মিয়ানমার সীমান্তে যৌথবাহিনীর অভিযান জোরদার

প্রকাশিত

বান্দরবান প্রতিনিধি : রাঙামাটির বিলাইছড়ি থেকে গাইডসহ তিন পর্যটককে অপহরণের ২০ দিনেও উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নিখোঁজ এসব পর্যটকের সন্ধানে বান্দরবানের রুমার মিয়ানমার সীমান্তঞ্চলে যৌথবাহিনীর অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে, অপহরণের ঘটনায় আটক পাঁচজনকে চাঁদাবাজির মামলায় আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তারা হলেন— প্রাচিংপাড়া কার্বারী প্রাচিং ম্রো, বড়তলী ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য অনুচন্দ্র ত্রিপুরা, রুমা বাজারের ব্যবসায়ী জয়পাল বড়ুয়া, স্থানীয় বাসিন্দা মেনচং ম্রো ও লারাম বম। আদালতের নির্দেশে বৃহস্পতিবার এ পাঁচজনকে কারাগারে পাঠানো হয়। পর্যটক অপহরণের পর ১৩ অক্টোবর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যৌথবাহিনী তাদের আটক করে।

রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম জানান, রুমা উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অপরাধে আটক পাঁচজনকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পর্যটক অপহরণের ঘটনায় যৌথবাহিনী তাদেরকে জিজ্ঞাসবাদ করেছে। এছাড়া অপহৃত দুই পর্যটকসহ তিনজনের খোঁজে সীমান্তবর্তী এলাকায় যৌথবাহিনীর অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

যৌথবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বান্দরবান ও রাঙামাটি জেলার সীমান্তবর্তী মিয়ানমার সীমান্তঞ্চলে যৌথবাহিনী সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযান জোরদারে হেলিকপ্টারে নতুন করে যৌথবাহিনীর আরও সদস্য পাঠানো হয়েছে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বান্দবানের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল অলিউর রহমান দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘নিখোঁজ পর্যটকদের উদ্ধারে যৌথবাহিনীর অভিযান চলছে। সেনাবাহিনী এই অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তারাই বিস্তারিত জানাতে পারবে। সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’

প্রসঙ্গত, গত ৪ অক্টোবর বান্দরবানের সীমান্তবর্তী রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার বড়তলী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী সিদ্ধুপাড়া থেকে অস্ত্রের মুখে সন্ত্রাসীরা পর্যটক জাকির হোসেন মুন্না (৩০), আব্দুল্লাহ আল জোবায়ের (৩২) ও স্থানীয় গাইড মাংসাই ম্রো (২৮) তিনজনকে অপহরণ করে।

পরে গত ১৮ অক্টোবর বান্দরবানের সীমান্তবর্তী সেপ্রুঝিড়ি এলাকায় যৌথবাহিনীর সঙ্গে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গোলাগুলিতে আনসারের গ্রাম পুলিশের সদস্য নেসং ম্রো (৩৮) নিহত হন। এ সময় সেনাবাহিনীর সৈনিক আবুল কাশেম ও আনসার সদস্য মো. হান্নান গুলিবিদ্ধ হন। আর গত ২২ অক্টোবর সীমান্তের সেপ্রুঝিড়ি এলাকায় থেকে জলপাই রঙের পোশাক পরিহিত গুলিবিদ্ধ অজ্ঞাত ব্যক্তির এক লাশ উদ্ধার করে যৌথবাহিনী।

শেয়ার করুন