সচিবালয় যাচ্ছে শেরেবাংলা নগরে

প্রকাশিত

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : রাজধানীর পুরানা পল্টন থেকে শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরেরর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদের স্থপতি লুই কানের মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী শেরেবাংলা নগরের চন্দ্রিমা উদ্যোনের উত্তরাংশে ৩২ একর জমির উপর নির্মাণ করা হবে সচিবালয়।

‘ঢাকার শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ সচিবালয় নির্মাণ’ নামে সরকারের এই প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ২০৯ কোটি ৭৩ টাকা। জুলাই’১৫ থেকে জুন’১৮ মেয়াদকালে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ প্রকল্প  অনুমোদনের জন্য তোলা হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা।

তিনি জানান, নতুন এ সচিবালয়ে থাকছে আড়াই লাখ বর্গমাইলের ৪টি ব্লক, সাড়ে ৪ হাজার বর্গমিটারের ২ ব্লকের বিল্ডিং, অডিটরিয়াম, হলরুম ও মসজিদ। নতুন এ সচিবালয় নির্মাণ হলে জাতীয় সংসদ, এমপিদের বাসভবন, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ও সচিবালয় পাশাপাশি অবস্থান করবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, পল্টনে সচিবালয়ের বর্তমান কমপ্লেক্সটি পাকিস্তানের প্রাদেশিক সরকারের আমলে নির্মিত। স্বাধীনতার ৪৪ বছরে সরকারের কর্মকাণ্ড বহুগুণে বেড়েছে। কিন্তু সে তুলনায় সচিবালয়ের অফিস স্পেস বাড়ানো হয়নি। এছাড়া সচিবালয়ের বর্তমান কমপ্লেক্সটি সম্প্রসারণের সুযোগও নেই। তাই লুই আই কানের মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী শেরেবাংলা নগরে বড় পরিসরে সচিবালয় নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, নতুন সচিবালয়ের এলাকা ঘিরে সুউচ্চ প্রাচীর নির্মাণ করা হবে। আধুনিক এ সচিবালয়ের সঙ্গে টানেলের মাধ্যমে গণভবন, সংসদ ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ থাকবে। সচিবালয় থেকে প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভবন বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা গণভবনসহ যেকোনো স্থানে যেতে পারবেন।

এছাড়া নতুন এ সচিবালয় নির্মাণের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিস স্পেস সংকট দূর হবে; বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং এর আওতায় বিভিন্ন সংস্থার কাজের মধ্যে সমন্বয় করা যাবে। এতে করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের পরিবেশ উন্নত হবে।

প্রকল্পটির আওতায় সচিবালয়ের জন্য ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩০৯ দশমিক ৭১ বর্গমাইলের ৪টি ব্লক নির্মাণ, ৪ হাজার ৫০৫ দশমিক ৮৮ বর্গমিটার ২ ব্লকের বিল্ডিং নির্মাণ, ৫ হাজার ৮৪৩ দশমিক ১৪ বর্গমিটার অডিটোরিয়াম ও হলরুম নির্মাণ, ২৪ হাজার ৭২৯ দশমিক ৪৭ বর্গমিটারের মসজিদ নির্মাণ, ৫ হাজার ৮৬২ দশমিক ২৪ বর্গমটার এলাকায় বহিঃবিদ্যুৎতায়ন ব্যবস্থা, ৬৮ হাজার ২৩৪ দশমিক ৮৬ বর্গমিটার সড়কপথ নির্মাণসহ এবং অভ্যন্তরীণ বিদ্যুতায়ন, পানি সরবরাহ, ১০টি সিসি টিভি, ৩২ লিফট ক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

প্রকল্প সূত্রে আরও জানায়, এর আগে ২০১২ সালে চন্দ্রিমা উদ্যোনের পাশে ৪২ একর জায়গা জুড়ে ১০টি ব্লকে ৯তলা ভবনসহ অফিস ব্যাংক অডিটেরিয়াম, মসজিদ, কার পার্কিং ইত্যাদি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এদিকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানায়, প্রকল্পটি অনেক আগে অনুমোদন দেওয়ার কথা ছিল। নানা সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকল্পটি ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হয়। নতুন করে রেড সিডিউল গঠন করে ডিপিপি পুনর্গঠন করা হয়। পরে চলতি বছরে ৮ জুলাই পিইসি সভায় প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন শর্ত সাপেক্ষে প্রকল্পটি অনুমোদনের সিদ্ধান্ত হয়।

পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত ও অবকাঠামো বিভাগের সদস্য আরস্তু খান বলেন, সম্ভাব্যতা যৌক্ততা যাচাই করে সচিবালয় নির্মাণের প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে সচিবালয়ের যে জায়গা সংকট রয়েছে তা দূর হবে।

শেয়ার করুন