বিদায় সাঙ্গাকারা!

ক্রীড়া ডেস্ক : বিদায় কতই না করুণ! কেউ না চাইলেও নিয়ম মেনে বিদায় নিতে হবেই। সে বিদায়টাই নিয়ে নিলেন ক্ষণজন্মা, অসাধারণ এক ক্রিকেটার কুমার সাঙ্গাকারা। কলম্বো টেস্টের চতুর্থ দিনের খেলার বাকি খুব বেশি ছিল না (১৮ ওভার)। আরেকটু দেখে-শুনে খেললে হয়তো আরও একটা দিন সাদা পোষাকের সাঙ্গাকারাকে বাইশ গজে দেখতে পেতেন ভক্ত-দর্শকরা।

কিন্তু অতীত হয়ে গেলেন কুমার সাঙ্গাকারা। খেলে ফেললেন জীবনের শেষ টেস্ট ইনিংসটি। আজ কলম্বোর পি সারা ওভালে শেষবারের মতো খেলোয়াড় হিসেবে আবির্ভূত হলেন আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান। রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে স্লিপে মুরলি বিজয়ের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়েই সাজঘরের পথে হাঁটলেন সাঙ্গা।

রঙ্গিন পোষাক তো সেই বিশ্বকাপের পরই তুলে রেখেছিলেন। এবার সাদা পোষাককেও বিদায় জানিয়ে দিলেন। চিরতরে তুলে রাখলেন ব্যাট-প্যাড। বিদায় সাঙ্গারা!! বিদায়!!

sanga2আউট হওয়ার পর উল্লাস থামিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটাররা সবাই একে বিদায় সম্ভাষণ জানালেন এই গ্রেট ক্রিকেটারকে।

সাঙ্গা যখন হেঁটে যাচ্ছিলেন সাজঘরের দিকে, পুরো পি সারা ওভাল তখন আবেগমথিত। অনেকের চোখেই জল। সনি সিক্সের ক্যামেরা ঠিক সেই সময়ই ধরল প্যাভিলিয়নে বসে থাকা সাঙ্গাকারার স্ত্রী ইয়েহালিকে। রোদ চশমার নিচে হাত দিয়ে তিনি তখন ব্যস্ত চোখের জল মুছতে।

পনেরো বছরের ব্যস্ত ক্যারিয়ার শেষ সাঙ্গাকারা এখন একান্তই তাঁর। ইয়েহালির তো খুশি হওয়ার কথা। কিন্তু কী আশ্চর্য, তিনি কাঁদছেন। ক্রিকেট মাঠের বাইরে স্বামীকে দেখাটা যে তাঁর জন্যও যথেষ্ট কষ্টের।

তিনি যে মাপের ক্রিকেটার ছিলেন, সে অনুযায়ী প্রচারের আলো তিনি পাননি। কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে গতকাল তো এ কথা লিখেই দেওয়া হয়েছে। আক্ষেপ করে বলা হয়েছে, সাঙ্গাকারা যদি আরও একটু উত্তরে জন্মাতেন তাহলে তাঁর ক্যারিয়ারটাই হতো অন্যরকম। শচীন টেন্ডুলকারের বিদায়-লগ্নের সঙ্গে তুলনীয় হয়েছে তাঁর বিদায়।

২০০০ সালে গলে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অভিষেক সাঙ্গাকারার। এর মাঝে খেলেছেন ১৩৪টি টেস্ট। ২৩৩ ইনিংসে রান করেছেন ১২ হাজার ৪০০। সেঞ্চুরি ৩৮টি। হাফ সেঞ্চুরি করেছেন, ৫২ টি। সর্বোচ্চ ৩১৯ রান। গড় ৫৭.৪০ করে। একই মাঠে একই সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক। এরপর খেলেছেন মোট ৪০৪টি ওয়ানডে। ৩৮০ ইনিংসে রান করেছেন ১৪ হাজার ২৩৪ রান। সর্বোচ্চ ১৬৯। সেঞ্চুরি: ২৫টি। হাফ সেঞ্চুরি: ৯৩টি। গড়: ৪১.৯৮ করে।