বিপ্লবী লীলা নাগ

প্রকাশিত

রোমানা আক্তার : বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের অগ্নিকন্যাখ্যাত নেত্রী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী, প্রথম ‍স্নাতোকোত্তর ডিগ্রিধারীও তিনি। উপমহাদেশের প্রথম বাঙালি নারী সাংবাদিক। জয়শ্রী পত্রিকার সম্পাদক। নারী জাগরণের কিংবদন্তি। একজন চিত্রশিল্পী ও সংগীতশিল্পী হিসেবেও যার খ্যাতি আছে। প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার এর মতো বিপ্লবীর অনুপ্রেরণা ছিলেন তিনি। এই বিপ্লবী নারীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। অন্তত এসব দিনেও তাকে আমরা স্মরণ করিনা। দেশে নারীবাদী, প্রগতিশীল বিপ্লবী অনেক সংঘঠন আছে তাদেরও তোন নড়াচড়া দেখিনা। যদিও এসবে তাঁর কিছু যায়- আসেনা। তিনিতো ইতিহাসে অমর হয়েই আছেন।

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁওয়ে লীলা নাগের পৈত্রিক বাড়িটি বেহাত হয়েছে অনেক দিন। পাঁচগাঁও গণহত্যার মূলহোতা, মানবতা বিরোধী অপরাধ মামলার অন্যতম আসামী প্রয়াত আলাউদ্দিন রাজাকারের পর তার বংশধররা এখন বাড়িটি ভোগদখল করছেন। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিবহনকারী ঐতিহাসিক ঘরটি এখন জীর্ণ। ভেঙে পড়বে যেকোনো মুহুর্তে। তার সাথেই শেষ হবে উজ্জ্বল এক অধ্যায়ের।

অশিক্ষার অন্ধকার থেকে নারীদের মুক্তির লক্ষ্যে বারোজন সংগ্রামী সাথী নিয়ে তিনি গড়েন ‘দীপালি সংঘ’। এই সংঘের মাধ্যমে দীপালি স্কুলসহ বারোটি ফ্রি প্রাইমারি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। দীপালি-১ স্কুল (বর্তমানে কামরুন্নেসা গার্লস স্কুল) ঢাকার আরমানীটোলা বালিকা বিদ্যালয়, নারীশিক্ষা মন্দির (বর্তমানে শেরে বাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয়) শিক্ষাভবন নামে পরিচিত অন্য দুটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন লীলা নাগ। মুসলিম নারীদের শিক্ষাবিস্তারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। দেশভাগের পর কলকাতায় গিয়েও গড়েছেন অনেক প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশে এই মহিয়সী নারীর নামে কোনো প্রতিষ্ঠান— তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ আছে কি না জানা নেই।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী, যিনি ১৯২৩ সালে ইংরেজি বিষয়ে এম এ করেছিলেন। পরে সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে অংশ নেন। তাঁর নেতৃত্বে তৈরি হয় ভারতে প্রথম মহিলা বিপ্লবী সংগঠন দীপালি সংঘ। এই সংগঠনই আবার নারী শিক্ষায় এগিয়ে আসে।

১৯৩৯ সালে বিপ্লবী অমিত রায়কে বিয়ে করেন লীলা নাগ। এর আগেই তিনি সুভাষচন্দ্র বসুর অনুগামী হন। যোগ দেন ফরওয়ার্ড ব্লকে। বিপ্লবী জীবনে কারাবরণ করেছিলেন তিনি। অসম সাহসী লীলা নাগ ভয়াবহ নোয়াখালী গোষ্ঠী সংঘর্ষের সময় গান্ধীজির পাশে দাঁড়িয়ে শান্তি মিছিল করেন।

১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর কলকতায় চলে যান লীলাদেবী। জড়িয়ে পড়েন ভারতের বাম আন্দোলনের সঙ্গে। ১৯৫৯ সালে বিখ্যাত খাদ্য আন্দোলনেও অংশ নেন। ভারতের ধর্ম নিরপেক্ষ সংবিধান তৈরির খসড়া কমিটিতেও ছিলেন তিনি।১৯৭০ সালের ১১ জুন তাঁর প্রয়াণ হয়।

শেয়ার করুন