আজ শনিবার, জুলাই ২৪, ২০২১ | ৮ শ্রাবণ, ১৪২৮

শিরোনাম

কপাল পুড়ছে নদীতীরবর্তী মানুষের

সুনামগঞ্জের সুরমার ভয়াবহ ভাঙ্গনে বিলিন সব

প্রকাশিত: বুধবার, ডিসেম্বর ৩০, ২০২০


সুনামগঞ্জের সুরমার ভয়াবহ ভাঙ্গনে বিলিন সব

তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ, সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জে বিভিন্ন উপজেলায় সুরমা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গনে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনাসহ ঘরবাড়ি, ফসলী জমি, রাস্তাঘাট, মসজিদ, হাট-বাজার, গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে প্রতিনিয়িতই। নদী ভাঙনের কবলে পড়ে বসতভিটা হারিয়েছেন অনেকে অনেক পরিবার। কোনো কোনো এলাকার মানচিত্র পাল্টে যাচ্ছে। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে তীরবর্তী বাসিন্ধাদের কপাল পুড়ছে। তবে দু’একটি জায়গা ছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এ ব্যাপারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে জানান স্থানীয়রা।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জেলা বিভিন্ন উপজেলায় ভাঙ্গন কবলিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে প্রকল্প প্রেরণ করা হয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে বরাদ্দ এলে কাজ শুরু হবে। তবে সেই বরাদ্দ কবে আসতে পারে তা জানা যায়নি। সুরমা তীরবর্তী পূর্ব ইব্রাহিমপুর পার্শ্ববর্তী গ্রাম জগন্নাথপুর, মইনপুর, ধারারগাঁও এলাকার হালুয়ার ঘাটের কিছু অংশে, ব্রাহ্মণগাঁও, নতুন ব্রাহ্মণগাঁও, আমবাড়ি বাজার, আদার বাজার, হরিনাপাটী এলাকায় ভাঙ্গন অব্যহত রয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে জানান স্থানীয়রা। মোহনপুর ইউনিয়নের পৈন্দা এলাকায় নদী ভাঙন চলছে দীর্ঘদিন ধরে। 

ভাঙ্গা ঘরের মেঝেতে বসে গল্প করছিলেন দোয়ারা বাজারের পূর্ব মাছিমপুর গ্রামের বয়োবৃদ্ধ তিন মহিলা স্নেহলতা দাস, কমলা রানী দাস আর সুনীতি রানী দাস। এক এক করে শুনাচ্ছিলেন নিজের দুর্দশার কথা। সুরমা নদী ভাঙ্গন বাড়তে বাড়তে এখন তাদের বসত ঘরের ভেতরে এসে হানা দিয়েছে। ঘরের অর্ধেক অংশ ভেঙ্গে ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েগেছে। এখন বাকিটুকুও বিলীন হওয়ার অপেক্ষায়। বিল্ডিং ঘরের পাকা মেঝেতে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। অনেক কষ্টে উপার্জিত টাকায় বানানো নিজের এই ঘরে এখন আর কেউই থাকছেন না ভয়ে। বসতঘর, ভিটেমাটি হারানোর প্রস্তুতি নিয়ে নিয়েছেন তারা। ঘরের চালার টিনসেড, মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন। মাছিমপুর, পশ্চিম মাছিমপুর, নৈনগাঁও, মাঝের গাঁও, মুরাদপুর এবং মংলার গাওয়ের প্রায় শতাধিক পরিবার সুরমা নদীতে নিজেদের বসতঘর, ভিটেমাটি, ফসলিজমি ও গাছগাছালি হারিয়ে এখন বেছে নিয়েছে উদ্বাস্তুর জীবন। সুরমা নদীর করালগ্রাসে ভেঙ্গে চুরমার হয়েগেছে এসব পরিবারের সাজানো স্বপ্নের ঘর-সংসার। ভিটেমাটি হারিয়ে ভূমি না পেয়ে অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন পরিত্যক্ত বৃটিশ সড়কে। সন্তান সন্ততি নিয়ে সুন্দর ভাবে বেচেঁ থাকতে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক, সরকারের কাছে এমনটাই দাবি নদী ভাঙ্গনে উদ্বাস্তু ভূমিহীন এসব অসহায় পরিবারের। 

ধর্মপাশা উপজেলার বাবুপুর বাজারের একাংশ নদীতে চলে গেছে। এই ভাঙনের কবলে পড়ে প্রায় ২০টি দোকার ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নুরপুর গ্রামের অনেক বাড়িঘর ও গাছপালা বিলীন হয়ে গেছে। গোলকপুর বাজারে ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে, শারিফপুর এলাকার এবং ইসলামপুর এলাকার অসংখ্য ঘরবাড়ি বিলিন হয়েছে। ভয়াবহ এই নদী ভাঙন প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানান স্থানীয়রা।

জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনাবাজারের আশপাশ এলাকা, জামলাবাজ, তেলিয়া গ্রাম, নুরপুর, রামনগর, কামলাবাজ, নয়াহালট, রামপুরসহ বেশ কয়েকেটি গ্রামের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। এসব ভাঙনের কবলে পড়ে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এই এলাকার নদী ভাঙন প্রতিরোধে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলে জানান স্থানয়িরা। তবে ইতো মধ্যে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী বিশ্বজিত দেব বেশ কয়েকটি গ্রামের ভাঙ্গন কবলিতদের তালিকা প্রণয়ন করেছেন যা সরকারী নিয়ম অনুযায়ী ঘরভাঙ্গা পরিবারে প্রকল্প করে ঘর তৈরী প্রস্তাবনায় রয়েছে।

দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া সুলতানা জানান, দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের নদী ভাঙ্গন কবলিত এই কয়েকটি গ্রামের অবস্থা খুবই করুণ। যাদের ঘর নেই কিন্তু খাসজমিতে বসবাস করে আসছে তাদেরকে খাসজমি বন্দোবস্তসহ ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে। কিন্তু সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী উপজেলা সদরের এক কিলোমিটারের মধ্যে খাসজমি বন্দোবস্ত করার নিয়ম না থাকায় সদর ইউনিয়নের ক্ষতগ্রস্ত কয়েকটি গ্রামের মানুষজনকে ঘর দেওয়া যাচ্ছে না। সদরের বাইরে ঘর নির্মাণ উপযোগী খাসজমি পাওয়া গেলে সেখানে তাদেরকে খাসজমি বন্দোবস্তসহ ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে।

জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিত দেব বলেন, জামালগঞ্জ অংশের নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শনকরে তাদের তালিকা তৈরী করছি। বরাদ্ধ পেরেই সরকারী নিয়ম অনুয়ায়ী তাদের পর্নবাসরে ব্যবস্থা করা হবে। 

রাষ্ট্রীয় সফরে রাশিয়া গেলেন নৌপ্রধান

রাষ্ট্রীয় সফরে রাশিয়া গেলেন নৌপ্রধান

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে হাড়িভাঙা আম পাঠালেন শেখ হাসিনা

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে হাড়িভাঙা আম পাঠালেন শেখ হাসিনা

ভারতের মহারাষ্ট্রে ভূমিধসে নিহত ৩৬

ভারতের মহারাষ্ট্রে ভূমিধসে নিহত ৩৬

পাকিস্তানে করোনা শনাক্ত ১০ লাখ ছাড়াল

পাকিস্তানে করোনা শনাক্ত ১০ লাখ ছাড়াল

হাসপাতালে ভর্তি ৮৫ ডেঙ্গু রোগী

হাসপাতালে ভর্তি ৮৫ ডেঙ্গু রোগী

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের ওপর হামলা : ১০ জন গ্রেপ্তার

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের ওপর হামলা : ১০ জন গ্রেপ্তার

প্রয়োজন ছাড়া বের হলেই মামলা ও জরিমানা

প্রয়োজন ছাড়া বের হলেই মামলা ও জরিমানা

টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

পদ্মা সেতুর পিলারের সঙ্গে ফেরির ধাক্কা, ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি

পদ্মা সেতুর পিলারের সঙ্গে ফেরির ধাক্কা, ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি

দু’দিনে বাজার মূলধনে ফিরল ১০ হাজার কোটি টাকা

দু’দিনে বাজার মূলধনে ফিরল ১০ হাজার কোটি টাকা

চামড়া শিল্প রক্ষায় সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে : ন্যাপ

চামড়া শিল্প রক্ষায় সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে : ন্যাপ

পশ্চিমবঙ্গে পরিশোধিত পানিতে ধোয়া হচ্ছে রেলের কোচ

পশ্চিমবঙ্গে পরিশোধিত পানিতে ধোয়া হচ্ছে রেলের কোচ

ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলায় যুবক কারাগারে

ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলায় যুবক কারাগারে

ভারতে কমেছে করোনায় মৃত্যু-সংক্রমণ

ভারতে কমেছে করোনায় মৃত্যু-সংক্রমণ

বিদেশ যাত্রীদের জন্য অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান উড়বে

বিদেশ যাত্রীদের জন্য অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান উড়বে

জিম্বাবুয়ে থেকেই শুনলেন বাবা হারানোর দুঃসংবাদ

জিম্বাবুয়ে থেকেই শুনলেন বাবা হারানোর দুঃসংবাদ

সিলেটে কাঁচামরিচ ৪০০ টাকা কেজি

সিলেটে কাঁচামরিচ ৪০০ টাকা কেজি

তাইওয়ানে হস্তক্ষেপের শঙ্কায় জাপানকে হুমকি দিল চীন

তাইওয়ানে হস্তক্ষেপের শঙ্কায় জাপানকে হুমকি দিল চীন

জার্মানির জালে ব্রাজিলের ৪ গোল

জার্মানির জালে ব্রাজিলের ৪ গোল

হারে শুরু আর্জেন্টিনার অলিম্পিক

হারে শুরু আর্জেন্টিনার অলিম্পিক

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ জিয়াউল হক
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ ছাদেকুর রহমান
প্রকাশকঃ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ

বার্তা বিভাগ মোবাইল: +88 016 01 22 45 45
বাণিজ্য বিভাগ মোবাইল: +88 017 88 445 222

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৩/২, আউটার সার্কুলার রোড, প্রশান্তি হাইটস, স্যুট # এ-৪ (পঞ্চম তলা), রাজারবাগ, ঢাকা-১২১৭ থেকে প্রকাশিত।

ই-মেইল: muktomonnews24@gmail.com
ই-মেইল: muktomontv@gmail.com


© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | মুক্তমন এসএসএস লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান | About Us | Privacy Policy