান, বলধার জমিদার নরেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরীর দান করা পুতুলের একটি বড় সংগ্রহ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিভিন্ন বয়স ফুটিয়ে তৈরি চারটি পুতুল, প্রখ্যাত মৃৎশিল্পী মরণচাঁদ পালের ‘সাইকেল আরোহী’সহ বেশি কিছু পুতুল, পশ্চিমবঙ্গের ঘূর্ণিগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মাটির পুতুলসহ বাংলাদেশে বিভিন্ন অঞ্চলের পুতুল জাতীয় জাদুঘরের ওই গ্যালারিতে ছিল।
শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের শুরুর সময় থেকে পুতুল গ্যালারি ছিল জানিয়ে আরেকজন কিপার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শিশুদেরকে বেশি আকৃষ্ট করত এসব পুতুল। আর বড়রা সেখান থেকে পেত ঐতিহাসিক নানা বিবর্তনের উপাদান।” গুরুত্বপূর্ণ পুতুলকে বাদ দিয়ে এখনকার কাচ পণ্যের গ্যালারি স্থাপনের কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছে না এই কিপার। পুরনো ঐতিহ্যবাহী পুতুলের গ্যালারি বন্ধ হলেও দুটি গ্যালারিতে এখনও পুতুলের প্রদর্শনী জাতীয় জাদুঘরে রয়েছে।