যৌনরোগ শনাক্ত করবে নতুন কনডম

ডেস্ক প্রতিবেদনঃ যৌনরোগ শনাক্ত করতে নতুন এক কনডম আবিষ্কার করেছে আইজ্যাক নিউটনস একাডেমির তিন তরুণ গবেষক। নতুন এই কনডম যৌনমিলনের সময় যে রোগ ছড়ায় তা সহজেই শনাক্ত করতে পারবে। শারীরিক সম্পর্কের সময় সেক্সচুয়ালি ট্রান্সমিটেড ইনফেকশন্স (এসটিআইস) রোগটি ব্যাপকভাবে ছড়ায়। আর যুক্তরাজ্যে বর্তমানে এটা মারাত্মক সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে।

মুয়াজ নওয়াজ (১৩), ড্যানিয়াল আলী (১৪) ও চিরাগ শাহ (১৪) মিলে আবিষ্কার করেছেন এই কনডম। তাদের এই আবিষ্কার ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। যুক্তরাজ্যে যখন এসটিআইসের সমস্যা ব্যাপক হয়ে দেখা দিয়েছে তখনই তারা এমন একটি নতুন পণ্য আবিষ্কার করেছেন।

তরুণ গবেষকদের এই আবিষ্কারের বিষয়ে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস জানিয়েছে, যৌনমিলনের সময় এই কনডমের মাধ্যমে যে এটা পরিধান করবে এবং সঙ্গী উভয়ের রোগ শনাক্ত করা যাবে। এটা দারুণ একটি আবিষ্কার। অতীতে দেখা গেছে দৈহিক মিলনের মাধ্যমেই বেশিরভাগ সময় যৌনরোগ সংক্রমণ হয়।

ড্যানিয়েল আলী টেক পার্টকে নতুন কনডম সম্পর্কে বলেন, ‘আমরা এই আবিষ্কারের মাধ্যমে ক্ষতিকর এসটিআইস শনাক্তের চেষ্টা করেছি। ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে ব্যক্তিগতভাবে মানুষ যেন তৎক্ষণাৎ রোগ সম্পর্কে জেনে নিতে পারে, আমরা নিজেদের আবিষ্কারের মাধ্যমে তারই চেষ্টা করেছি।’

সিএনএনের তথ্যমতে, যৌনরোগ সংক্রমণে প্রাথমিকভাবে কনডমের ওপরই ভরসা করেন গবেষক থেকে শুরু করে সবাই। এ জন্য কনডমের মাধ্যমেই তা শনাক্তের বেশি চেষ্টা করেন তারা। এ ব্যাপারে গবেষক নওয়াজ বলেন, ‘আমরা এই ধারণাটিকে কাজে লাগিয়েই নতুন এই আবিষ্কার করেছি। তবে আমরা এও জানি, এটা সহজ কাজ নয়।’ আরেক আবিষ্কারক চিরাগ শাহ বলেন, ‘আমাদের আবিষ্কার সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। কারণ হাজারো মানুষের জীবন বাঁচাতে সক্ষম হবে আমাদের এ আবিষ্কার।’

তরুণ গবেষকরা নিজেদের আবিষ্কৃত নতুন এই কনডমের নাম দিয়েছেন এসটিআই। বিশেষ ধরনের ক্ষুদ্র এক রাসায়নিক দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই কনডম, যা সহজেই শনাক্ত করতে পারবে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস। মিলনের সময় কনডম যখন ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের সংস্পর্শে আসবে তখনই এসটিআইস সম্পর্কে জানা যাবে। মিলনের সময় যদি কনডমটি সবুজ রঙ ধারণ করে তবে সেটা চলামডিয়া রোগ, হলুদ হলে হারপেস রোগ, নীল হলে সিফিলিস আর রক্তবর্ণ হলে তা হবে পাপিলোমা ভাইরাস।

নতুন আবিষ্কারের জন্য এরই মধ্যে পুরস্কার পেয়ে গেছেন তিন তরুণ। টিনটেক এ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছেন তারা। এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে প্রতিদিন এসটিআইসে আক্রান্ত হচ্ছেন প্রায় ১০ লাখ মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি দু’জনের মধ্যে একজন (যাদের বয়স ২৫) এ রোগে আক্রান্ত। এ ছাড়া আফ্রিকায় ৯ কোটি ৩০ লাখ ও মধ্যপ্রাচ্যে এই রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ২ কোটি ৬০ লাখ।