আজ রোববার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২ | ১০ আশ্বিন, ১৪২৯

শিরোনাম

বাংলাদেশকে দেউলিয়ার হাত থেকে বাঁচাতে গেলে বেশি পরিমানে বিদেশি ঋন নিতে হবে। কিন্তু কেন?

প্রকাশিত: শনিবার, এপ্রিল ৯, ২০২২


বাংলাদেশকে দেউলিয়ার হাত থেকে বাঁচাতে গেলে বেশি পরিমানে বিদেশি ঋন নিতে হবে। কিন্তু কেন?

ওয়াসি মাহিন : ঋন শব্দটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভয়ঙ্কর নেতিবাচক শব্দ। এই শব্দটির সাথে যখন "ফাঁদ" শব্দটি যুক্ত হয় তখন এর ক্ষমতা এতটায় বেড়ে যায় যে শুধু কোন ব্যাক্তি নয় বরং একটি রাষ্ট্রকে ভীত করে দিতে পারে। সৃষ্টি করতে পারে বিশৃঙ্খলা। নিকট অতিতে দেউলিয়ার ইতিহাস ঘাটলে যেকটি দেশের নাম আসে তার ভেতর রয়েছে আর্জেন্টিনা, গ্রিস। সম্প্রতি দেউলিয়া হয়েছে লেবানন। ইতালিতেও ভয়ংকর সঙ্কট ছিল। আর দক্ষিণ এশিয়াতে দেউলিয়া শব্দটি বেশ ব্যাবহার হচ্ছে শ্রীলংকার ক্ষেত্রে। অনেকের মনেই প্রশ্ন আসছে একটা দেশ যখন দেউলিয়া হয়ে যায় তখন আসলে কি ঘটে দেশের? এসব বিষয়েই আজকের আলোচনা।

