দীর্ঘদিন বাঁচার রহস্য উন্মোচন

প্রকাশিত

ডেস্ক প্রতিবেদন : `মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।’ রবি ঠাকুরের মতো হয়তো এ বসুধা ছেড়ে কেউই যেতে চান না ওপারে। স্পেনের নাগরিক হুয়ান পন্স ডি লিওনও বেশি দিন বেঁচে থাকার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টায় মত্ত ছিলেন। কিন্তু রহস্য উন্মোচনে তিনি সক্ষম না হলেও তার মৃত্যুর ৫০০ বছর পর অবশেষে মানুষের ‘যৌবনের ঝর্ণাধারা’র সন্ধান মিলল।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দিন বেঁচে থাকা এক নারীর শ্বেত কণিকা (রক্ত) পরীক্ষা করে মানুষের দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার গোপন রহস্য উন্মোচন করেছেন বিজ্ঞানীরা।

নেদারল্যান্ডসের বাসিন্দা বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক নারী হেন্ড্রিকজে ভ্যান অ্যান্ডেল স্কিপারের রক্ত ও টিস্যুর নমুনা নিয়ে বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আবিষ্কার করেন যে, রক্তের স্টেম সেলের (কোষ) ক্ষয়ের কারণে মানুষ বৃদ্ধ হন এবং মারা যান।

গবেষকরা জানান, স্টেম সেল মানব শরীরের একটি অপরিহার্য কাঁচামাল, যা ভেঙে গিয়ে নতুন কোষ তৈরি করে। নতুন কোষগুলো স্টেম সেল অথবা বিশেষ কোষে পরিণত হয় এবং এগুলোর কিছু নির্দিষ্ট কার্যপ্রণালী থাকে। যেমন, মস্তিষ্ক কোষ বা রক্ত কোষ। শুধুমাত্র স্টেম কোষগুলোই প্রাকৃতিকভাবে নতুন ধরনের কোষ তৈরি করতে পারে। অ্যান্ডেল স্কিপার ১৮৯০ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং ২০০৫ সালে মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি বেশ সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সুস্থ দেহ ও মনের অধিকারী ছিলেন।

পরবর্তীতে মৃত্যুর পর তার ইচ্ছানুযায়ী দেহ গবেষণাগারে দান করা হয়। তার শরীর থেকে রক্ত ও টিস্যুর নমুনা নিয়ে বয়স এবং শরীরের সম্পর্কের বিষয়ে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করেন। তার দেহ কোষের নমুনাগুলো নিয়ে গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা জানতে পারেন, স্টেম সেলের ধারণ ক্ষমতাই মানুষের জীবনের সময়কাল নিয়ন্ত্রণ করে।

স্টেম সেল একসময় মারা যায়, এবং তখন সে নিজের জায়গা পূরণ করতে পারে না। ফলে টিস্যুর পুনঃস্থাপন কোনোভাবেই সম্ভব হয় না। বার্ধক্যের সময় মানুষের বেঁচে থাকা কোষগুলো প্রাকৃতিকভাবেই খুব তাড়াতাড়ি মরে যেতে থাকে। অ্যান্ডেল স্কিপারের জীবনের শেষ সময়ে মাত্র দুটি স্টেম সেল থেকে তার রক্তে অবশিষ্ট দুই-তৃতীয়াংশ শ্বেত রক্তকণিকা উৎপন্ন হচ্ছিল।

গবেষণা থেকে আরো পাওয়া যায়, প্রতিবার কোষ বিভাজনের সময় ক্রোমোসোমগুলোকে তার শ্বেত রক্তকণিকা পুড়িয়ে ফেলত এবং এটি প্রতিরক্ষামূলক ছিল। সক্রিয় স্টেম কোষগুলো তাদের জীবদ্দশায় সংকুচিত হতে থাকে এবং তাদের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত টেলোমারগুলো ছোট হতে শুরু করে। এই প্রক্রিয়াটি স্টেম সেলের ক্ষয় নামে পরিচিত।

অ্যান্ডেল স্কিপারের রক্ত নিয়ে গবেষণাকারী বিজ্ঞানী হেনে হোলস্টেগ বলেন, ‘কারণটা যখন জেনেই গেছি, হয়তো বা কোনো একদিন আমরা মৃত্যুকে জয় করতে পারি।’ তার বিশ্বাস রক্তে স্টেম কোষ পুনরায় ইনজেকশনের মাধ্যমে নিয়ে তারুণ্য লাভ করা সম্ভব। তিনি বলেন, ‘আমি যদি এখন একটি নমুনা নিই এবং সেটি আমার বার্ধক্যের সময় ব্যবহার করি তাহলে আমার রক্তে আবার দীর্ঘ টেলোমার পাব এবং এটি শুধুমাত্র রক্তের মাধ্যমেই সম্ভব, কোনো টিস্যুর মাধ্যমে নয়।’

শেয়ার করুন