আজ মঙ্গলবার, জুলাই ২৭, ২০২১ | ১২ শ্রাবণ, ১৪২৮

শিরোনাম

রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিটুকু পেলে যেন মরেও শান্তি পাবো

প্রকাশিত: রোববার, ফেব্রুয়ারী ২১, ২০২১


রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিটুকু পেলে যেন মরেও শান্তি পাবো

আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর (মানিকগঞ্জ): মাতৃভাষার অধিকার আদায়ের সংগ্রামে গর্বিত জাতি হিসেবে বাঙালি জাতি যে অসামান্য অবদান রেখেছিলেন, তারই ফলশ্রুতিতে আমরা পেয়েছি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার স্বীকৃতি।

সেই মহান ভাষাসৈনিকদের অবদান ফেব্রুয়ারীতে স্মরণ করা হলেও সারা বছরই থাকেন তারা উপেক্ষিত। অনেকের ভাগ্যে জুটেনি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। অভাব অনটনে জীবন সংগ্রামের বাঁকে বাঁকে তাদের দীর্ঘশ্বাস আর উপেক্ষার যাতনা।

ভাষা আন্দোলনের কেটে গেছে ৬৯ বছর। ভাষা সৈনিকদের মধ্যে এখনো  বেঁচে আছেন ভাষাসৈনিক কমরেড আব্দুল হাকিম।  বর্তমানে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ঘিওর উপজেলার তেরশ্রী গ্রামের এই অকুতোভয় ভাষা সৈনিক। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হলেও নিভৃত পল্লীর এ ভাষা সৈনিকের ভাগ্যে জোটেনি কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।

সম্প্রতি নয়া দিগন্ত’র এই প্রতিনিধির সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও স্মৃতিকথা তুলে ধরেন জীবন্ত কিংবদন্তি ভাষা সংগ্রামী ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আব্দুল হাকিম মাস্টার। তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতা ছিলেন তৎকালীন আন্দোলনের পুরোধা প্রয়াত প্রমথনাথ নন্দী। তার উৎসাহ আর উদ্দীপনায় আমরা ভাষা আন্দোলনে যোগদান করি। তৎকালীন উত্তাল সেই সময়ে পুলিশের রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে মিছিল করি।

শ্লোগান দেই, ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’; ‘উর্দু ভাষা চলবে না’। ‘আন্দোলনে আমাদের সাথে যারা ছিলেন-যতদূর মনে পড়ে- তেরশ্রী কে. এন. ইনিস্টিটিউট এর সহকারি প্রধান শিক্ষক প্রয়াত প্রমথনাথ নন্দী, ক্রীড়া শিক্ষক আফসার উদ্দিন আহমেদ, কলেজ শিক্ষার্থী প্রমথনাথ সরকার, মোবারক আলী, ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র আব্দুস সালাম।

ওই বিদ্যালয়ের ম্যাট্রিক পরিক্ষার্থী আব্দুল হাকিম, আব্দুর রহমান ঠাকুর, মনিন্দ্র নাথ সরকার, সিরাজ উদ্দিন মৃধা; নবম শ্রেণীর ক্যাপ্টেন মিরান উদ্দিন, ছাত্র মো. ওয়াজ উদ্দিন, রেহাজ উদ্দিন প্রমুখ। মানিকগঞ্জ শহরের ছিলেন-ডা.শামসুর রহমান, সৈয়দ আনোয়ার আলী চৌধুরী, ওয়ারেশ উদ্দিন পাশা, জাফর আলম চৌধুরী, খন্দকার দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।’ তিনি আরো বলেন, ‘আন্দোলনের খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং পুলিশ হুলিয়া জারি করে এর মধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করে। আমরা আত্মগোপনে থেকে আন্দোলনের কাজ চালিয়ে যাই।”

 মনিকগঞ্জের ধামশ্বর ইউনিয়নের কলিয়া গ্রামের আব্বাস উদ্দিন ও আছিরুন বেগমের ৩ ছেলের মধ্যে আব্দুল হাকিম মেঝো। ২ মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে তার সংসার। দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করে তিনি মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। কর্মজীবনে কমরেড আ. হাকিম মাস্টার তেরশ্রী কে.এন. ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং ৯০’এর স্বৈরাচারী বিরোধী আন্দোলনে তিনি রাজপথে থেকে সক্রিয় আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৪৯ সালে আ. হাকিম মাস্টার তেরশ্রী কে.এন. ইনস্টিটিউশনের ছাত্র থাকাকালীন ভাষা আন্দোলনে যুক্ত হয়ে পড়েন।

ভাষা সৈনিক কমরেড আব্দুল হাকিম মাস্টারের সাথে আলাপকালে তিনি দুঃখ করে বলেন, ‘ভাষার জন্য আমরা সংগ্রাম করেছি, জেল খেটেছি, জুলুম-অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করে দিনের পর দিন পালিয়ে থেকেছি। মায়ের ভাষার জন্য এ দেশের ছাত্ররা ঢাকা রাজপথে বুকে রক্ত ঢেলে দিয়েছে। এতোকিছুর পরেও ভাষার প্রতি চলছে চরম অবজ্ঞা।’ তিনি আরও বলেন, ‘২১শে ফেব্রুয়ারি আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস হওয়ায় বুকটা গর্বে ভরে গেছে। আবার দুঃখে কান্না আসে, আনন্দটা ম্লান হয়ে যায়। যখন দেখি আমাদের দেশে সর্বস্তরে বাংলা ভাষার এখনও যথার্থ প্রয়োগ নেই। সব বিতর্কের উর্ধ্বে উঠে সর্বস্তরের বাংলা ভাষার ব্যবহার বাস্তবায়ন করা হোক।’

