চলে গেলেন কাজী জাফর আহমদ

বিশেষ সংবাদদাতা : সাবেক প্রধানমন্ত্রী, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও জাতীয় পার্টির একাংশের সভাপতি কাজী জাফর আহমদ মারা গেছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। দীর্ঘ দিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন।

কাজী জাফরের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান রনি তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

খালেদা জিয়ার বরাত দিয়ে তার মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান জানান, ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) কাজী জাফর আহমদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

কুমিল্লার বিখ্যাত চিওড়া কাজী পরিবারে ১৯৩৯ সালের ১ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন কাজী জাফর আহমদ। মেধাবী ছাত্র হিসেবে কাজী জাফর আহমদ খুলনা জেলা স্কুল থেকে প্রথম বিভাগে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে রাজশাহী সরকাররি কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ. অনার্স ও এম.এ. (ইতিহাস) পাস করেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে এম.এ. এবং এল.এল.বি. কোর্স সম্পন্ন করার পরও কারাগারে চলে যাওয়ায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি।

কাজী জাফর আহমদ ১৯৫৯-১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৬০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১৯৬২-১৯৬৩ সালে অবিভক্ত পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের (এপসু) সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬২ সালে সামরিক শাসন ও শরীফ শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলনে কাজী জাফর আহমদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

ছাত্রজীবন শেষে কাজী জাফর আহমদ শ্রমিক রাজনীতির সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। ১৯৬৭ সাল থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলা শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ছিলেন।

১৯৭২ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত তিনি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী তখন ছিলেন ন্যাপের চেয়ারম্যান। এরপর ১৯৭৪ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত তিনি ইউনাইটেড পিপলস পার্টির (ইউপিপি) প্রথমে সাধারণ সম্পাদক ও পরে চেয়ারম্যান হিসেবে সক্রিয়ভাবে সাংগঠনিক দায়িত্ব ও জাতীয় রাজনীতিতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৭৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রী পরিষদের শিক্ষামন্ত্রী হন।

১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির জন্মলগ্ন থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮৬-১৯৯০ সালে তিনি জাতীয় পার্টির সরকারে পর্যায়ক্রমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বন্দর-জাহাজ ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীকালে বাংলাদেশ সরকারের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির রাজনৈতিক উপদেষ্টা, ১৯৮৯-১৯৯০ সালে বাংলাদেশের অষ্টম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮৬-১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের উপনেতা ও ১৯৮৯-১৯৯০ সালে জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের নেতা ছিলেন। ১৯৮৬-১৯৯৬ পর্যন্ত পরপর তিনবার তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর বিশেষ কাউন্সিলের মাধ্যমে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ওই দায়িত্ব পালন করেন কাজী জাফর আহমদ।