যখন প্রসঙ্গ বাংলাদেশ নিয়ে তখন ঋন নেয়ার কুফল বর্ণনা করতে বহুদেশের কোন ফি লাগেনা। বিনামূল্যে পরামর্শ চলে। ভারতের জনৈক কূটনীতিবিদ কিছুদিন আগেও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ঋনের কুফল বর্ণনা করে সতর্ক হবার পরামর্শ দিয়েছেন। পশ্চিমা দেশগুলিও পিছিয়ে নেই।
ঋন নিয়ে সাধারন মানুষকে ভীত করা যেমন সহজ, ঠিক তেমনি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যাবহার করাও খুব সহজ। বিশ্বাস না হলে রাজনৈতিক ব্যাবহারের কিছু উদাহরন দেয়া যাক।
প্রচুর মানুষ পাবেন, বিখ্যাত লেখক পাবেন, স্বনামধন্য মিডিয়া পাবেন, যেখানে বিভিন্ন লেখায় একটি কথা বার বার ব্যাবহার হয়। বাংলাদেশে একটি শিশু জন্ম নিলে শিশুটির ঘাড়ে নাকি ৩৯,০০০ টাকার ঋন (ডিসেম্বর ২০২১ পর্যন্ত হিসাব অনুসারে) থাকে। কথাটি এত সুন্দর ভাবে একটি শিশুকে সামনে এনে উপস্থাপন করে বলা হয় যেন কোন পাপ না করেই শিশুটিকে খেলাপী ঋনের জন্য জেলে যাওয়া লাগতে পারে। মজার বিষয় রয়েছে এখানে। যখন একটি শিশুর জন্মের সাথে ঋনের অঙ্কটি বলা হয় তখন কোন কলামিস্টের লেখায় পাশাপাশি উল্লেখ পাবেন না যে সেই নিষ্পাপ শিশুটির জন্মের সাথে সাথে তার নামে আয় ২,২২,১৫৮ টাকা (২৫৫৪ ডলার@৮৭বিডিটি) রয়েছে সেটি বলার। সুচিন্তিত ভাবে মানুষকে ভীত করার জন্য এবং রাজনৈতিক ব্যাবহারের উদ্দেশ্যেই এটা করা হয়। কেউ সচেতন মনে করেন। কেউ বা অবচেতন মনেই। বাস্তবতা হল, শিশুটি আয় ও করেনা, ঋন ও নেয়না। তাই সামগ্রিক অর্থনীতির সুচক গুলাকে এভাবে ব্যাবহার করা ঠিক না।
ঋনের ক্ষেত্রে সবাই যেমন দাবি করে আমার ঘাড়ে (একটি শিশুর ঘাড়ে) কেন এত টাকার ঋন থাকবে? আবার মাথা পিছু আয়ের ক্ষেত্রেও দাবি করে আমার টাকা কই গেল? সামস্টিক অর্থনীতির উপাত্তগুলিকে এভাবে ব্যাবহার করা যায় না সেকথা কেউ বলবে না। এখানে আবার আরেকটি ব্যাপার স্পষ্ট। ঋনের হিসাবের সংখ্যা সকলে নির্দ্বিধায় বিশ্বাস করলেও আয়ের হিসাবের ক্ষেত্রে কেউ বিন্দুমাত্র বিশ্বাস করেনা। এক্ষেত্রে শিক্ষিত অশিক্ষিত নির্বিশেষে প্রচুর মানুষের সাধারন বিশ্বাস এমন যে মাথাপিছু আয় ২,২২,১৫৮ টাকা হল মাসিক আয়। আর তখন হিসাব মেলানো শুরু হয় আমার টাকা কই গেলো। এটাকে ১২ দিয়ে ভাগ করে মাসিক আয় পড়ে ১৮৫০০ টাকা, আর ঋন পড়ে ৯২৮ টাকা।