এবার কোটা সংস্কারের বিরুদ্ধে শাহবাগে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা

ডেস্ক : সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল প্রসঙ্গে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনের বক্তব্যের পর বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের ব্যানারে শতাধিক কর্মী শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়েছে। ১১ এপ্রিল, বুধবার বেলা পাঁচটার দিকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থা নেয় মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা।
বর্তমানে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য, প্রতিবন্ধীদের জন্য ১ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩০ শাতংশ, নারী ও জেলা কোটা ১০ শতাংশ কোটা রয়েছে । সব মিলিয়ে ৫৬ শতাংশ কোটার জন্য বরাদ্দ রয়েছে। যে সব প্রতিযোগী এ ক্যাটাগরিগুলোর অন্তর্ভুক্ত নন তাদের জন্য বাকি ৪৪ শতাংশ আসন রয়েছে।
চলমান কোটা পদ্ধতিতে ‘বৈষম্য’ বিদ্যমান দাবি করে এর সংস্কারে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা।
এর ধারাবাহিকতায় ৮ এপ্রিল আন্দোলনকারী শাহবাগে সড়ক অবরোধ করে। এই দিন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ এবং রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ হামলা চালালে আন্দোলন দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে।
একই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। পরে, ৯ এপ্রিল, আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দলের মত বিনিময়ের পর কোটা ব্যবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ৭ মের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানানোর প্রতিশ্রুতি দেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ওই প্রতিনিধি দল সেতুমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষিতে ৭ মে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিলে বিভিক্তি দেখা দেয় আন্দোলনকারীদের মধ্যে। বিভক্তির পর একটি অংশ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়।
এ বিভক্তির মধ্যে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী সংসদে আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে সম্বোধন করায় দেশজুড়ে হতে থাকে এ বক্তব্যের প্রতিবাদ। এ বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে বিভক্তি ভুলে আবার এক হয়ে গেছেন আন্দোলনকারীরার।
১০ এপ্রিল, বিকেল পাঁচটা ৫৫ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজু ভাস্কর্যের সামনে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট করে কোনো বিবৃতি না আসা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’