আজ শনিবার, এপ্রিল ১৭, ২০২১ | ৪ বৈশাখ, ১৪২৮

শিরোনাম

সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আশংকা প্রার্থী দিদারুল আলম মিয়াজী

প্রকাশিত: শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০২১


সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আশংকা প্রার্থী দিদারুল আলম মিয়াজী

এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম): দুয়ারে কড়া নাড়ছে বারইয়ারহাট পৌরসভা নির্বাচন। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনকে সামনে রেখে শেষ সময়ে প্রচার-প্রচারনা ও গনসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা।

বিরামহীন প্রচারানা চালিয়ে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ মনোনিত মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম খোকন। অন্যদিকে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আশংকা প্রকাশ করেছেন বিএনপির মনোনিত প্রার্থী দিদারুল আলম মিয়াজী।

এদিকে প্রত্যেকটি ওয়ার্ডকে ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীরা।

জানা গেছে, বিগত ২০০০ সালের ২৭ এপ্রিল বারইয়ারহাট পৌরসভাটি আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা শুরু করে। উপজেলার হিঙ্গুলী, ধুম ও জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের আংশিক অংশ নিয়ে ২.১২ বর্গ কিলোমিটার আয়তনে গঠিত পৌরসভাটি আয়তনের দিক থেকে দেশের সর্বকনিষ্ঠ পৌরসভা।

৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পৌরসভাটিতে ২০১১ সালের আদম শুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যা ১১,৩২৭। পৌরসভাটিতে মোট ভোটার ৮,৬৫৫। যার মধ্যে পুরুষ ৪,৫৯৪; মহিলা ৪,০৬১। প্রতিষ্ঠার পর তিনজন প্রশাসক পৌরসভার দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর ২০০২ সালের ২৪ মার্চ প্রথম চেয়াম্যান নির্বাচিত হন বিএনপি প্রার্থী জালাল উদ্দিন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. তাহের ভূঁইয়া মেয়র নির্বাচিত হন।

সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি আওয়ামীলীগের প্রার্থী মো. নিজাম উদ্দিন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাঈন উদ্দিন লিটনকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন।

পৌরসভাটি প্রতিষ্ঠা লগ্নে গ শ্রেণী, ২০০৬ সালে খ শ্রেণী ও ২০১১ সালে ক শ্রেণীতে উন্নীত হয়। প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হলেও এখানে নেই গ্যাস সুবিধা। এছাড়া পৌরসভার নেই নিজস্ব কোন ভবন।

বিগত মেয়র তাহের ভূইয়া পৌরসভার জন্য স্থায়ী ভবন করলেও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের গ্রীডের পাশে ভবনটি লাগোয়া হওয়ায় নিরাপত্তাজনিত কারণে ওই ভবনে অফিস স্থানান্তর করার ক্ষেত্রে আপত্তি করে তারা।

পরবর্তীতে ওই ভবনটি সহ পৌরসভার ভূমি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড অধিগ্রহণ করে নেয়। পৌর ভবনের জন্য বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড টাকা দিলেও শর্ত অনুযায়ী অন্যত্র ভূমি ক্রয় না করে দেওয়ায় পৌরসভা ভবনের ক্ষতিপূরণ টাকা নেয়নি; ফলে নিজস্ব ভবনে যাওয়া আর হয়নি।

এছাড়া পৌরসভাটিতে নিজস্ব ঈদগাঁ, পৌর এলাকায় নেই সরকারি কোন বিদ্যালয়, সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই, ময়লা ফেলার জন্য নেই নির্দিষ্ট কোন স্থান।
কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্ধী সবাই আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত।

ফলে কাউন্সিলর পদে আওয়ামীলীগ থেকে একক কোন প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়নি। এতে করে নির্বাচনী মাঠে উন্নয়নের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিরামহীন প্রচারণ করছেন কাউন্সিলর প্রার্থীরা। নির্বাচনী মাঠে আওয়ামীলীগ শিবিরে ভোট নিয়ে উৎসাহ উদ্দীপনা থাকলেও সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শংকায় বিএনপি নেতা-কর্মীরা।

এদিকে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২৫ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ রেজাউল করিম খোকন। তিনি নির্বাচিত হলে পৌরসভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা,

যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে ঐক্যবদ্ধ সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা ও জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করা, পৌরসভার নিজস্ব ভবন তৈরী, পৌর বাজারের অব্যবস্থাপনা দূর করতে কিচেন মার্কেট নির্মাণ,

ওয়াটার ট্রিটম্যান্ট প্রজেক্ট বাস্তবায়ন, মাষ্টার প্ল্যান অনুযায়ী দীর্ঘ মেয়াদী উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ, আন্তঃসড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে সড়ক প্রসস্থকরণ, পৌর এলাকায় নতুন বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে আন্ডারগ্রাউন্ডে পানির কূপ ও গাড়ি পার্কিং নিশ্চিত করা, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা,

বর্জ অপসারণে নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ ও বর্জ রিসাইকেলিংয়ের জন্য প্রকল্প গ্রহণ, কার্বন নিঃসরণে পৌর এলাকায় প্রত্যেক সড়কে বৃক্ষরোপন কর্মসূচী বাস্তবায়ন, শিক্ষা বিস্তারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন, গভীর নলকূপ স্থাপন,

ভাসমান হকারদের পুনঃবাসন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা, ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করা, বিনোদন কেন্দ্র স্থাপনে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উদ্বুদ্ধ করা, সড়কবাতি স্থাপন, ড্রেনেজ নির্মাণ ও এটি সচল রাখা,

পশু জবাইয়ের জন্য আলাদা স্থান নির্ধারণ, যানবাহনের জন্য আলাদা আলাদা টার্মিনাল নির্মাণ, কম্পিউটার টেকনোলজি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, পৌর এলাকাকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা,

সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা ও নিয়মিত ক্রীড়া অনুষ্ঠানের আয়োজন, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ‘জনতার মুখোমুখি মেয়র’ শীর্ষক নিয়মিত মতবিনিময় সভার আয়োজন করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

রেজাউল করিম খোকন বলেন, মানুষ নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে মুখিয়ে আছে। গণসংযোগ করতে যেখানে যাচ্ছি সেখানে জনগনের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। বারইয়ারহাট পৌরসভায় উন্নয়নের লক্ষ্যে ভোটাররা আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি নৌকাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে বলে আমি আশাবাদী।

আমি মেয়র নির্বাচিত হলে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও জননেত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে বারইয়ারহাট পৌরসভায় আমার নির্বাচনী ইশতেহারগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করবো।

তিনি আরো বলেন, জনগন বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে, জনরায় পাবে না বলে তারা মাঠে নেই।
বিএনপির মনোনিত প্রার্থী দিদারুল আলম মিয়াজী বলেন, আমার কর্মীরা পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে পোস্টার, ব্যানার লাগালেও তা ছিড়ে ফেলা হচ্ছে।

অনেক নেতা-কর্মীর উপর হামলা রয়েছে। নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে আমাকেও দলীয় নেতাকর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।  বারইয়ারহাট পৌরসভায় সুষ্ঠু নির্বাচনের কোন পরিবেশ নেই।

যতই ভোট ঘনিয়ে আসছে উৎসবের বিপরীতে ভোটারদের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। প্রকাশ্যে না হলেও তিনি নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবী করেন।

তিনি আরো বলেন, ভোটাররা যদি নির্বিগ্নে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে তাহলে ধানের শীষ প্রতীক বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে। আমি মেয়র নির্বাচিত হলে, মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী প্রতিটি ওয়ার্ডে উন্নয়ন কাজ করবো।

এছাড়া পৌর এলাকায় উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, মাদক নির্মূল, সড়কের উন্নয়ন, পৌরসভার সীমানা বাড়ানো, হোল্ডিং ট্যাক্স না বাড়ানো, মৃত্যু সনদ-নাগরিক সনদ-জন্ম সনদ ফ্রি করে দেওয়া, ঈদগাঁ নির্মাণ, ভালো মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবো।

চট্টগ্রাম জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ও বারইয়ারহাট পৌরসভা নির্বাচনের রির্টানিং কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান বলেন, বারইয়ারহাট পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে ২ জন,

সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৫৪ জন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। সুষ্ঠ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধিলঙ্গনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ফেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।