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ঋনের রাজনৈতিক ব্যাবহার বেশ পুরানো। ব্রেটন উড চুক্তির মাধ্যমে জন্ম নেয়া বিশ্ব ব্যাংক ও আইএমএফ এর সৃষ্টিলগ্ন থেকেই বিভিন্ন দেশে উন্নয়নের নামে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর ইতিহাস আছে। মূলত পশ্চিমা দেশগুলির এজেন্ডা বাস্তবায়নের বেশ সফল হাতিয়ার গুলির একটি হল ঋন। নিকট অতিতেও বাংলাদেশের বাজেট প্রণয়নের আগে অর্থমন্ত্রীদের প্যারিস সফর করা লেগেছে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ফোরামের মিটিং এ। উন্নত দেশগুলিকে বলা হয় দাতা দেশ। তাদের প্রতিশ্রুতির উপর নির্ভর করত বাজেটের অনেক কিছু। দরকষাকষি চলত তাদের কি কি নতুন শর্ত বাংলাদেশ মানবে অথবা মানবে না।
এই দাতা দেশের ক্লাবটির নাম প্যারিস ক্লাব। ২২ টি দেশ এর সদস্য। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, আস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান, সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্ক, নরওয়ে সহ মোট ২২ টি দেশের এলিট প্যারিস ক্লাবের দেশগুলি থেকেই গরীব দেশগুলি ঋন নিত। অনুন্নত ও সল্প উন্নত দেশগুলির বৈদেশিক সাহায্যের উৎস বলতেই বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ অথবা বৃহৎ দাতা দেশগুলি। এছাড়া আর কোন উপায় কারো হাতে ছিলনা। আর এই সুযোগেই বিভিন্ন ভাবে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো হয়েছে এসব দেশের উপর। বাংলাদেশকেও দেখতে হয়েছে অসংখ্য শর্ত। আদমজী পাটকল বন্ধ করে দাও, কৃষি ও বিদ্যুতে সাবসিডি তুলে নাও এরকম বিভিন্ন শর্তের বেড়াজালে আটকে অবশেষে অনেক শর্তই পরিপালন করতে হত।
কিন্তু সমস্যা হল, যখন এই প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা এলিট দাতা গোষ্ঠীর বিকল্প হিসাবে আরেকটি পক্ষ সামনে আসে। বিশেষ করে চীন। এছাড়া বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ এর মত দাতা প্রতিষ্ঠানের বিকল্প হিসাবে জন্ম হয়েছে AIIB, NDB। আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে AIIB এর জন্মের সময় ও পশ্চিমা সমালোচনা ছিল প্রবল। মূল সমস্যা হল, চীন যখন পশ্চিমা সফট পাওয়ার হিসাবে ব্যাবহার হওয়া ঋনের বিকল্প উৎস হয়ে উঠেছে তখন হঠাৎ করেই বিশ্ব মিডিয়ায় খুব ফলাও করে প্রচার চলছে চীনা ঋন ফাঁদে দেউলিয়া হচ্ছে সব দেশ।

