বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন: আসক

ডেস্ক প্রতিবেদন : বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে উদ্বেগ জানিয়েছে আইনও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। আইনশৃঙ্খলার অবনতি সামলাতে সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের আশ্রয় নিচ্ছে বলেও অভিযোগ করে সংগঠনটি।

আজ (বুধবার) মানবাধিকার সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগের কথা জানান।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এ ধরনের পদক্ষেপ সন্ত্রাসীদের মদদদানকারী ক্ষমতাবানদের রক্ষার প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হয়।’ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আইনানুগভাবে  সে ব্যবস্থা করতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় মানবাধিকার সংগঠনটি।

বিবৃতিতে আইনও সালিশ কেন্দ্র জানিয়েছে, ‘সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কথায় এবং আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর কাজে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।’

আইনও সালিশ কেন্দ্র বলে, ‘অপরাধী দলের হলেও কোনো ছাড় না দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত অবশ্যই ইতিবাচক। কিন্তু সে কঠোরতা যদি অপরাধীদের আটকের মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শাস্তি প্রদান না করে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হয়, তাহলে তা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কোনো ভূমিকা রাখবে না।’

এর আগে গত সোমবার রাতে মাগুরায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন ‘গর্ভের শিশুকে গুলি’র মামলার আসামি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আজিবর শেখ। তার মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মাগুরা জেলা হিউমেন রাইটস অ্যান্ড লিগ্যাল এইড অর্গানাইজেশন।

মঙ্গলবার রাতে কুষ্টিয়ায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন জাতীয় শোক দিবসে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার মামলার আসামি জাকির হোসেন। এর আগে সোমবার রাতে ঢাকায় র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যার আসামি হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আরজু মিয়া।

পরে বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে ‘বন্দুকযুদ্ধের নামে আরজুকে হত্যা র‌্যাব হত্যা করেছে’ বলে দাবি করে হাজারীবাগের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা।

বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাগুলোর তদন্ত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়ী সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশকে আহ্বান জানিয়ে আসছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো।