সিলেটে আবারও নির্যাতনে শিশু হত্যার অভিযোগ

সিলেট প্রতিনিধি : শেখ সামিউল আলম রাজন হত্যার প্রায় দেড় মাসের মাথায় সিলেটের জালালাবাদ থানার ঘোপাল এলাকায় এবার এক শিশুশ্রমিককে নির্যাতনে হত্যার অভিযোগে মামলা করেছে তার পরিবার। শিশুর নাম মো: আকমল হোসেন (১১)। সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার থানার পাহাড়পুর (পূর্ব রাজনপুর) গ্রামের দিনমজুর মো: এখলাছ মিয়ার ছেলে। গত ২০ আগস্ট  বিকাল সোয়া ৪টার দিকে ঘোপালস্থ ফুড মার্ক ব্রেড এন্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরির বাইরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পরিবারের।

নিহত আকমলের পিতা এখলাছ মিয়া বাদী হয়ে ২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জনকে আসামি করে এসএমপির জালালাবাদ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন, শহরতলীর টুকেরবাজার ঘোপাল এলাকার লন্ডনি বাড়ি ও ফুড মার্ক ব্রেড এন্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরির মালিক হাজি  মো: ওহাব আলী (৫৫) ও গোলাপগঞ্জ থানার ফুলসাইন্দ গ্রামের মৃত হাসিবের ছেলে, বর্তমানে ঘোপাল ফুড মার্ক ব্রেড এন্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরির মিস্ত্রি আব্দুর রহমান (৪০)। এ ঘটনায় এখনও কেউ গ্রেফতার  হয়নি।

পুলিশের একটি সূত্র জানায় , গত শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে পুলিশ ময়নাতদন্ত শেষে শিশু আকমল হোসেনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।  শুক্রবার মাগরিবের পর নামাজের জানাযা শেষে তার লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মামলার বিবরণীতে বলা হয়,  জীবিকা নির্বাহে ওই ফ্যাক্টরিতে শিশু আকমল হোসেন ২ বছর ধরে ১৩ শ’ টাকা বেতনে কাজ করত। ঘটনার ৫/৬ দিন পূর্বে ফ্যাক্টরি মালিক হাজি মো: ওহাব আলী ও মিস্ত্রি আব্দুর রহমানের কাছে আকমলের পিতা এখলাছ মিয়া বকেয়া বেতনের টাকা চাইতে গেলে তাদের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়।  এরপর থেকে মালিক ওহাব ও মিস্ত্রি আব্দুর রহমান শিশু আকমল হোসেনকে নির্যাতন করে আসছিল।  এর ধারাবাহিকতায় গত ২০ আগস্ট বিকেল সোয়া ৪টার দিকে তাকে আঘাত করা হয়।  এতে সে গুরুতর আহত হয়।  এ অবস্থায় দ্রুত  ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওইদিন পুলিশ ওসমানী হাসপাতাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে মর্গের হিমাগারে রেখে দেয়। রাত সোয়া ৮টার দিকে খবর পেয়ে শিশুটির বাবা তার সন্তানের মাথা থেঁতলানো, মুখমণ্ডলের ডান পাশে ফোলা, কান ও নাক দিয়ে রক্ত বেরুচ্ছে দেখতে পান বলে এজাহারে উল্লেখ করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জালালাবাদ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বেনু চন্দ্র দেব জানান, মামলাটির আসল রহস্য উদঘানের জন্য তদন্ত চলছে। মামলার আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, শহরতলীর কুমারগাঁওয়ে গত ৮ জুলাই শিশু শেখ সামিউল আলম রাজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।