কলম্বাস থেকে ট্রাম্প: মুসলমানেরাই কি এ যুগের রেড ইন্ডিয়ান

প্রকাশিত

ড. সোহেল আহম্মেদ : স্কুলজীবনে ক্রিস্টোফার কলম্বাসের নামের সঙ্গে প্রথম পরিচয় ঘটে। জানতে পারি ইতালির এই নাবিক আমেরিকা আবিষ্কার করেছেন। পৃথিবীর কোনো ভূখণ্ডকেও যে আবিষ্কার করা যায় তখন তা বুঝতে কষ্ট হতো কারণ আবিষ্কার ও উদ্ভাবন শব্দের প্রকৃত অর্থ ও এই দুইয়ের পার্থক্য সঠিক ভাবে জানতাম না।

তাই মুখস্থ করেছি রেডিও’র আবিষ্কারক ইতালির মার্কোনি। বইয়ের কোথাও লেখা ছিল না দুই আবিষ্কারক নিয়েই বিতর্ক রয়েছে। কলম্বাসের আগেও যে অনেকে বিশেষ করে মুসলিম নাবিকেরা আমেরিকা গিয়েছিলেন এমন কথা আমাদেরকে কেউ বলেনি। তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান কয়েক বছর আগে নতুন করে এই প্রসঙ্গটি সামনে এনেছেন।

আমাদেরকে এ কথাও বলা হয়নি মার্কোনির আগে বাঙালি বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু প্রথম রেডিও উদ্ভাবন করেন। মার্কোনির নাতি জ্যোতির্বিদ পারসেশচে নিজে স্বীকার করেছেন জগদীশচন্দ্র বসুই রেডিও’র মূল উদ্ভাবক। মার্কোনি যে ডিটেক্টর ব্যবহার করে বেতার সংকেত পাঠিয়েছিলেন তা ছিল জগদীশচন্দ্র বসুর উদ্ভাবিত যন্ত্র। কিন্তু মার্কোনি তা স্বীকার করেন নি। জগদীশচন্দ্র বসুর জন্ম বাংলাদেশের ময়মনসিংহে, তাদের আদি নিবাসও বাংলাদেশেরই বিক্রমপুরে। কিন্তু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই বিজ্ঞানী ভারতীয় হিসেবে পরিচিত। ভারতের স্কুলের পাঠ্য বইয়ে জগদীশচন্দ্র বসুকে সেদেশের বিজ্ঞানী বলে উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের কোনো কথা নেই। এসব তথ্যও তখন জানতে পারিনি, বয়স বাড়ার পর জেনেছি। এখন মনে হয় স্কুলের স্যারেরা যদি সে সময়ই এসব তথ্য জানাতেন তাহলে হয়তো বাঙালি বা বাংলাদেশি হিসেবে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়তো। এখন নিশ্চয় স্যারেরা এসব বিষয় ছাত্রদের সঙ্গে শেয়ার করেন।

আমরা আবিষ্কারক মানেই ভাবতাম মহান ব্যক্তিত্ব। তাদের নাম মুখস্থ করতাম আর ভাবতাম- আমিও যদি এমন হতে পারতাম তাহলে গোটা বিশ্বের মানুষ আমার নাম মুখস্থ করতো! তখন এটা জানা ছিল না আমেরিকার কথিত আবিষ্কারক ক্রিস্টোফার কলম্বাস ছিলেন চরম বর্ণবাদী ও খুনি। তখন জানতাম না মার্কোনির মতো বিজ্ঞানীও অন্যের যন্ত্র ব্যবহার করে উদ্ভাবনের কৃতিত্ব নিজের নামে লিপিবদ্ধ করতে পারেন। তখন ভাবতাম আবিষ্কারকেরা কেবল মানবজাতির উপকার করতেই নতুন নতুন জিনিস তৈরি করেন। তখন জানতে পারিনি মার্কিন বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসনের উদ্ভাবনের পেছনে মূল প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে মুনাফা। আমরা মুখস্থ করেছি বৈদ্যুতিক বাল্ব আবিষ্কার করেছেন এডিসন। কিন্তু বাস্তবতা হলো এডিসনের আগেই অনেকে বাল্ব তৈরি করেছিলেন,কিন্তু এডিসনের বাল্ব ছিল তুলনামূলক বেশি টেকসই এবং ব্যবসার কৌশল জানার কারণে তার বাল্বই মার্কেট পেয়েছিল।

