দুই বিদেশি হত্যাকাণ্ড: রহস্য উদঘাটনের দ্বারপ্রান্তে গোয়েন্দারা

প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদক : দুই বিদেশি হত্যাকাণ্ডের রহস্য শিগগিরই উদঘাটিত হবে বলে আশা করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তারা জানান, কয়েকদিনের মধ্যেই এ দুটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে। এরইমধ্যে কুনিও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতারকৃত দু’জন পুলিশের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তাভেল্লা সিজার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চারজনকে শনাক্ত করে তাদের গতিবিধি নিবিড় নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তাদেরও শিগগিরই গণমাধ্যমের সামনে হাজির করা হবে বলে জানান তদন্ত সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দারা।

সূত্র জানায়, জাপানি নাগরিক ওসি কুনিও হত্যার ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তাসহ নয়জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তাদের মধ্যে দুজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে অন্যদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন রংপুর মহানগর বিএনপি’র নেতা রাশেদুন্নবী খান বিপ্লব ও নিহত কুনিও’র ব্যবসায়িক অংশীদার হুমায়ুন কবীর হিরা। তাদের প্রত্যেককে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়েছিল পুলিশ। চারদিনের মাথায় বিএনপি নেতা বিপ্লবকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মামুন আহাম্মেদ। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বিপ্লবের রিমান্ড বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

হীরার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রবিবার ঘটনাস্থল থেকে একটি বুলেটের খোসা উদ্ধার করে পুলিশ। ব্যালিস্টিক রিপোর্টের জন্য সেই বুলেটটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদর দফতর রাজধানীর মালিবাগে পাঠাচ্ছে স্থানীয় পুলিশ।

পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি হুমায়ুন কবির বলেন, এ মামলার তদন্তে অনেক অগ্রগতি আছে।  শিগগিরই এ হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা সম্ভব হবে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এ পর্যন্ত ২০-২২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তারা চূড়ান্তভাবে চারজনকে সন্দেহের তালিকায় রেখেছেন। তাদের গতিবিধিও নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আরও নিশ্চিত হয়ে তাদের গ্রেফতার করে সবাইকে জানানো হবে। হত্যা রহস্যও তখন জানা যাবে।

দু’টি হত্যাকাণ্ডই একই সুতোয় গাঁথা বলে মোটামুটি নিশ্চিত হয়েছেন গোয়েন্দারা। বিদেশি হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সরকার ও দেশকে বিশ্ব দরবারে হেয় প্রতিপন্ন করাই তাদের মূল লক্ষ্য। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সব রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে জানান তারা। তথ্য-প্রযুক্তি (আইসিটি) মন্ত্রণালয়ের সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মকর্তাদেরও সহায়তা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান গোয়েন্দারা।

তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মাহফুজুল ইসলাম বলেন, নিরন্তর তারা তদন্তের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তারা আশাবাদী।

তদন্তে সহায়তার বিষয়ে সিআইডি’র বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল হায়দার বলেন, খুনিদের গ্রেফতার ও দুই বিদেশি হত্যাকাণ্ডের রহস্য বের করতে তাদের লোকজন মাঠে কাজ করছে। তারা আশাবাদী, এ সব হত্যাকাণ্ডের রহস্য শিগগিরই খুঁজে পাবেন তারা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই দুই বিদেশি হত্যাকাণ্ডের রহস্য জনগণের সামনে তুলে ধরা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, এ দুটি হত্যাকাণ্ডই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। যারা দেশের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি চায় না, জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন, তারাই এ সব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।

বাংলাদেশে আইএস-এর কোনও কানেকশন নেই জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, যারা এদেশে জঙ্গি তৎপরতা চালায়, তারাই আইএস ও আল-কায়েদার নাম  করে দেশে এসব অপকর্ম করার চেষ্টা করে। তিনি বলেন, যারা জেএমবি, তারাই আনসারুল্লাহ, তারাই হুজি, তারাই আইএস ও আল-কায়েদার পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করে। তিনি আরও বলেন, দুই বিদেশি হত্যাকাণ্ডেও আইএস-এর কোনও সংশ্লিষ্টতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খুঁজে পায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দাদের তৎপরতার কারণে এসব জঙ্গি এ দেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারেনি। পারবেও না।

উল্লেখ্য, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সোয়া ৬টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে গুলশান-২ নম্বরের ৯০ নম্বর রোডের মাথায় গভর্ণর হাউজের দক্ষিনের দেওয়াল ঘেঁষা ফুটপাতে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তিনি নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আইসিসিও নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রুফ (প্রফিটেবল অপরচুনিটিজ ফর ফুড সিকিউরিটি) কর্মসূচির প্রকল্প ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় গত ৩ অক্টোবর রংপুর সদরের আলুটারী গ্রামে একই কায়দায় জাপানের নাগরিক ওসি কোনিওকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

শেয়ার করুন