শ্রীলংকার উদাহরন এখানে আসতে পারে। শ্রীলংকার মোট ঋন $৫১ বিলিয়ন ডলারের ভেতর চীন থেকে নেয়া ঋনের পরিমান মাত্র $৩.৪ বিলিয়ন ডলার, জাপান থেকে নেয়া ঋন $৩.৪ বিলিয়ন ডলার, বিশ্ব ব্যাংক থেকে $৩.২ বিলিয়ন ডলার। শ্রীলংকার চলতি ঋন শোধ করতে হবে $৭ বিলিয়ন ডলার। এর জন্য দায়ী সভরেইন বন্ডের বেশ কয়েকটির ম্যাচুউরিটি সামনে। কিন্তু শতকরা হিসাবে চীনের ঋনের পরিমান বেশি না হলেও আঘোষিত ভাবে শ্রীলংকা পরিস্থিতির জন্য চীনকে দায়ি করে হয়েছে। ধারনাটি প্রতিষ্ঠাও পেয়েছে।
বাংলাদেশকে এখন আরো সচেতন ও সতর্ক হতে বলা হচ্ছে বিশেষ করে চীন থেকে। এর পেছনে মিডিয়ার ব্যাপক প্রচার দায়ী। আর চীন বা রাশিয়াকে টার্গেট করার পেছনে বাস্তবতার চেয়ে রাজনীতি বড় ভূমিকা রেখেছে। জি-২০ Debt Service Suspension Initiative (DSSI) এর আওতায় ৪১ টি দেশের প্যারিশ ক্লাবের কাছে ২০০৬ সালে ঋন ছিল ২৮% যা ২০২০ সালে কমে হয়েছে ১১%।
একি সময়ে চীনের অংশ বেড়ে ২% থেকে ১৮% হয়েছে। বিষয়টি ঋন ভিত্তিক পশ্চিমা প্রভাব খাটানোর পথে বাধা।
এখানে অবশ্য রাখঢাক না রেখেই চীনের ব্যাপারে সতর্ক হও বলতে কেউ দ্বিধা করেনা। সারাবিশ্বের আঙ্গুল যেন চীনের দিকে। চীনের বিনিয়োগ বা ঋন যেটাই হোক না কেন সেটার পেছনে কিছু দেশ ঋন ফাঁদের পরামর্শ দিবেনা সেটা হতে পারেনা।
ঋণ ব্যাবস্থাপনা ও এর গুরুত্ব:
ভয়কে পাশ কাটিয়ে ঋন ব্যাবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করা যাক। একটি দেশের ঋন জিডিপি রেশিও হিসাব করলে জাপান, আমেরিকার মত দেশের জিডিপির থেকেও ঋন বেশি। আবার অনেক দেশ যাদের ঋন জিডিপির ৬০%-৭০% তাদেরকে দেউলিয়া পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। কিন্তু কেন? এর প্রধান কারন হল অদক্ষ ঋন ব্যাবস্থাপনা।
একটা উদাহরন দেয়া যাক। মনে করুন আপনি ব্যাংক থেকে ১০ লক্ষ টাকা ঋন করে এমন একটা ব্যাবসায় লগ্নি করেছেন। যেই ব্যাবসায় লগ্নি করছেন তার আগেই আপনি ব্যাবসা থেকে আপনার কি পরিমান লাভ হতে পারে, খরচ কত হতে পারে, ব্যাংকের দায় মিটিয়ে আপনার হাতে কি পরিমান অর্থ থাকবে সব হিসাব কষেই লাভজনক বিধায় মাঠে নেমেছেন। সেখান থেকে প্রতি মাসে বেশ ভাল একটা মুনাফা আপনি পাচ্ছেন। মুনাফার হার এতই বেশি যে ব্যাংকের ঋনের কিস্তি সুদ সমেত পরিশোধ করবার পরো আপনার হাতে ভাল অঙ্কের অর্থ থেকে যাচ্ছে।
অপরদিকে অন্য কোন ব্যাক্তি একি ব্যাংক থেকে মাত্র ৭ লক্ষ টাকা ঋন নিয়েছে ব্যাবসার কথা বলে। কিন্তু উদ্দেশ্য ছিল তার বাড়ির চার পাশে দেয়াল তুলবে আর বাকি যা অর্থ থাকবে সেটা ব্যাবসা করে। কোন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা না তার নেই। এরপর কিছু সে ব্যাবসায় খাটিয়েছে কিছু অর্থ সে বাড়ির চারপাশে দেয়াল তুলেছে। ব্যাবসায় যেহেতু সব টাকা খাটানো হয়নি তাই যে টাকা খাটিয়েছে সেটা থেকে মুনাফার পরিমাণ এতটায় কম যে টাকা লগ্নি করে ব্যাংক কিস্তি দেয়ার টাকা থাকেনা। আবার দেয়াল করা যেহেতু এমন কোন ফলপ্রশু কাজ নয় যেখান থেকে তার আয় বাড়তে পারে, তাই