ডিবি পরিচয়ে চলতো ডাকাতি

প্রকাশিত

মুক্তমন ডেস্ক : দেশের বিভিন্ন জায়গায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে ব্যাংকের গ্রাহকদের অপহরণ করে অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের তিন সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব-১।

র‌্যাব বলছে, সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরার ডিবি পরিচয়ে আট লাখ টাকা ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত তারা। আটক ব্যক্তিরা হলেন; মো. মিজানুর রহমান ওরফে বাচ্চু (৪২), মো. নূর আমিন মোল্লা (৩১) ও মোঃ সজিব আহম্মেদ (২৬)।

এসময় তাদের কাছ থেকে আট লাখ টাকাসহ অস্ত্র, ওয়াকিটকি ও ডিবি পুলিশের ষ্টিকারযুক্ত প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।

র‌্যাব-১ এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, গত ২১ অক্টোবর দুপুরে ভিকটিম মো. মোস্তফা জামান পূবালী ব্যাংকের বিমানবন্দর শাখা থেকে তাদের কোম্পানির জন্য সাত লাখ ৬৫ হাজার টাকা তোলেন। পরে ওই টাকা নিয়ে আইএফআইসি ব্যাংকের উত্তরা শাখায় জমা দিতে যাওয়ার সময় উত্তরা ১নম্বর সেক্টরের ১২নম্বর রোডের মাথায় অজ্ঞাতনামা পাঁচ-ছয়জন ব্যক্তি তাকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে একটি প্রাইভেটকারে উঠিয়ে নিয়ে যায়।

‘‘প্রাইভেটকারে উঠানোর পর ডাকাতরা ভিকটিমের চোখ বেঁধে তাকে ব্যাপক মারধর করে। তাকে অস্ত্রের মুখে প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে সাত লাখ ৬৫ হাজার টাকা ডাকাতি করে উত্তরা ১০নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডের পাশে রাস্তায় মোস্তফাকে ফেলে চলে যায়।

সোমবার রাত সাড়ে নয়টায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর ঢাকা বিমানবন্দর থানার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান গেইটের বিপরীত পাশে সাইটডিস রেস্টুরেন্টের সামনে অভিযান পরিচালনা করে ডাকাতদের আটক করে র‌্যাব।’’

সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় আটকেরা একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্য। ডাকাত দলটির স্থায়ী সদস্য আট থেকে দশজন। গত বছর থেকে তারা ডাকাতি চক্র গড়ে তোলে। পলাতক আসামী শ্যামল ওরফে সবুজ ওরফে সুলতান ও আটক মিজানুর রহমান ওরফে বাচ্চু এই ডাকাত দলের মূল হোতা। এই দুইজন মিলে ডাকাত দলটিকে নিয়ন্ত্রণ করে।

‘‘এই অপরাধী চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন যাবত নানাবিধ অপরাধের সাথে যুক্ত। ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তারা ডাকাতি, ছিনতাই, চুরিসহ বিভিন্ন ধরণের অপরাধ করে থাকে। এই অপরাধী চক্রটি নিজেদেরকে ডিবি পুলিশ হিসেবে উপস্থাপন করতে ডিবি জ্যাকেট, ওয়াকিটকি ইত্যাদি ব্যবহার করে থাকে।’’

তিনি আরও বলেন, এই চক্রটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাংকের গ্রাহকদের অপহরণ ও অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নানাবিধ কৌশল অবলম্বন করে থাকে। প্রথমত তাদের দলের দুই বা একজন সাধারণ ছদ্মবেশে ব্যাংকের বাহিরে, কয়েকজন গ্রাহকের ছদ্মবেশে ব্যাংকের ভেতরে এবং মূল দলটি প্রাইভেটকার নিয়ে সুবিধাজনক স্থানে অপেক্ষা করতে থাকে।

‘‘পরে তারা সুবিধাজনক গ্রাহকদের শনাক্ত করতে চেষ্টা করে। যে গ্রাহক বেশি টাকা উত্তোলন করে কিন্তু নিজস্ব গাড়ি নেই সাধারণত তাদেরকে টার্গেট করে থাকে চক্রটি। গ্রাহক ব্যাংক থেকে বের হলে ভেতরে ছদ্মবেশী ডাকাত বাইরে এসে ইশারায় বা মোবাইলে টাগের্ট গ্রাহককে বুঝিয়ে দেয়। পরে প্রাইভেটকারে থাকা ডাকাতরা জায়গা সময় বুঝে গ্রাহকের সামনে গাড়ির গতিরোধ করে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে চোখ বেঁধে মারধর করতে থাকে, এক পর্যায়ে ব্যাংক থেকে তোলা টাকা ছিনিয়ে নিয়ে ভুক্তভোগীকে রাস্তায় ফেলে দেয়।’’

অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া র‌্যাব-১ এর সহকারী পরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘‘আটক মিজানুর রহমান ওরফে বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে অপরাধী চক্রের মূল হোতা। আগে সে একটি বেসরকারি ফার্মে চাকুরী করত।সে পলাতক আসামী শ্যামলকে নিয়ে এই সংঘবদ্ধ ডাকাত দলটি গঠন করে। ডাকাতির জন্য সে টার্গেট নির্ধারণ করত এবং ডাকাতির সময় ডিবি অফিসার এর ন্যায় বেশভূষা ধারণ করত। ডাকাতি করে প্রাপ্ত টাকা সে নির্দিষ্ট হারে অন্যান্যদের মধ্যে বন্টন করত।বাচ্চু এখন পর্যন্ত দশ থেকে বারোটি ডাকাতি করেছে।

আরেক ডাকাত নূর আমিন মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে পেশায় একজন প্রাইভেটকার চালক। সে রাজধানী ঢাকায় রেন্ট এ কারে গাড়ি চালাত। সে ডাকাতি করার জন্য জব্দ করা প্রাইভেটকারটি ভাড়ায় নিয়ে আসত। সে পলাতক আসামী শ্যামলের মাধ্যমে উক্ত ডাকাত দলে যোগ দেয়। ডাকাতি করে নূর আমিন ২০ হাজার টাকা পেতেন।’’

তিনি জানান, আটক আরেক ডাকাত সজিব আহম্মেদকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে মূলহোতা মিজানের প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করে। সে আগে প্রাইভেটকার চালাতেন। এক মাস আগে সে চাকরি ছেড়ে দিয়ে ডাকাত দলে যোগ দেয়। সে প্রথমে টার্গেট নির্ধারণ করে এবংভুক্তভোগীকে গাড়িতে উঠাতেন। প্রতি ডাকাতিতে সজিব ৩০ হাজার টাকা পেতেন।

শেয়ার করুন