অন্তত আমার শিক্ষকদের কেউ তখন আমাকে বলেননি এসব আবিষ্কারেরও আগে মুসলিম বিজ্ঞানীরা এমন সব তত্ত্ব ও সূত্র দিয়ে গেছেন যা পরবর্তীতে অনেক উদ্ভাবনের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে এবং মুসলিম বিজ্ঞানীদেরকে সেসবের কৃতিত্ব দেওয়া হয়নি। বেশিরভাগ উদ্ভাবনের মেধা স্বত্ব নিয়েছে ইউরোপীয় ও মার্কিনীরা। এরপরও কিছু ক্ষেত্রে মুসলিম বিজ্ঞানীদের নাম পুরোপুরি মুছে ফেলা যায়নি। যেমন এলজেবরা (বীজগণিত) শব্দের সঙ্গে মিশে আছে মুসলিম বিজ্ঞানী আল-খোয়ারিজমির নাম। তার লেখা গ্রন্থ ‘আল জাবর’ থেকেই এলজেবরার উৎপত্তি। আধুনিক বিশ্বের অসংখ্য উদ্ভাবনের মূলে রয়েছে এই এলজেবরা।

আমরা অনেক ইতিহাসই জানি না। অনেক ক্ষেত্রে জানার সুযোগও হয় না। কিন্তু ইতিহাস জানা না থাকলে বর্তমানের অনেক বাস্তবতাকেই সঠিকভাবে উপলব্ধি করা যায় না। কলম্বাসের কথিত আমেরিকা আবিষ্কারের ইতিহাস পড়লেই বুঝা যায়, আজকের মার্কিন শাসনযন্ত্র এতটা নির্মম কেন? জানা যায় আজকের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ মানবাধিকারের স্লোগান দিয়ে কী আড়াল করতে চায়? অনুমান করা যায় প্রয়োজনে তারা আবারও কতটা হিংস্র হয়ে উঠতে পারে? তাদের ইতিহাসই দেখিয়ে দেয় কলম্বাসের উত্তরসূরিদের সামনে সরলতা প্রদর্শনের পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে?

১৪৯২ সালের কথা। একদল অস্ত্রধারীকে সঙ্গে নিয়ে তিনটি জাহাজে করে ১২ অক্টোবর আমেরিকার বাহামাস দ্বীপে পৌঁছান ক্রিস্টোফার কলম্বাস। সরলমনা স্থানীয় আদিবাসীরা তাদেরকে অতিথি হিসেবে স্বাগত জানান। কলম্বাসের একটি ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ মেরামতও করে দেন তারা। অভ্যর্থনা জানাতে আসা আদিবাসীদের দেহে স্বর্ণের অলঙ্কার দেখে কলম্বাস অনুমান করেন আশেপাশের কোথাও স্বর্ণের খনি রয়েছে। আদিবাসীদের সরলতা কলম্বাসকে মুগ্ধ করে এ জন্য যে, তিনি খুবই কম পরিশ্রমে ওই ভূখণ্ডের সব কিছু নিজের দখলে নিতে পারবেন। তিনি আমেরিকার মূল মালিক আদিবাসীদের নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা পাকাপোক্ত করেন এবং স্পেনে গিয়ে আরও এক হাজার দুইশ’ ইউরোপীয়কে সঙ্গে নিয়ে আসেন। শুরু হয় নির্মমতা, চলে গণহত্যা। কলম্বাস বাহিনী হিস্পানিওলা দ্বীপের একটি প্রদেশে ১৪ বছরের উপরের সব আদিবাসীকে তিন মাস পরপর একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ স্বর্ণ জমা দেওয়ার নির্দেশ জারি করেন। এই নির্দেশ মানতে যারাই ব্যর্থ হতো তাদেরই দুই হাত কেটে ফেলা হতো। হাত কাটার পর তারা রক্তপাতে মারা যেত। অনেকে বাঁচার জন্য পালানোর চেষ্টা করতো। তাদেরকে হিংস্র কুকুর দিয়ে খুঁজে বের করে নির্মম অত্যাচারের মাধ্যমে মেরে ফেলা হতো। অনেক আদিবাসীকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে।