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সাবেক ডেপুটি কমান্ডার কে এম সিদ্দিক আলী জানান, কমরেড আঃ হাকিম মাস্টার একজন ভাষা সৈনিক এবং দেশ প্রেমিক। তাকে শ্রদ্ধা এবং সম্মান করা আমাদের জাতির কর্তব্য। মানিকগঞ্জে যারা ৫২’ ভাষা আন্দোলনে অংশ গ্রহন করেছে তাদের সবাইকে শ্রদ্ধা জানাই। বাংলা ভাষার জন্য তাদের সংগ্রাম আন্দোলনের কথা সারা দেশের মানুষ মনে রাখবে। তবে সকল ভাষা সৈনিকদের রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন।

গতকাল ২০ শে ফেব্রুয়ারী ঘিওরের বাড়িতে গিয়ে দেখা হয় এই ভাষা সৈনিক আব্দুল হাকিম মাস্টারের সাথে। বয়সের ভারে শরীরের বেঁধেছে নানা অসুখ-বিসুখ। স্মৃতিশক্তিও কমে গেছে। কথায় এসেছে জড়তা। সহ-আন্দোলনকারীদের দু একজন ছাড়া কেউই আর বেঁচে নেই। উদাসী দৃষ্টিতে যেন কিছুটা অপ্রাপ্তির ছায়া। যাদের আন্দোলনের ফসলে আমরা আজ মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলি। সেই ভাষা যোদ্ধার জীবনের শেষ চাওয়া, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিটুকু পেলে যেন মরেও শান্তি পাবো।


কালো তালিকায় শতাধিক ব্যবসায়ী ! প্রনোদনার টাকা নয়-ছয়ের অভিযোগ

কালো তালিকায় শতাধিক ব্যবসায়ী !

ফুলন দেবীর সম্পর্কে আমরা কতটুকু জানি?

ফুলন দেবীর সম্পর্কে আমরা কতটুকু জানি?

কোন পথে এগোচ্ছে  তিউনিশিয়া? তিউনিসে আল জাজিরার কার্যালয় বন্ধ

কোন পথে এগোচ্ছে তিউনিশিয়া?

রিজিক এবং কিছু ধারণা!

রিজিক এবং কিছু ধারণা!

বন্ধ হোক প্রকৃতির প্রতিশোধ

বন্ধ হোক প্রকৃতির প্রতিশোধ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফল প্রকাশ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফল প্রকাশ

রাজনৈতিক হিংস্রতা দেখিয়েছে বিএনপি: তথ্যমন্ত্রী

রাজনৈতিক হিংস্রতা দেখিয়েছে বিএনপি: তথ্যমন্ত্রী

কতটা আঘাত সহ্য করতে পারবে পদ্মা সেতু?

কতটা আঘাত সহ্য করতে পারবে পদ্মা সেতু?

মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে ওবায়দুল কাদেরের বিবৃতি

মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে ওবায়দুল কাদেরের বিবৃতি

অবসরকালীন অপরাধে পেনশন বাতিলের বিধান বহাল

অবসরকালীন অপরাধে পেনশন বাতিলের বিধান বহাল

এসএসসি-এইচএসসির তিন বিষয়ে পরীক্ষা

এসএসসি-এইচএসসির তিন বিষয়ে পরীক্ষা

মোহামেডান, আবাহনী ও বসুন্ধরার জরিমানা!

মোহামেডান, আবাহনী ও বসুন্ধরার জরিমানা!

ইরানের নির্মিত ড্রোন দিয়ে জর্ডানে হামলা

ইরানের নির্মিত ড্রোন দিয়ে জর্ডানে হামলা

ঈদযাত্রায় প্রাণ গেছে ২০৭ জনের

ঈদযাত্রায় প্রাণ গেছে ২০৭ জনের

রাজনীতিবিদরা রাজনীতিতে নেই: মির্জা ফখরুল

রাজনীতিবিদরা রাজনীতিতে নেই: মির্জা ফখরুল

বিএনপির বক্তব্য-বিবৃতি দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে: কাদের

বিএনপির বক্তব্য-বিবৃতি দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে: কাদের

শাহজালালে ৩ কোটি টাকার স্বর্ণসহ সৌদি ফেরত যাত্রী আটক

শাহজালালে ৩ কোটি টাকার স্বর্ণসহ সৌদি ফেরত যাত্রী আটক

ইতালির জেনোভায় প্রবাসীদের ঈদ পুনর্মিলনী

ইতালির জেনোভায় প্রবাসীদের ঈদ পুনর্মিলনী

আসাম-মিজোরাম সীমান্তে সংঘাত

আসাম-মিজোরাম সীমান্তে সংঘাত

কোয়াবের শামসুর রহমান শিমুল আর নেই

কোয়াবের শামসুর রহমান শিমুল আর নেই

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ জিয়াউল হক
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ ছাদেকুর রহমান
প্রকাশকঃ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ

বার্তা বিভাগ মোবাইল: +88 016 01 22 45 45
বাণিজ্য বিভাগ মোবাইল: +88 017 88 445 222

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৩/২, আউটার সার্কুলার রোড, প্রশান্তি হাইটস, স্যুট # এ-৪ (পঞ্চম তলা), রাজারবাগ, ঢাকা-১২১৭ থেকে প্রকাশিত।

ই-মেইল: muktomonnews24@gmail.com
ই-মেইল: muktomontv@gmail.com


© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | মুক্তমন এসএসএস লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান | About Us | Privacy Policy