কাবা ও মিনায় শাহাদাতের কাফেলা বনাম ভূ-রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র

প্রকাশিত

ইমরান আনসারী :  বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে ঈদের আগ থেকেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। কখন সকাল হয় আর কখন রাত হয় তা যেনো হিসেবের খাতায় মিলাতে পারছি না। কেবল কাজ আর কাজ। ইতোমধ্যে আমার একমাত্র ছেলে ইলহামের জন্মদিন পার হলো একটি ষ্ট্যাটাস দেবার সুযোগও পায়নি । যদিও আমি সেইভাবে জন্ম দিন পালন করার পক্ষে নই। । এতো কাজের মধ্যেও মিনায় শহীদ হওয়া নিহত হাজী সাহেবদের জন্য কেনো যেন বারবারই মনটা কেঁদে উঠছে। এ কান্নাটা কতটা যৌক্তিক তা আমার জানা নেই। কারণ শহীদদের জন্য চোখে পানি আসাটা কি আনন্দের নাকি বেদনার কিছুই মেলাতে পারছিনা। ফেইস বুকে কয়েকজন শহীদের লাশ দেখলাম প্রত্যেকে শাহাদাত আঙ্গুল উঁচু করে রেখেছেন মৃত্যুর পরও। কি অলৌকিক ঘটনা । যেটা হাজী সাহেবানরা জীবিত অবস্থায় করে থাকেন। তবে আমার সহধর্মীনি আমাকে হজ্জ শুরুর আগ থেকেই বলছিলেন দেখবেন এবার হজ্জে অনেক দুর্ঘটনা ঘটবে। এটি বলেছিল প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটার পর। একে একে একটি নয়, তিনটি বড় বড় দুর্ঘটনা। তিনটি বড় দুর্ঘটনার পর এটিকে আমি সাদা চোখে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছি।কারণ সকলের মনে থাকা উচিত আইএস জঙ্গীবাদীদের সেই হুমকির কথা- পবিত্র কাবা ঘর দখলের পরিকল্পনা আইএস-এর । এ ঘটনা ঘটার পর ইরানের মিডিয়াগুলো রাজতন্ত্রকে দায়ী করে যেভাবে বিবৃতি দিচ্ছে – তাতে সন্দেহটা আরো বেড়েই গেল। আমি আমার আগের কয়েকটি লেখায় স্পষ্ট করেছি আমি সৌদি রাজতন্ত্রের বিরোধী একজন মানুষ। আর সেটা যৌক্তিক কারণেই। কিন্তু কাবার রক্ষণাবেক্ষনের প্রশ্নে এতদকাল যাবত সৌদি রাজতন্ত্রের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো অভিযোগ উঠেনি মুসলিম বিশ্ব থেকে। তাহলে কেনো পরিকল্পিত এসব ঘটনা? অনেকে বলতে শুরু করছেন সৌদি রাজতন্ত্রের ভবিষ্যত চ্যালেঞ্জের মূখে পড়েছে। মধ্য প্রাচ্যের নেতৃত্ব নিতে চাচ্ছে ইরান। আবার কেউ বলছেন বর্তমান সৌদি বাদশা কিছুটা হলেও ইজরাইল বিরোধী। তার সাথে যোগ হয়েছে মিশরের সিসির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই অবস্থান স্পষ্ট করেছেন সৌদির বর্তমান বাদশা। তাই ভিন্ন মাত্রিক ষঢ়যন্ত্রের কবলে সৌদি রাজতন্ত্র এটা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা । তবে এই ষড়যন্ত্র আসলে কোন দিক থেকে হচ্ছে তা এখনই বলা যাবেনা। বর্তমান এই প্রেক্ষাপটে আমার অবস্থান সৌদি রাজতন্ত্রের পক্ষে। কারণ আল আকসা মসজিদ যেভাবে দখলে চলে যাচ্ছে তার পর পবিত্র কাবা দখলদারদের হাতে চলে যাক এটা আমি কখনই চাই ন। এই পরিস্থিতিতে সৌদি রাজতন্ত্রকে উচিত হবে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা । তদন্ত রিপোর্ট অবিলম্বে প্রকাশ করা। মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে এবিষয়ে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা। শুধুমাত্র পদপৃষ্ঠ হয়ে এতো লোকের প্রাণহাণি তা মেনে নেয়া যায় না। মুসলিম হিসেবে মনে রাখতে হবে সৌদি আরবের ধুলো মাটিতে মিশে আছে আমাদের প্রিয় নবীজির স্মৃতি।

(লেখাটি লেখকের ফেসবুক পাতা থেকে নেয়া। সূত্র : https://www.facebook.com/photo.php?fbid=10153676621139345&set=a.145605489344.104949.669554344&type=3&theater)

শেয়ার করুন