হিস্পানিওলা দ্বীপে বসবাসকারীরা ছিল আরাওয়াক গোত্রের। ঐতিহাসিক সনদগুলো বলছে,কলম্বাসের নেতৃত্বাধীন ইউরোপীয় বাহিনীর নির্মমতা সইতে না পেরে ৫০ হাজার আদিবাসী বিষ খেয়ে গণ-আত্মহত্যা করেছিলেন। মায়েরা তাদের ছোট ছোট বাচ্চাদের বিষ খাইয়ে মেরে ফেলতেন যাতে ইউরোপীয়রা ওই বাচ্চাদেরকে কুকুরের খাবারে পরিণত করতে না পারে। এরপরও যারা বেঁচে ছিলেন তাদেরকে দাসে পরিণত করেন কলম্বাস। নিজের মতো করে সব কিছু গড়ে তুলতে আদিবাসীদের রাত-দিন পরিশ্রমে বাধ্য করেন। কলম্বাসের এই নিষ্ঠুরতার কারণেও মারা যায় হাজার হাজার আদিবাসী। আরাওয়াক গোত্র সংক্রান্ত ঐতিহাসিক তথ্য-উপাত্তে দেখা যায়, ১৫১৫ সালেও আরাওয়াক গোত্রের ৫০ হাজার সদস্য বেঁচে ছিল। কিন্তু ১৫৫০ সালে সেই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছিল ৫০০ জনে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৬৫০ সালে দ্বীপটিতে আরাওয়াক গোষ্ঠীর আর কেউ বেঁচে ছিল না। এর বহু আগেই কলম্বাস মারা যান, কিন্তু সেখানে দখলদার ইউরোপীয়দের গণহত্যা থেমে থাকেনি। কলম্বাসের উত্তরসূরিরা একই কায়দায় আদিবাসী নিধন অব্যাহত রাখে।

কলম্বাসের সময়ের কিছু নির্মমতার ইতিহাস উঠে এসেছে তার নিজস্ব জার্নাল ও চিঠিতে। আরও তথ্য পাওয়া যায় স্পেনের ঐতিহাসিক বার্তোলমে দা লাস কাসাস এর লেখা ‘হিস্টোরি অব দ্য ইন্ডিজ’ বইয়ে। তিনি লিখেছেন,কলম্বাস বাহিনী তাদের ছুরি ও তলোয়ারের ধার পরীক্ষা করার জন্যও আদিবাসীদের টুকরো টুকরো করে কাটতো, নিষ্পাপ শিশুদের শিরশ্ছেদ করতো। কলম্বাস যাদেরকে রেড ইন্ডিয়ান বলে নামকরণ করেছিলেন সেই আদিবাসীদের একটা বড় অংশকে নিশ্চিহ্ন করার পর ইউরোপীয়রা নিজেদের বিলাসী জীবন নিশ্চিত করতে একদল সেবকের প্রয়োজন বোধ করে। তারা আফ্রিকা মহাদেশে গিয়ে মানুষ ধরে আনতে শুরু করে। এভাবেই আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গদের আগমন। তারা স্বেচ্ছায় আমেরিকায় আসেননি, তাদেরকে জোর করে ধরে আনা হয়েছে।

