জিয়ার সমাধি রক্ষা করতে পারছে না বিএনপি

প্রকাশিত

বিশেষ প্রতিনিধি : একের পর এক যেন দুশ্চিন্তার খড়গ জমেছে বিএনপির উপর। সরকারের নানা কৌশলের কাছে বারবারই যেন হেরে যাচ্ছে দলটি। এজন্য অবশ্য দলটির সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে চুরমার হওয়াকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। সর্বশেষ গত ৫ জানুয়ারি সরকার পতন আন্দােলনের চূড়ান্ত ডাক দিয়ে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি শিবিরে যখন পিনপতন নীরবতা, তখন দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ চূড়ান্ত করেছে সরকার।

তবে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন বাতিলের অাহ্বান বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হলেও দলটির অতীত অভিজ্ঞাতায় বলছে সরকার দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের আয়োজন করলে তারা আন্দােলন দিয়ে তা থামাতে পারবে না।

এদিকে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন চূড়ান্ত করার পর এবার শেরে বাংলানগরস্থ চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের সমাধি সরিয়ে অন্যত্র নেয়ার চিন্তা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। জানা গেছে, প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয় রাজধানীর তোপখানা থেকে সরিয়ে শেরে বাংলানগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পাশে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত এক রকম পাকাপাকি করে ফেলেছে সরকার।

এ সংক্রান্ত প্রকল্প অনুমোদনের জন্য মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উত্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা। সচিবালয় নির্মাণ করতে গিয়ে পাশের চন্দ্রিমা উদ্যানে থাকা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর স্থানান্তরের দরকার হতে পারে বলে মনে করছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা।

কারণ জাতীয় সংসদ ভবনের স্থপতি বিশ্বখ্যাত লুই আই কানের নকশার আলোকে সচিবালয় গড়ে তোলা হবে। এতে সেখানে কোনো কবর থাকার সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এর আগে একনেকের একাধিক বৈঠকে বলেছেন, সবাই একমত হলে জিয়ার কবরসহ সংসদ ভবন এলাকায় থাকা কবরগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হবে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধি সরকার সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিলে সরকারের বিরুদ্ধে কঠাের অবস্থানে যাবে বিএনপি। এক্ষেত্রে কর্মসূচিও ঘোষণা করা হতে পারে।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের এক বিএনপি নেতা বলেন, সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে পরিস্থিতি এতোটাই ভঙ্গুর পর্যায়ে এসে ঠেকেছে যে জিয়াউর রহমানের সমাধি অন্যত্র সরানো কেন বিএনপি চেয়ারপারসনকে গ্রেফতার করলেও আপাতত কারো কিছু করার থাকবে না।

তিনি বলেন, অযোগ্য আর সুবিধাবাদীরা বিএনপিকে অনেক আগেই ধ্বংস করে দিয়েছে। তাই খালেদা জিয়া কর্মসূচি ডাকলেও নানা অজুহাতে সেটা আর সফলতার মুখ দেখে না।

এবিষয়ে বিএনপির মুখপাত্রের দায়িত্বে থাকা দলটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেছেন, সরকার যখন জিয়াউর রহমানের সমাধি সরে ফেরার সিদ্ধান্ত নেবে তখনই বিএনপি প্রতিক্রিয়া জানাবে।

শেয়ার করুন