পাবনায় ৩ গরু ব্যবসায়িকে পিটিয়ে হত্যা

পাবনা প্রতিনিধি : পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার চতুরহাট মোড়ে ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে ৩ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার চতুর হাটের কাঠপট্টিতে এ ঘটনা ঘটে। তবে স্থানীয়রা বলছেন স্কুল ছাত্র-ছাত্রীদের অপহরণকারী সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত তিনজন আসলে গরু ব্যবসায়ি। অভ্যন্তরীন কোন্দলের জের ধরে অপহরণের নাটক সাজিয়ে পরিকল্পিতভাবে ওই তিন গরু ব্যবসায়ীকে প্রতিপক্ষের লোকজন পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

নিহতরা হচ্ছেন নাটোর সদর থানার লক্ষীপুর ইউনিয়নের খোলাবাড়িয়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন (৫০), দিনাজপুর সদর থানার পশ্চিম শিবরামপুর গ্রামের আসলাম (৫০) ও পাবনা সদর থানার গাছপাড়া গ্রামের আবু বক্কার (৫২)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেলা ১২টার দিকে নগরবাড়ী থেকে ছেড়ে আসা বগুড়াগামী অলিফ পরিবহন নামে একটি যাত্রীবাহী গাড়ি বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কের সাঁথিয়া উপজেলার করমজা চতুর হাট নামক স্থানে এসে থামে। ওই গাড়িতে থাকা কয়েকজন দুর্বৃত্ত ওই তিন গরু ব্যবসায়িকে জোর করে গাড়ি থেকে নামায়। এরপর দুর্বৃত্তরা প্রতিভা বিপনন কেন্দ্র নামে একটি দোকানের কাছে নিয়ে অপহরণকারী বলে চিৎকার করে বেধরক পেটাতে শুরু করে। অপহরণকারীর কথা শুনে তাদের চিৎকারে হাটের লোকজন উৎসাহী হয়ে গণপিটুনীতে যোগ দেয়। এতে বেধরক গণপিটুনিতে এক পর্যায়ে ওই তিন গরু ব্যবসায়ি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

করমজা চতুর হাটের কাঠ ব্যবসায়ি আ. রাজ্জাক জানান, ‘কয়েক ব্যক্তি ওই তিন গরু ব্যবসায়িকে কলার চেপে ধরে ঘটনাস্থলে এনে অপহরণকারী বলে পেটাতে থাকে।’ ঘটনাস্থলে থাকা প্রতিভা বিপণনের মালিক রাজন জানান, ‘আমার দোকানের সামনে তিন ব্যক্তিকে গণপিটুনি দেয়া দেখে দোকান বন্ধ করে চলে যাই।’ প্রত্যক্ষদর্শী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) এক ব্যক্তি জানান, ‘অলিফ পরিবহন থেকে কতিপয় দুর্বৃত্ত ওই তিনজনকে জোর করে নামিয়ে হাটের মধ্যে নিয়ে যায়।’ একটি সূত্র জানায়, গরু ব্যবসায়ীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে।’

এর আগে গত ২১আগষ্ট শুক্রবার বেড়া উপজেলার সান্যালপাড়া গ্রাম থেকে আরাফাত নামের এক শিশু অপহৃত হয়ে এক দিন পর উদ্ধার হয়। বেড়া আলহেরা একাডেমির ৪র্থ শ্রেণির এক ছাত্র গতকাল মঙ্গলবার বাড়ি থেকে রওয়ানা হয়েও স্কুলে না আসায় বিকেলে তাদের অভিভাবক মাইকিং করে সন্ধ্যায়ই আত্নীয়বাড়ি থেকে খুজে পায়। এসব ঘটনায় ও নানারকম গুজব ছড়িয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে বেড়া-সাঁথিয়া এলাকায় চলছিল ছেলেধরা আতঙ্ক। চলমান গুজবকে ওই দুবৃর্ত্তরা এ হত্যাকাণ্ডে কাজে লাগায়। আতংক ও গুজবের জের ধরেই স্থানীয় জনতা গনপিটুনিতে বাধা না দিয়ে তাতে নিজেরাও অংশ নেয় বলে পুলিশের ধারণা।

খবর পেয়ে সাঁথিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পাবনার পুলিশ সুপার আলমগীর কবির ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান, ‘ছেলে ধরা সন্দেহে তাদের পিটিয়ে হত্যা করা হলেও এর পিছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। যা অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে বেরিয়ে আসবে। সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সাঁথিয়া থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছিল।’

এদিকে স্থানীয়রা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে সাঁথিয়া-বেড়া এলাকায় ছেলেধরা আতঙ্ক চলছে। সাঁথিয়ার প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক আফসার আলী জানান, “গত সোমবার তার স্কুলের ছাত্র- ছাত্রীরা তার কাছে ছেলেধরা আতঙ্কের কথা জানায়। কয়েকজন অভিভাবক বিদ্যালয়ে এসে জানান, পাশ্ববর্তী সুজানগর থানার শান্তিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছেলে ধরারা এক বাচ্চাকে ধরে নিয়ে গেছে। সেখানে খোঁজ নিয়ে দেখি সেটা ছিল গুজব।”

এ ব্যাপারে সাঁথিয়ার সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল মান্নান জানান, ‘সাঁথিয়ার কোনো স্কুল থেকে শিশু অপহৃত হয়নি।’ তিনি গুজবে কান না দিতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।