বিখ্যাত কৃষ্ণাঙ্গ লেখক ও কোস্ট গার্ড অ্যালেক্স হেলি আমেরিকায় তার নিজের প্রথম পূর্বপুরুষের অনুসন্ধানে ব্যাপক গবেষণা চালিয়েছেন। সেই গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে লেখা ‘রুট্‌স: দ্য সাগা অফ এন অ্যামেরিকান ফ্যামিলি’ বইয়ে আফ্রিকা থেকে মানুষ ধরে আনার কিছু ঘটনার প্রামাণ্য বর্ণনা রয়েছে। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে গবেষণার পর জানতে পারেন আমেরিকায় তার প্রথম পূর্বপুরুষের নাম কুন্তা কিন্তে। গাম্বিয়া থেকে কুন্তা কিন্তে-কে ধরে নিয়ে আসে ইউরোপীয়রা। কুন্তা কিন্তে’র আমেরিকায় পৌঁছার খুঁটিনাটি তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন অ্যালেক্স হেলি। কুন্তা কিন্তে জঙ্গলে কাঠ কাটতে গিয়ে ইউরোপীয়দের অনুচরদের মাধ্যমে অপহৃত হন। এরপর তার আত্মীয়-স্বজনেরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। ১৭৬৭ সালে এক ইউরোপীয় দাস ব্যবসায়ী অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে গাম্বিয়ার যে ১৪০ জন মানুষকে জাহাজে করে আমেরিকায় নিয়ে এসেছিল তার মধ্যে কুন্তা কিন্তেও ছিলেন। জাহাজটি অ্যানাপোলিসের বন্দরে এসে থামে। অ্যানাপোলিস বর্তমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত। আমেরিকায় পৌঁছার আগেই পথে নির্মমতায় মারা যায় ৪২ জন গাম্বিয়ান। বেঁচে যাওয়া ৯৮ জনের একজন হলেন কুন্তা কিন্তে। তিনি ছিলেন মুসলমান।

কলম্বাস এবং এর পরবর্তী ইতিহাস থেকে এটা স্পষ্ট আমেরিকা আবিষ্কারের পর সেখানে ইউরোপীয়দের মাধ্যমে যে শাসন ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে তার অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে আছে মজলুম মানুষের রক্ত ও ঘাম। আজ যারা মুসলমানদের সন্ত্রাসী, বর্বর ও অসভ্য বলে গালি দেয় তাদের সামনে এসব ইতিহাস বেশি বেশি তুলে ধরা উচিত। প্রকৃত বর্বর কারা তা নতুন করে জানার সুযোগ এনে দিয়েছে জর্জ ফ্লয়েডের হত্যাকাণ্ড। কলম্বাস যুগের ৫০০ বছর পার হলেও আজও যে তার উত্তরসূরিদের চিন্তা-চেতনায় কোনো পরিবর্তন আসেনি ফ্লয়েডকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় আবারও তা প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্বপুরুষেরা আমেরিকায় এসেছেন জার্মানি থেকে। ট্রাম্প হচ্ছেন কলম্বাসের বর্তমান যুগের প্রতিনিধি। ট্রাম্প প্রথম থেকেই বর্ণবাদ ও জাতিগত বৈষম্যের পক্ষে কাজ করছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার আগে থেকেই ট্রাম্প মুসলিম জাতির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে নানা কথা বলে আসছেন এবং বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছেন। মার্কিন শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হাতে এক কৃষ্ণাঙ্গের নির্মম হত্যাকাণ্ডে ট্রাম্পের বর্ণবাদী অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে। বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনে কট্টর শ্বেতাঙ্গরা সহিংসতা চালালেও এর বিরুদ্ধে জোরালো কোনা বক্তব্য দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চরমপন্থি শ্বেতাঙ্গদের নিষিদ্ধ সংগঠন কু-ক্লাক্স-ক্লান এর প্রধান ডেভিড ডিউক প্রকাশ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন দিয়েছিলেন। তখনই সবার কাছে পরিষ্কার হয়েছিল ট্রাম্পের শেকড় আসলে কোথায়!