সে নিজের সংসার চালিয়ে ঋনের কিস্তি দিতে গিয়ে বিপদে পড়ে। অবস্থা এমন যে সে যদি কিস্তির সমপরিমাণ টাকা ব্যাংকে দিতে চায় তবে তার বাসায় ভাত রান্না হলেও সাথে কোন তরকারি রান্নার মত অবস্থা থাকে না। এটাই হল হিসাব কষে বিনিয়োগ আর অর্থের অদূরদর্শী ব্যাবহারের উদাহরন। অধিকাংশ মানুষ যারা মন্দ ঋনের চক্রে পড়ে, তার পেছনে কারন খুজলে ফান্ড ডাইভারশন, মিসিউজ এর প্রমাণ পাওয়া যায়। অথবা যেটুকু ঋন নেবার সক্ষমতা আছে তার থেকেও অধিক ঋন নিয়ে অর্থের অদূরদর্শী ব্যাবহারের কারনে ঋন খারাপ হয়।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে স্বাধীনতার পর থেকে অবাকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। যে পরিমান বিনিয়োগ এখানে হবার দরকার ছিল তার কিছুই হয়নি। চোখ বন্ধ করে বাংলাদেশের ম্যাপ কল্পনা করুন। উন্নত দেশের যোগাযোগের সাথে তুলনা করলে এরকম আকারের দেশে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌছাতে সড়ক বা রেল পথে ৬-৭ ঘন্টার বেশি লাগা উচিত নয়। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসে এখনো এটা স্বপ্ন। এদেশের প্রধান জাতীয় সড়কগুলি সরু দুই লেনের রয়ে গেছে। পর্যটন নগরী কক্সবাজারে রেলে যাওয়ার সুযোগ নেই। দক্ষিণাঞ্চলের উপকূল ঘিরে যেখানে সবথেকে উন্নত শহরগুলি গড়ে উঠার কথা সেখানে রেলের সংযোগ নেই। সেতু নেই।
কৃষিতে ভাল প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি নেই। সংরক্ষনের ব্যাবস্থা নেই। বন্দর বিবেচনায় সত্যিকারের সমুদ্রবন্দর একটিও নেই। কর্ণফুলী নদীতে গড়ে উঠা চট্টগ্রাম বন্দরকেই সক্ষমতার সবটুকু ব্যাবহার করে কন্টেইনার জট মোকাবেলা করতে হচ্ছে।
ঢাকাকে বলা হয় ভবিষ্যতে বিশ্বের সবথেকে বড় মেগাসিটি। অথচ এখানে পর্যাপ্ত রাস্তা নেই, আধুনিক পয়:নিস্কাশন নেই। পানি অপসারনের পথ নেই।
এই যে 'নেই' এর মিছিল এটার কারন বিগত ৫০ বছরে অবাকাঠামো খাতে যে পরিমান বিনিয়োগ আমাদের প্রয়োজন ছিল সেটা না করা। সমস্যাগুলি পুঞ্জিভূত হতে হতে আজকের বাংলাদেশ। এসব সমস্যার সমাধানের অনেক গুলি প্রকল্প নেয়া হয়েছে, কিছু চলমান। তবে মোটেও সেটা ৫০ বছরের ঘাটতি মেটাতে যথেষ্ট নয়। কিন্তু এত বিনিয়োগের জন্য আমাদের ঋন করা জরুরি। কিন্তু ২০২৬ সালে LDC থেকে চুড়ান্ত ভাবে বের হয়ে গেলে আমরা সল্পখরচের ঋন থেকে বঞ্চিত হব। আমাদের হাতে আছে ৪ বছর। গুরুত্বপূর্ণ সব অবাকাঠামোর ঘাটতি আমাদের এখনি মেটাতে হবে। ২০২৬ এর পর ঋন করলে সুদের হার ও বেড়ে যাবে। খরচ ও বাড়বে। তাই এই মুহুর্তে ভীত না হয়ে এগিয়ে চলা দরকার। বাংলা একসময় বিশ্বের জিডিপির বিশাল অংশের যোগান দিত। শত বছরের বঞ্চনা, শোষনে আজ এদেশ পিছিয়ে পড়া দেশের কাতাঁরে। এখন সুযোগ আসছে। কারো ভয় দেখানো বা চাপে পিছে তাকানোর সময় নেই। এগিয়ে যেতে হবে সঠিক পরিকল্পনায়।
