শিক্ষার্থীদেরই ভ্যাট দিতে হবে: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরই ভ্যাট দিতে হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

তিনি বলেছেন, “বিশ্ববিদ্যালয় নয়, ভ্যাট শিক্ষার্থীদেরই দিতে হবে।”

তবে শুধু এ বছর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ ভ্যাট দেবে বলেও তিনি জানান।

অর্থমন্ত্রীর এ বক্তব্যের মাধ্যমে এনবিআরের সব যুক্তি ও বক্তব্য অসার এবং ভুল প্রমাণিত হলো।

টিউশন ফির ওপর সাড়ে সাত শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে বুধবার থেকে রাস্তায় নামে শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার তাদের আন্দোলন চরম আকার ধারণ করলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড- এনবিআর থেকে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের কোনো ভ্যাট দিতে হবে না।

এরপর এনবিআরের পক্ষ থেকে মনগড়া অনেক ব্যাখ্যাও তুলে ধরা হয়, যা যুক্তিসঙ্গত নয় বলে দাবি করেন শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় চলে ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে। যা ভ্যাটের আওতামুক্ত। কিন্তু এনবিআর যে পদ্ধতির কথা বলেছে, সেটির আইনগত ব্যাখ্যা কী তা জানে না সমিতি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয়ের বলরুমে বাংলাদেশ বিজনেস অ্যাওয়ার্ড-২০১৪ প্রদান অনুষ্ঠানে সংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুহিত বলেন, “এ বছর ভ্যাট দেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয় যাতে এই ভ্যাট শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় না করে, সেজন্য সরকার মনিটরিং করবে। তবে আগামী বছর থেকে শিক্ষার্থীদেরই ভ্যাট দিতে হবে।”

তিনি আবারও জানিয়েছেন, এ ভ্যাট প্রত্যাহার করা হবে না। বৃহস্পতিবারও তিনি বলেছেন একই কথা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “শিক্ষার্থীরা যেহেতু আন্দোলনে নেমেছে, তাই এ বছর ভ্যাট নেওযা হবে না। বেসরকারি শিক্ষার্থীদের প্র্রতিদিনের ব্যয় এক হাজার টাকা, সেখান থেকে মাত্র ৭৫ টাকা ভ্যাট চাচ্ছি।”

ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মনিবার থেকে তিন দিনের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।

এর আগে গত বুধবার রাজধানীর ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ তাদের ওপর ছররা গুলি ছোড়ে। এছাড়া লাঠিচার্জ করে, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে প্রায় ৩০ শিক্ষার্থী আহত হন।

এর পরদিন বৃহস্পতিবার প্রায় সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শণ করে। এতে কার্যত সারাদিন অচল হয়ে পড়ে রাজধানী।

শেয়ার করুন