টিভি গেছে, এবার সিনেমা হলগুলো বাঁচাতে হবে

প্রকাশিত

ওয়াহাদ সবুজ : 

‘আশিকী’ দেখলাম!
শাকিব খান বলেছেন, এসব তথাকথিত যৌথ প্রযোজনার সিনেমা আমাদের বাজার নষ্ট করে দিচ্ছে!
এ কথা শুনে অনেককেই টিপ্পনী কাটতে, উপহাস করতে দেখছি! কাউকে কাউকে বলতে শুনছি— “শাকিব খানের আবার বাজার, ঢালিউডের আবার ব্যবসা!” আমি প্রায় শতভাগ আত্মবিশ্বাসের সাথে জোর দিয়ে বলতে পারি এই টিপ্পনীকাটুনেরা না দেখে ঢালিউডি সিনেমা, না দেখে যৌথ প্রযোজনার সিনেমা!

এই নিয়ে চারটি ‘যৌথ প্রযোজনা’র সিনেমা দেখলাম! প্রথমে দেখলাম ‘রোমিও জুলিয়েট’! নায়িকার চরিত্রসহ হাতে গোনা তিন-চারটে চরিত্র আমাদের দেয়াহয়েছিল; এর মধ্যে নায়িকা ছাড়া বাকিগুলো ছিল এক রকম অগুরুত্বপূর্ণ চরিত্র! ‘দুই বাংলা’র এ সিনেমায় গানের কথায় ‘হিন্দি’ পেলাম! সে যাক্ গে, গল্পটল্প যাই হোক, লোকে হলে গিয়ে সিনেমাটা গিলছে দেখে ভালোই লাগলো! এরপর ‘অগ্নি ২’ দেখলাম! এখানেও নায়িকার চরিত্রসহ তিন-চারটে চরিত্র পেলাম আমরা! এখানে গানে হিন্দি বাক্যের সাথে সাথে পেলাম তামিল অ্যাকসেন্ট! এটাও বক্স অফিসে ভালোই গেল! ‘আমি শুধু চেয়েছি তোমায়’ দেখে বড় খারাপ লাগলো!! এখানে আমরা শুধু মিশা সওদাগরের একটা চরিত্র করুণা হিসেবে পেয়েছি; নায়ক-নায়িকা সব ওপাড়ের! এটা দেখে কোনোভাবেই কিছু মেলাতে পারি নি! আমার দেশের সিনেমা হলে সিনেমা চলছে, সেখানে আমাদেরও না-কি বিনিয়োগ রয়েছে, অথচ এ যেন টলিউডি সিনেমার ঢালিউডি প্রদর্শনী ছাড়া কিছু নয়!
সবশেষ দেখলাম ‘আশিকী’! গতানুগতিক টলিউডি চিত্রনাট্য, টলিউডি গান-লোকেশান-কাহিনী! এখানে অবশ্য আমরা পুনরায় নায়িকার জায়গাটা পেলাম; তবে প্রাপ্তি কেবল ওটুকুই! মিনিট দেড়েকের নায়িকার মায়ের চরিত্র আর তিন-চার মিনিটের নায়কের বোনের চরিত্র— এ দুটো অপ্রধান চরিত্র ছাড়া এ সিনেমায় আমাদের আর কোনো জায়গা নেই! তবে, অন্য আরেকটি কারণে এখানে বিস্ময়ের কোনোই সীমা নেই আমার! গানে হিন্দি তো আগে থেকেই ছিলো! এখানে একের পর এক হিন্দি সংলাপ পেলাম! হল থেকে বেরোনোর পর মনে হলো, এতক্ষণ যেন একটি ‘ইন্দো-বাংলা’ সিনেমা দেখলাম!

শাকিব খানের কথাটায় যে আমাদের ভবিষ্যৎ লুকিয়ে আছে— এতে আমার কোনোই সন্দেহ নেই!
আর হ্যাঁ, শাকিব-হেটারদের মনে রাখতে হবে, এক সময় প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি টলিউডে যে অবদান রেখেছেন, এক অর্থে শাকিবও ঢালিউডে সে অবদানই রেখেছেন! এখনও যে ঢালিউডি সিনেমার কিছুটা বাজার রয়েছে, এখনো যে ‘ঢালিউড’ বলে একটা বস্তু পৃথিবীতে রয়েছে— এটা কোনো না কোনোভাবে শাকিব খানের জন্যই! যখন আমি-আপনি কেউ ছিলাম না, তখন একা শাকিব ছিলেন; এ ইন্ডাস্ট্রিকে একাই টেনে বয়ে নিয়ে বেরিয়েছেন!

আমাদের টেলিভিশন তো অনেক আগেই ইন্ডিয়ার দখলে চলে গেছে, সিনেমা হলগুলোও যদি চলে যায়, তাহলে আমাদের আর কিছুই থাকে না! ঘরের মেয়েরা টেলিভিশনগুলোকে ইন্ডিয়ার কাছে সমর্পণ করেছে বলে আমাকে-আপনাকে দায়িত্ব নিয়ে সিনেমা হলগুলোকেও ওদের হাতে তুলে দিতে হবে— এর তো কোনো মানে নেই নিশ্চয়ই?!!

(লেখাটি লেখকের ফেসবুক পাতা থেকে নেয়া।)

শেয়ার করুন