বাংলাদেশে অনেক সমস্যা রয়েছে। দুর্নীতি, অযাচিত প্রকল্প ব্যয় (বালিশ, চামুচ), প্রকল্প বাস্তবায়নের অনভিজ্ঞতা, দীর্ঘসূত্রীতাসহ প্রচুর সমস্যা আমাদের রয়েছে। এর প্রতিটি নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। তবে আপাতত দেশটাকে দাড় করাতে গেলে আবকাঠামো ও বেসিক সমস্যা সমাধানে যে বিনিয়োগ দরকার সেটার জন্য ঋন করতেই হবে, যেহেতু এত বিশাল বিনিয়োগ নিজেদের পক্ষে করা সম্ভব নয়। ভীয়েতনাম আজকের এই অবস্থানে এসেছে ঋন করেই। দেশটি নিজেদের এতটায় বিনিয়োগ উপযোগী করে তুলেছে যে সারা বিশ্বের বিনিয়োগ গন্তব্য ভীয়েতনাম।
বাংলাদেশকে বিনিয়োগ উপযোগী করে তুলতে হবে। চট্টগ্রাম সৈকত জুড়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব হচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলেও এভাবে বিনিয়োগ উপযোগী করার জন্য সাউথ সাউথ করিডোর প্রকল্পে বিনিয়োগ প্রয়োজন। দেশের রেল নেটওয়ার্ক এর বিস্তৃতি প্রয়োজন, সংস্কার প্রয়োজন।
সবথেকে বেশি প্রয়োজন ফেন্সি/বিলাসী প্রকল্প না নেয়া।টাকার সঠিক ব্যাবহার নিশ্চিত করা। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এখন অবাকাঠামো বিনিয়োগ বিলাসিতা নয় বরং চাহিদা। এসব বিনিয়োগের রিটার্ন কেমন আসতে পারে সেগুলা ভেবে প্রয়োজনে সাপ্লিমেন্টারী প্রকল্প নিতে হবে। যেমন মাতারবাড়ি বন্দরের সাথে ইকোনমিক জোন করা হচ্ছে। পায়রা বন্দরের সাথে ইকোনমিক জোন করা হচ্ছে। এগুলা প্রকল্পের রিটার্ন নিশ্চিত করে।
২০১৯-২০ এর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের যত বিদেশি ঋন আছে এর ৩৮% বিশ্বব্যাংকের, ২৪.৫% এডিবির, ১৭% জাইকার এবং চীনের ৬.৮১%। কিন্তু এতেই চীন নিয়ে ভয়ের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা অপ্রয়োজনী প্রকল্পে ঋন না নিলে আমাদের দুশ্চিন্তার কারন নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক ঋন পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের সরকারি বৈদেশিক ঋন মোট $৬৭ বিলিয়ন ডলার। এর ভেতর $২.৬২ বিলিয়ন ডলার সল্প মেয়াদী ঋন বাদে বাকি অংশ দীর্ঘমেয়াদী ঋন। সল্প মেয়াদী ঋনের অংশ জিডিপির ১% এর নিচে। অথচ ভারতের সল্প মেয়াদী ঋন ২০২১ সালের হিসাবে তাদের জিডিপির ৩.৮%। কিন্তু তাদের কাছ থেকেই আমাদের জন্য সতর্ক হবার পরামর্শ এসেছে। মূলত ঋনের ঝুকির ক্ষেত্রে $৩০ বিলিয়ন ডলার ও বড় ঝুকির কারন হতে পারে, আবার ২০০ বিলিয়ন ডলার ও দুশ্চিন্তার কারন নাও হতে পারে। পুরো বিষয়টা নির্ভর করে ডেট ম্যানেজমেন্টের উপর। আর এজন্যই জাপানের মত দেশের জিডিপির থেকেও ঋন বেশি থাকা সত্ত্বেও কেউ বলছে না জাপান দেউলিয়া হয়ে যাবে। কিন্তু শ্রীলংকার ক্ষেত্রে সেটি বলা হচ্ছে।
সতর্ক আমাদের হতেই হবে অর্থের সঠিক ব্যাবহারের ক্ষেত্রে। আর যদি সেটা নিশ্চিত করা যায় তবে দেশ হিসাবে বাংলাদেশকে শক্ত অবস্থায় পৌছাতে অবাকাঠামোর ঘাটতি কাটিয়ে উঠা লাগবে। বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত করতে হবে দেশকে। এতে দারিদ্র দূর হবে, অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্ত হবে সেই সাথে রাজনৈতিকভাবে বিশ্বের সপ্তম জনবহুল দেশের গলার জোর আরো বাড়বে বলে আশা রাখি।

