ফেসবুকে একটা ছবি! বদলে গেল হরেন্দ্র-র জীবন

প্রকাশিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফেসবুকে একটা ছবি আপলোড করা হয়েছিল। আর তাতেই পালটে গেল জীবনটা। ফুটপাথের জীবন থেকে মুক্তি পেল ১৩ বছরের হরেন্দ্র সিং চৌহান। একাদশ শ্রেণির এই ছাত্রকে এখন আর ভিক্ষা করে পড়াশুনা করতে হবে না।

বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই নয়ডা স্টেশনে দেখা যাচ্ছিল তাকে। সামনে একটা ওজন মাপার মেশিন। তবে আর পাঁচটা ফুটপাথের ভিখারির থেকে হরেন্দ্রর ছবিটা একটু আলাদা। এই ছেলে শুধুই বসে টাকা চায় না। সেইসঙ্গে, হোমওয়ার্কও করে। মেট্রোতে থেকে নেমে একদিন এক মহিলার চোখে পড়ে সেই দৃশ্য। তাঁকে ছুঁয়ে যায় হরেন্দ্র-র গল্প। জানতে পারেন এভাবেই টাকা রোজগার করে পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছে সে। একটা ছোট্ট ঘরে থাকে তার পরিবারের পাঁচ সদস্য। ঘটনাটা জানতে পেরেই হরেন্দ্র-র ছবি ফেসবুকে দেন তিনি।

নয়ডার শ্রীকৃষ্ণ কলেজে পড়াশোনা করে হরেন্দ্র সিং চৌহান। ফেসবুকে ছবিটি পড়তেই হু হু করে শেয়ার হতে থাকে ওয়ালে ওয়ালে। কিশোরের অদম্য ইচ্ছার গল্প নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন অনেকেই। বহু পরিবারের তরফ থেকে তাকে সাহায্য করার আশ্বাসও মিলেছে।

দু’দিন আগে সমাজবাদী পার্টির নয়ডা ইউথ ব্রিগেডের প্রেসিডেন্ট আশ্রয় গুপ্তার চোখে পড়ে বিষয়টি। তিনি হরেন্দ্রকে মেট্রো স্টেশনে বসতে বারণ করেছেন। ফান্ড পাঠানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

টাইমস অফ ইন্ডিয়া পত্রিকাকে হরেন্দ্র জানিয়েছে, ২০১৩ সালে চাকরি চলে যায় তার বাবার। এরপর একটি ওজন মেশিন কেনে সে৷ এরপর থেকে এটাই ছিল তাদের পরিবারের রোজগারের উপায়। গত জুন মাসে তার বাবা-মা গ্রামের বাড়িতে যায়। কিন্তু, প্রজেক্ট শেষ করার জন্য কিছু কাগজ কিনতে হত তাকে। তার জন্য টাকা জোগাড় করতেই এই প্রচেষ্টা হরেন্দ্রর। কিন্তু, সময় নষ্ট করা যাবে না। তাই স্টেশনে বসেই প্রজেক্ট শেষ করতে হচ্ছিল। প্রায় ২০০ টাকা এভাবেই জমিয়ে ফেলেছিল সে। তার বাবার পোলিও আছে। আরও দুই ভাই রয়েছে তার। ক্লাসে প্রথম তিনের মধ্যে নাম থাকে তার। অঙ্ক তার প্রিয় বিষয়। একদিন আর্মি অফিসার হওয়ার স্বপ্ন চোখে নিয়ে লড়ে যাচ্ছে ১৩ বছরের হরেন্দ্র। টাকা নেই। তাই বলে স্বপ্ন ছাড়তে রাজি নয় সে। এটাই সে শিখেছে তার বাবা-মায়ের কাছ থেকে।

শেয়ার করুন