ট্রাম্প মুসলমানদের বিরুদ্ধে অবস্থানের ক্ষেত্রে খুব একটা রাখঢাক করেন না। কিন্তু বিশ্বের অনেক মুসলিম দেশের নেতারাই ট্রাম্পের ইসলাম বিরোধী নানা পরিকল্পনা ও নীতির বিষয়ে রাখঢাক করে কথা বলেন, অতিরিক্ত ভদ্রতা দেখান। ট্রাম্পের ফিলিস্তিন বিরোধী পরিকল্পনা ‘ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি’-তে সরাসরি দখলদার ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষা করা হলেও মুসলিম দেশগুলো এ ক্ষেত্রে সোচ্চার নয়। ফিলিস্তিনিদের হত্যা-নির্যাতন ও উদ্বাস্তু করে ইহুদিবাদীরা ইসরাইল নামের যে কথিত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে তা আদিবাসী বা রেড ইন্ডিয়ানদের নিশ্চিহ্ন করে আমেরিকা প্রতিষ্ঠারই ধারাবাহিকতা মাত্র। প্রথম থেকেই ফিলিস্তিনি মুসলমানদের নিশ্চিহ্ন করার প্রক্রিয়ারও নেতৃত্বে রয়েছে আমেরিকার ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত শাসক গোষ্ঠী এবং যুক্তরাজ্যসহ খোদ ইউরোপীয় দেশগুলো। বর্তমানে অনেক মুসলিম দেশই ইসরাইলের নিধনযজ্ঞ মেনে নিয়ে অবৈধ রাষ্ট্রটিকে বৈধতা দিতে যাচ্ছে। তারা কেউ এর পরিণতি উপলব্ধি করতে পারছে না। এটা যদি ওই সব দেশের সরলতা-নির্ভর তৎপরতা হয়ে থাকে তাহলে আরও বিপদ। কলম্বাস সম্পর্কে রেড ইন্ডিয়ানদের আগে থেকে কোনো ধারণা ছিল না,কিন্তু এখনতো মুসলমানদের সবাই ট্রাম্প ও তার সহযোগীদের ইসলাম বিরোধী অবস্থান সম্পর্কে অনেকটাই অবহিত। এরপরও ভুল করলে আধুনিক যুগেও রেড ইন্ডিয়ানদের মতো মুসলমানদের অস্তিত্ব সংকটে পড়তে হতে পারে।

মুসলমানদের মধ্যে যারা হীনমন্যতায় ভোগেন, হতাশায় ভেঙে পড়েন তাদের উচিত সভ্য হিসেবে দাবিদার ইউরোপীয়দের ইতিহাস বেশি বেশি অধ্যয়ন করা। ইতিহাস পড়লে মুসলমানেরা বুঝতে পারবেন তাদের ধর্মই সবচেয়ে মানবতাবাদী এবং হত্যা-নৃশংসতার বিরোধী। ইসলাম ধর্মে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে একজন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা গোটা মানবজাতিকে হত্যার সমতুল্য। প্রকৃত মুসলমান কখনোই কথায় কথায় মানুষ হত্যা করে না; মুসলমান নামধারী যারা এ ধরণের কাজ করে তারা বিভ্রান্ত অথবা অতি সরলমনা। তারা ইসলামকে ভুলভাবে বুঝেছে অথবা নিজের অজান্তেই ইসলামের শত্রুদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।

লেখক : রেডিও তেহরানের সিনিয়র সাংবাদিক।

শেয়ার করুন