রাজনীতি ব্যবসায়ীদের পকেটে চলে গেছে: রাষ্ট্রপতি

প্রকাশিত

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি : রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, রাজনীতি এখন ব্যবসায়ীদের পকেটে চলে গেছে।ধনী হতে চাইলে অনেক রাস্তা আছে। এ জন্য রাজনীতির পথ বেছে না নেওয়াই ভাল। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রকৃত রাজনীতিবীদদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

সোমবার বিকালে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলা হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি সারাজীবন রাজনীতি করেছি সততার সঙ্গে মানুষের কল্যাণে। জীবনে কোনওদিন টাকার দিকে চেয়ে দেখিনি। সাতবার এমপি হয়েছি, ডেপুটি স্পিকার হয়েছি, স্পিকার হয়েছি, বিরোধী দলের উপনেতা হয়েছি, আর এখন রাষ্ট্রপতি। এরপরও আমার কিশোরগঞ্জ এবং গ্রামের বাড়িটি টিনেরই রয়ে গেছে। একটুও বদলায়নি। তিনি সংসদ সদস্যদেরকেও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বেড়া দিয়ে আপনাদের আটকে রেখেছে, আমাকেও বন্দি করে রেখেছে। আপনারা ইচ্ছে করলেই আমার সঙ্গে দেখা করতে পারেন না। তাই নিরাপদ দূরত্বে থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, একটা সময় আমি তিন উপজেলার বেশির ভাগ ঘরে গিয়েছি। এখন আর এটা সম্ভব না। সারাজীবন তো আমি রাষ্ট্রপতি থাকব না, সে সময় আবার আপনারা আমার কাছে যেতে পারবেন। তখন আর বাধা থাকবে না।

রাষ্ট্রপতি বলেন, এক সময় ধলেশ্বরী নদীতে পাকা সেতু ছিল আপনাদের কাছে স্বপ্ন। এখন তা বাস্তব। এ সেতু নির্মিত হওয়ায় ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সম্ভব হবে। এছাড়া সাব-মার্সিবল ও অলওয়েদার রোড নির্মাণ কাজ শেষ হলে ঢাকার সঙ্গে হাওরের সড়ক যোগাযোগ শুরু হবে।

হাওর এলাকার উন্নয়ন সম্পর্কে তিনি বলেন এক সময়ে হাওর এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না, রাস্তাঘাট ছিল না। কিন্তু এখন মানুষ বিদ্যুৎ ও রাস্তা-ঘাটের সুবিধা ভোগ করছে। ভবিষ্যতেও উন্নয়ন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। অবকাঠোমো উন্নয়ন শেষ হলে হাওর এলাকা কক্সবাজারের চেয়েও আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে।

নাগরিক সংবর্ধনা সমাবেশে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, কিশোরগঞ্জে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় এবং মিঠামইন ও নিকলী উপজেলার মাঝামাঝি একটি ক্যান্টনমেন্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এসময় রাষ্ট্রপতির ছেলে ও কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রেজোয়ান আহমেদ তৌফিক এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের উল্লেখ্য করে রাষ্ট্রপতিকে আরও কাজের জন্য অনুরোধ করেন। এর জবাবে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি ছিলাম চাষার ছেলে এমপি। তৌফিক রাষ্ট্রপতির ছেলে এমপি। এসময় তিনি আরও বেশি উন্নয়ন কাজের আশ্বাস দেন।

নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ফজলুল হক হায়দারী বাচ্চুর সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, আফজাল হোসেন ও অষ্টগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম জেমস।

এর আগে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ অষ্টগ্রামে ধলেশ্বরী নদীর ওপর নিজ নামে নির্মিত আবদুল হামিদ সেতু উদ্বোধন করেন। ৪১ কোটি ২০ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ব্যয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ৩৪১ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৭ দশমিক ৩০ মিটার প্রস্থের সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে।

এরপর ডাক বাংলোতে বিশ্রাম শেষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে চড়ে বিকাল চারটার দিকে অষ্টগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাঁর সম্মানে আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনা সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন।মঙ্গলবার দুপুরে রাষ্ট্রপতির ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

শেয়ার করুন