ডিসেম্বরে আরেক দফা বাড়ছে গ্যাসের দাম

বিশেষ প্রতিবেদক : বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ঘোষণার একদিন পার না হতেই ফের গ্যাসের দাম বাড়ানোর চিন্তা ভাবনা করছে সরকার। আগামি ডিসেম্বরেই নতুন করে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা আসছে। এ বিষয়ে শিগগিরই প্রক্রিয়া শুরু হবে।

এ ইঙ্গিত দিয়েছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। বিইআরসির বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পরিমাণ নিয়েও সন্তষ্ট নন প্রতিমন্ত্রী।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ১২০ ডলার থেকে ৪০ ডলারের নিচে নেমে এলেও জ্বালানি তেলের দাম কমার আপাতত সম্ভাবনা নেই।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলাদেশ অ্যানার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান  (বিইআরসি) এ আর খান গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেন।

শুক্রবার একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া স্বাক্ষাৎকারে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘ডিসেম্বরের মধ্যে ফের গ্যাসের দাম বাড়ানোর ঘোষণা আসতে পারে। দাম বৃদ্ধির বিষয়ে শিগগিরই প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে জ্বালানি তেলের দাম কমার সম্ভাবনাও নেই।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দুই তিন বছরের মধ্যে পাইপ লাইনে গ্যাস বন্ধের পরিকল্পণা আছে সরকারের। তিন বছরের মাথায় ৭০ শতাংশ জায়গায় এলপিজি পৌঁছে দিতে পারবো। ধীরে ধীরে আমরা পাইপ গ্যাস বন্ধ করে দিতে চাচ্ছি। সেই জায়গায় আমরা মূল্যও বৃদ্ধি করতে চাচ্ছি। ৮০ শতাংশ মানুষ বিকল্প জ্বালানি হিসেবে লাকড়ি, এলপিজি বা অন্য জিনিস ব্যবহার করছেন। এসবের খরচ তাদের দিতে হয়।’

সেপ্টেম্বরে বিদ্যুতের দাম বাড়ছে। এতে জনজীবনে প্রভাব পড়বে না দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১০০টাকা যে বিল দিত তার ২ টাকা বাড়বে,যে ২০০ টাকা বিল দিতো তার ৪ টাকা বাড়বে।

আন্তর্জাতিক বাজারে প্রায় এক বছর ধরে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম কমছে। এক বছর আগে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল কিনতে হতো ১২০ ডলার  দিয়ে। যা এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০ ডলারের কম দামে। অবশ্য তার কোনো সুফল পায়নি দেশের মানুষ। এখন পর্যন্ত তেলের দাম কমায়নি সরকার- এ অজুহাত বাংলাদেশ পেট্টোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) দেনা আর অব্যাহত লোকসান।  যদিও এখন মোটা অংকের মুনাফা করছে রাষ্ট্রীয় এ প্রতিষ্ঠানটি। তবুও  কমছে না জ্বালানি তেলের দাম।

এ প্রসঙ্গে নসরুল হামিদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এবিষয় নিয়ে কয়েকবার কথা হয়েছে। এই মুহূর্ আমরা মনে করছি না তেলের দাম কমবে। ভবিষ্যতে সরকার দাম কমাতেও পারে। এটা নির্ভর করছে আমাদের ইকোনমিক অবস্থাটা কী ভাবে যাবে।

তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। উনি আমাদের সঙ্গে বসবেন বিষয়টা (তেলের দাম) নিয়ে। উনি (অর্থমন্ত্রী) তো লোন মওকুফ করছেন না।

বৃহস্পতিবার বিইআরসি থেকে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো ঘোষণা দেওয়া হয়। গ্রাহক পর্যায়ে ফের গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। গ্যাসের দাম গড়ে ২৬.২৯ শতাংশ এবং বিদ্যুতের দাম গ্রাহক পর্যায়ে ২.৯৩ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ছাড়া সব ক্ষেত্রে গ্যাসের দাম বেড়েছে। গ্যাসের এক চুলার বিল ৬০০ এবং দুই চুলার বিল ৬৫০ টাকা করা হয়েছে। বর্ধিত এই মূল্যহার আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

গৃহস্থালিতে মিটারভিত্তিক গ্যাসের বিল প্রতি ঘনমিটার ৫ টাকা ১৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা করা হয়েছে। গাড়িতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত রূপান্তরিক প্রাকৃতিক গ্যাস বা সিএনজির দাম প্রতি ঘনমিটার ৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা করা হয়েছে।

এছাড়া চা বাগানে গ্যাসের বিল ইউনিট প্রতি ৬ টাকা ৪৫ পয়সা এবং শিল্পকারখানার জন্য  ৬টাকা ৭৪ পয়সা করা হয়েছে।

গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম এক ইউনিট থেকে ৭৫ ইউনিটের জন্য নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ টাকা ৮০ পয়সা। যা আগে ছিল তিন টাকা ৫৩ পয়সা। আর ৭৬ ইউনিট থেকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম ৫ টাকা ১ পয়সা থেকে বৃদ্ধি করে তা ৫ টাকা ১৪ পয়সা করা হয়েছে।

২০১ থেকে ৩০০ ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৫ টাকা ১৯ পয়সা থেকে ৫ টাকা ৩৬ পয়সা, ৩০১ ইউনিট থেকে ৪০০ ইউনিটের মূল্য ৫ টাকা ৪২ পয়সা থেকে ৫ টাকা ৬৩ পয়সা, ৪০১ ইউনিট থেকে ৬০০ ইউনিটের জন্য ৮ টাকা ৫১ পয়সা থেকে ৮ টাকা ৭০ পয়সা এবং ৬০০ ইউনিটের ওপরে ৯ টাকা ৯৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯ টাকা ৯৮ পয়সা করা হয়েছে।

ক্ষুদ্র শিল্পে বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা ৪২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৬৬ পয়সা করা হয়েছে। অনাবাসিক (দাতব্য, মসজিদ, মন্দির, ক্লাব ইত্যাদি) বিদ্যুতের মূল্য ৪ টাকা ৯৮ পয়সা ও ৫ টাকা ২২ পয়সা এবং রাস্তার বাতির জন্য ৬ টাকা ৯৩ পয়সা থেকে বৃদ্ধি করে ৭ টাকা ১৭ পয়সা করা হয়েছে।

এছাড়া বাণিজ্যিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিদ্যুতে দাম ইউনিট প্রতি ৯ টাকা ৫৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯ টাকা ৮০ পয়সা করা হয়েছে। বৃহৎ শিল্পে ১১ কিলোভোল্টের ক্ষেত্রে ৭ টাকা ৩২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৫৭ পয়সা, ৩২ কিলোভোল্টের ৬ টাকা ৯৬ পয়সা থেকে ৭ টাকা ৩৫ পয়সা এবং ৩৩ কিলোভোল্টের জন্য ৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪৯ পয়সা করা হয়েছে।