গরিবের আবার সরকার!

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকঃ সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কারওয়ান বাজারে বাঘের চাপায় নিহত ভ্যানচালক মোহাম্মাদ আলীর পরিবারের কোনো খোঁজ-খবর নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে নিহতের বড়ছেলে পারভেজ।

শনিবার সকালে সে বলে, “সরকারের বানানো ভাস্কর্যের নিচে চাপা পড়ে আমার বাবা মারা গেছেন। এ দায় সরকারকে নিতেই হবে। কিন্তু কষ্টের বিষয়টা হচ্ছে, এখনও পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কেউ আসা তো দূরের কথা, ফোন করেও খোঁজ নিল না। আমার বোনডার বুঝি পড়াশুনা বন্ধ হইয়া যাইবো? আমাগো দেহনের কেউ আর থাকলো না!”

সে আরো বলে, “আমরা গরিব, মরলেও কিছু না, বাইচ্চা থাকলেও কিছু না। আমাগো পাশে কে দাঁড়াইবো? গরিবের আবার সরকার! সরকারি সাহায্য শুধু বড়লোকেই পাই, গরিবের জন্য না।”

নিহত ভ্যানচালকের স্ত্রী পারভীন বলেন, “এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে আমরা হাজারীবাগের ৮২ নম্বর শাহাবুদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থাকতাম। আমার স্বামী প্রতিদিন কারওয়ান বাজার থেকে কাঁচামাল কিনে তা রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে সরবরাহ করতেন। বৃহস্পতিবারও একইভাবে তিনি রাত ৩টায় বাসা থেকে বের হন।”

তিনি আরো বলেন, “কারওয়ান বাজার কাচঁবাজারের সামনে বাঘের ভাস্কর্যের নিচে ভ্যান রেখে তার ওপর শুয়ে তিনি কাঁচামালের ট্রাক আসার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এরই মধ্যে কোনো একফাঁকে তিনি ঘুমিয়ে গেলে তার ওপর ভেঙে পড়ে বিশাল আকৃতির বাঘের ভাস্কর্য। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”

বাবার এমন মৃত্যুতে শোকে পাথর হয়ে গেছে ১৬ বছর বয়সী বড়ছেলে পারভেজ। পুরো সংসারের ভার এখন তার ওপর। কিন্তু তার মাইনে মাত্র চার হাজার টাকা। রাজধানীর অ্যালিফ্যান্ট রোডের মাল্টিপ্ল্যান কম্পিউটার সেন্টারের একটি দোকানে সে কাজ করে। তার বোন মীম (১০) হাজারীবাগের হাজী শফিউল্লাহ বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

কলাবাগান থানার ওসি ইকবাল হোসেন বলেন, “বৃহস্পতিবার রাতে বাঘের ম্যুরালের পাশে পলিথিন মুড়িয়ে মোহাম্মদ আলী ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোরে ম্যুরালটি ভ্যানের ওপর আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনার শিকার মোহাম্মদ আলীর গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে। জানা গেছে, ভারিবর্ষণে মাটি নরম হয়ে ম্যুরালটি নিচে ভেঙে পড়ে।”

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আগে ঢাকা সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে কারওয়ান বাজার পান্থকুঞ্জে বাঘের এ ম্যুরালটি বসানো হয়।