হামলার আশঙ্কা : আবারো সর্তকতাজারি যুক্তরাজ্যের

প্রকাশিত

কূটনৈতিক প্রতিবেদক: বাংলাদেশে পশ্চিমা নাগরিকদের ওপর হামলার আশঙ্কায় সর্তকতাজারি করেছে যুক্তরাজ্য। শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকাস্থ যুক্তরাজ্য দূতবাস সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এরমধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে হামলার উচ্চমাত্রার ঝুঁকি রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ওই সতর্কবার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলার বড় ধরনের হুমকি রয়েছে এবং পশ্চিমা নাগরিকদের ওপর আবারও হামলা হতে পারে।

শুক্রবার দেশটির সরকারি ওয়েবসাইট গভ ডট ইউকেতে দেওয়া এক নির্দেশনায় এই সতর্কবার্তা  হালনাগাদ করা হয়।

সতর্কবার্তায়, দেশটির ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিস (এফসিও) বাংলাদেশে থাকা সব ব্রিটিশ নাগরিককে চলাফেরায় সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেয়। এছাড়া বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে না যাওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাড়া ওই বিভাগের অন্য কোনও অংশ এই নির্দেশনার আওতায় পড়বে না। এছাড়াও জনবহুল এলাকা ও অনুষ্ঠানে পশ্চিমা নাগরিকদের সতর্কভাবে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ইতালির নাগরিক চেজারে তাভেল্লা হত্যাকাণ্ডের পর ৩ অক্টোবর রংপুরে খুন করা হয় জাপানের নাগরিক কুনিও হোশিকে। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত কয়েকটি দেশ সর্তকা জারি করেছে।

এদিকে দুই বিদেশি নাগরিক হত্যার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে সরকারের গৃহিত পদক্ষেপে কূটনীতিক পাড়ায় শঙ্কা কাটতে শুরু করেছে বলে সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে দাবি করা হয়। সরকারের দৃশ্যমান উদ্যোগে এরইমধ্যে সন্তোষ প্রকাশ করে কূটনীতিকদের কেউ কেউ বক্তব্য প্রদান করেন।

নিরাপত্তার বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বলেন, বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে যা যা করা দরকার, সরকার তাই করছে। ইতিমধ্যে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, যা সবাইকে শঙ্কামুক্ত করতে পেরেছে বলে মনে করি। বিদেশিদের নিরাপত্তায় আমরা শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে ইতালিয়ান নাগরিক তাভেলা সিজার এবং জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশে বিদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে দেশ-বিদেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের নাম জড়িয়ে দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ পেলে জনমনে উদ্বেগ আরো বেড়ে যায়।

বিদেশি নাগরিক হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষিতে বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতিতে দ্রুত নেতিবাচক প্রভাব পড়তে থাকে। তাভেলা সিজার হত্যাকাণ্ডের পরপরই অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল তাদের বাংলাদেশ সফর স্থগিত করে। যদিও তারা বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে আপত্তি আগে থেকেই তুলে আসছিল। এরপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সফর বাতিল করলে কূটনীতিক পাড়ায় শঙ্কা বেড়ে যায়।

এমন শঙ্কা কাটতে না কাটতেই রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এতে কূটনীতিকদের মাঝে উদ্বেগ আরো বাড়তে থাকে। এই হত্যাকণ্ডের পর যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সতর্ক বার্তা দিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশে আইএসের উত্থান যেকোনো মূল্যে ঠেকানো হবে।’ যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য বিদেশি গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশ পায়। এরপর থেকেই বাংলাদেশ সফরে পশ্চিমা বিশ্ব বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের ইঙ্গিত দেয়। সফর বাতিল করে দক্ষিণ আফ্রিকার নারী ক্রিকেট দলও।

এমন পরিস্থিতিতে সরকার বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে দৃশ্যমান বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করে। রাজধানীর কূটনীতিক পাড়ায় পুলিশি টহল, তল্লাশি চৌকি এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। ঢাকার বাইরেও বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন পদেক্ষেপ গ্রহণ করে সরকার।

এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় কূটনীতিকদের ডেকে এনে সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার আশ্বাস দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী এবং প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্রিফিংয়ের পর নিরাপত্তা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে কূটনৈতিক কোরের ডিন ও যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘বিদেশিদের জন্য সরকার নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করায় তারা আগের চেয়ে বেশি নিরাপদ বোধ করছেন। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে আরো কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে।’

বেসরকারি বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন জাগো নিউজকে বলেন, দুটি হত্যাকাণ্ডই দুঃখজনক। রহস্যজনকও বটে। বাংলাদেশকে বহির্বিশ্বের কাছে জঙ্গিরাষ্ট্র বানাতেই বিরোধী পক্ষ এমন ষড়যন্ত্র করছে। হত্যাকাণ্ড দুটির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে তড়িৎ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে, সেটাই আমাদের অবাক করেছে।

মেনন বলেন, সরকার বিদেশিদের নিরাপত্তা দিতে সদাপ্রস্তুত। চলমান শঙ্কা দ্রুত কেটে যাবে। অচিরেই এই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটিত হবে, যা কূটনীতিকদের আশ্বস্ত করবে বলে মনে করি।

শেয়ার করুন