ঢাকার জমি-ফ্ল্যাট মালিকরা সবাই কালো টাকাধারী : অর্থমন্ত্রী

ঢাকার জমি-ফ্ল্যাট মালিকরা সবাই কালো টাকাধারী : অর্থমন্ত্রী

পদ্মা সেতুর নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ-বাংলাদেশ টেস্ট সিরিজ

পদ্মা সেতুর নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ-বাংলাদেশ টেস্ট সিরিজ

ফিক্সিং অভিযোগ খন্ডানোর অপেক্ষায় আজমপুর ফুটবল ক্লাব বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশীপ লিগ ২০২২

ফিক্সিং অভিযোগ খন্ডানোর অপেক্ষায় আজমপুর ফুটবল ক্লাব

উত্তরখান চানপাড়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত

উত্তরখান চানপাড়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত

পঞ্চমশ্রেণী পর্যায়ে পরীক্ষা বাদ দিয়ে নতুন শিক্ষাক্রমের অনুমোদন

পঞ্চমশ্রেণী পর্যায়ে পরীক্ষা বাদ দিয়ে নতুন শিক্ষাক্রমের অনুমোদন

সমালোচনা পথ চলাকে শাণিত করে : তথ্যমন্ত্রী

সমালোচনা পথ চলাকে শাণিত করে : তথ্যমন্ত্রী

অনুমোদনহীন চাল মজুদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ

অনুমোদনহীন চাল মজুদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ

আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবেনা- মির্জা ফখরুল

আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবেনা- মির্জা ফখরুল

বঙ্গবন্ধু এবং শেখ হাসিনার অবদান প্রজন্মত্তোর ছড়িয়ে দিতে হাবিব হাসানের আহ্বান কুর্মিটোলা স্কুল এন্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

বঙ্গবন্ধু এবং শেখ হাসিনার অবদান প্রজন্মত্তোর ছড়িয়ে দিতে হাবিব হাসানের আহ্বান

নেপালের মুস্তাংয়ের কোবান গ্রামে মিলল নিখোঁজ বিমানের ধ্বংসাবশেষ

নেপালের মুস্তাংয়ের কোবান গ্রামে মিলল নিখোঁজ বিমানের ধ্বংসাবশেষ

২২ যাত্রী নিয়ে উধাও নেপালের একটি বিমান

২২ যাত্রী নিয়ে উধাও নেপালের একটি বিমান

উত্তরা পশ্চিম থানা সার্বজনীন পূজা কমিটির অভিষেক

উত্তরা পশ্চিম থানা সার্বজনীন পূজা কমিটির অভিষেক

তিতুমীর কলেজ বিতর্ক ক্লাবের সভাপতি সাজেদুল সম্পাদক রাকিব

তিতুমীর কলেজ বিতর্ক ক্লাবের সভাপতি সাজেদুল সম্পাদক রাকিব

ভারত তথ্য দিলেই পি কে হালদারকে ফিরিয়ে আনতে আইনি ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ভারত তথ্য দিলেই পি কে হালদারকে ফিরিয়ে আনতে আইনি ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অ্যালেক্সা ওয়েবসাইট র‌্যাঙ্কিং সিস্টেম বন্ধ

অ্যালেক্সা ওয়েবসাইট র‌্যাঙ্কিং সিস্টেম বন্ধ

রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত অবসানে মাখোঁ ও জেলানস্কির ফোনালাপ

রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত অবসানে মাখোঁ ও জেলানস্কির ফোনালাপ

মোংলা বন্দরে মেট্রোরেলের আরও একটি চালান

মোংলা বন্দরে মেট্রোরেলের আরও একটি চালান

তুরস্ক প্রেসিডেন্ট মুখপাত্রের কিয়েভে জেলানস্কির সাথে সাক্ষাৎ

তুরস্ক প্রেসিডেন্ট মুখপাত্রের কিয়েভে জেলানস্কির সাথে সাক্ষাৎ

বাস-ট্রাক সংঘর্ষ ,দুই চালকসহ নিহত ৩

বাস-ট্রাক সংঘর্ষ ,দুই চালকসহ নিহত ৩

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্বের সকল মুসলমানকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্বের সকল মুসলমানকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ

বার্তা বিভাগ মোবাইল: +88 016 01 22 45 45
বাণিজ্য বিভাগ মোবাইল: +88 017 88 445 222

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৩/২, আউটার সার্কুলার রোড, প্রশান্তি হাইটস, স্যুট # এ-৪ (পঞ্চম তলা), রাজারবাগ, ঢাকা-১২১৭ থেকে প্রকাশিত।

ই-মেইল: muktomonnews24@gmail.com
ই-মেইল: muktomontv@gmail.com


© ২০১৩-২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | প্রকাশক : আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ কর্তৃক চৌকস প্রিন্টার্স লিঃ ১৩১ ডিআইটি এক্সটেনশন রোড থেকে মুদ্রিত ও রুম-১৪, রাজউক কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, আজমপুর, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। | About Us | Privacy Policy