বৃহস্পতিবার শাবিতে শিক্ষকদের প্রতীকী অনশন

প্রকাশিত

সিলেট প্রতিনিধি : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমিনুল হক ভূঁইয়াকে অপসারণ ও ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করবে আন্দোলনরত মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক ফোরাম। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে।

এদিকে, কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় বুধবারও তারা ক্যাম্পাসে কালো ব্যাজ ধারণ করে র‌্যালি, কর্মবিরতি ও সমাবেশ করেছেন।

শাবি সূত্র জানায়, পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে কর্মসূচি পালন শুরু করেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। তারা ক্যাম্পাসে একটি র‌্যালি বের করেন। র‌্যালি-পরবর্তী সমাবেশে  ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক সৈয়দ সামসুল আলম, অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুছ, অধ্যাপক ইয়াসমিন হক, অধ্যাপক আব্দুল গণি ও অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলামসহ অর্ধ-শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, উপাচার্যকে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যেতে হবে। তারা উপাচার্যকে সরিয়ে নিতে সরকারকে উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, উপাচার্যকে অপসারণ করা না হলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।

সমাবেশে ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক সৈয়দ সামসুল আলমের সভাপতিত্ব করেন। শাবির শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ফারুক উদ্দিনের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক মস্তাবুর রহমান, অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম, অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুছ, অধ্যাপক আব্দুল গণি, অধ্যাপক সৈয়দ হাসানুজ্জামান ও সহকারী অধ্যাপক এমদাদুল হক প্রমুখ।

উপাচার্য আমিনুল হকের বিরুদ্ধে অসদাচরণ, দুর্নীতি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে গত ১৩ এপ্রিল থেকে আন্দোলন শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক ফোরাম। পরে ভিসির প্রত্যাহারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৭টি পদ থেকে লেখক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ ৩৫ জন শিক্ষক একযোগে পদত্যাগ করেন।

তবে গত ২৩ এপ্রিল ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ভিসি দুই মাসের ছুটিতে গেলে তাদের আন্দোলন কিছুটা স্থবির হয়ে পড়ে। গ্রীষ্মের ছুটি শেষে গত ১৮ জুন আবার আন্দোলন শুরু করেন এ ফোরামের শিক্ষকরা।

এরপর গত ২২ জুন ভিসি ক্যাম্পাসে এলে ভিসি ভবনে তালা দিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। এমনকি নানা অভিযোগে ভিসির বিরুদ্ধে ২৫ জুন শ্বেতপত্র প্রকাশ করে আন্দোলনকারী শিক্ষকেরা।

গত ২৩ জুলাই শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ’ ফোরামের শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রায় ৩ ঘণ্টা আলোচনা শেষে মন্ত্রীর অনুরোধে আন্দোলনরত শিক্ষকরা আন্দোলন স্থগিত করেন।

তবে উপাচার্য যতদিন পর্যন্ত পদত্যাগ না করবে ততদিন আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ। পরে ৩০ আগস্ট আন্দোলনরত শিক্ষকদের কর্মসূচিতে বাধা দেয় ছাত্রলীগ। এ ঘটনায় ব্যানার টানাটানিতে অধ্যাপক ইয়াসমিন হক সহ ৭জন শিক্ষক আহত হন।

শেয়ার করুন