‘নতুন স্কেলে শিক্ষকরা দুই ধাপ নিচে’ বুঝতে মন্ত্রী হবার দরকার নেই

প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকারের নতুন পে স্কেলে সিলেকশন গ্রেড তুলে দেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বেতন কয়েক ধাপ নিচে নামানোর প্রতিবাদে শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনকে ‘জ্ঞানের অভাব’ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। এছাড়া শিক্ষকদের দুর্নীতি নিয়েও মন্তব্য করেছেন তিনি।

তাঁর এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সাঈদ ফেরদৌস বলেছেন, “অর্থমন্ত্রী জ্ঞানী মানুষ, যা বলেছেন নিশ্চয়-ই দায়িত্ব নিয়েই বলেছেন; তবে ঘোষিত নতুন গ্রেডে যে শিক্ষকদের দুইধাপ নামিয়ে দেয়া হয়েছে, এটা বোঝার জন্য মন্ত্রীও হবার দরকার নাই, শিক্ষকও হবার দরকার নাই।

আর শিক্ষকদের পদোন্নতির নীতিমালা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন, আমি মনে করি মন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং একজন নাগরিক হিসেবে যে কোনো পাবলিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে কথা তিনি বলতেই পারেন। কিন্তু সেখানেও কথা আছে। যখন বেতন স্কেল নিয়ে দাবি-দাওয়া তখন এই প্রসঙ্গ তোলার মানে কি?

শিক্ষকদের অদক্ষতা দুর্নীতি নিয়ে কথা নিশ্চয়-ই হবে কিন্তু  তাহলে সামরিক-বেসামরিক আমলাদের বেতন বাড়াবার আগে তাদের দুর্নীতি অদক্ষতা নিয়েও কথা হোক! মন্ত্রীকে তো আমরা সেটা বলতে শুনলাম না। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান রাগ দেখাতে পারে না, রাগ দেখালে সমাধানের পথ খুলবে না।”

দর্শন বিভাগের শিক্ষক রায়হান রাইন বলেন, “অর্থমন্ত্রীর যা বলছেন, যেভাবে বলছেন তাতে ধমক আছে, বিদ্বেষ আছে। যা আমরা মানতে পারছি না। বেতনকাঠামোতে শিক্ষকদেরকে যে কয়েক ধাপ নিচে নামিয়ে দেয়া হয়েছে তাতে তো মিথ্যা নেই। এটা বুঝতে জ্ঞানের অভাব হয় না।

এছাড়া তিনি যে ‘করাপ্ট প্রাকটিসে’র কথা বলেছেন, তা থাকলে সেটা দূর করা যেতে পারে, কিন্তু এ কারণ দেখিয়ে গোটা শিক্ষক সমাজকে বঞ্চিত করা অযৌক্তিক।এটাও দেখা দরকার যে, শিক্ষক সমাজের দুর্নীতির সংগে শিক্ষক সমাজের বাইরের যোগাযোগ কতোটা। আমরা অবশ্যই উচ্চশিক্ষাক্ষেত্র থেকে দুর্নীতির অবসান চাই। কিন্তু এটা হতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনকে অক্ষুণ্ন রেখে। এক্ষেত্রে সরকারের নিয়ন্ত্রণ কোনো শুভফল বয়ে আনবে না।

অর্থমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টাফদের যে নিয়ন্ত্রণের কথা বলছেন, তার সঙ্গে বেতনকাঠামোর কোনো সম্পর্ক নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষক যে দুর্নীতিগ্রস্ত সেটাও নয়। তাহলে বেতনকাঠামোর প্রশ্নে এ কথার অর্থ কী?”

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফেডারেশন নেতারা বলেছেন, শিক্ষক ও শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে জ্ঞানের অভাবের কারণেই তিনি এরূপ দায়িত্বহীন মন্তব্য করেছেন বলে মনে করেন শিক্ষকেরা। তাঁরা অর্থমন্ত্রীর কাছ থেকে সুবিচার পাবেন বলে মনে করেন না।

মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের এক বিবৃতিতে শিক্ষক নেতারা এ মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে সই করেছেন ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও মহাসচিব অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা পরিতাপের সঙ্গে লক্ষ করেছি যে, মাননীয় অর্থমন্ত্রী আজ সংবাদমাধ্যমে শিক্ষকদের বিষয়ে কিছু বিরূপ মন্তব্য করেছেন। যা শুধু অনভিপ্রেতই নয় অসংলগ্নও বটে। মাননীয় অর্থমন্ত্রী অতীতে অন্যদের ক্ষেত্রেও বিরূপ মন্তব্য করেছেন। এসবের মাধ্যমে তিনি জাতির কাছে নিজেকে ইতিমধ্যে হাস্যকর করে তুলেছেন।

শেয়ার করুন