আজ বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ২৮, ২০২১ | ১৪ মাঘ, ১৪২৭

শিরোনাম

ছোট গল্প : বোধ

প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ৭, ২০২১


ছোট গল্প : বোধ

ফাবিহা ফেরদৌস : ক্লাসের এক কর্ণারে বসে ঝিমুচ্ছিলাম হঠাৎ স্যারের ধমকে চমকে উঠলাম। আশেপাশের সবাই সেটা দেখে হেসে উঠল। স্যার বললেন,
সারারাত কি প্রেমালাপ করেছিলে যে দিনের বেলা ক্লাসে এসে ঘুমাচ্ছো!
কথাটা শুনে মাথা নিচু করে ফেললাম।
নিচু স্বরে ই বললাম স্যার আমার নিজের কোন ফোন নেই! বাবা আর ভাইয়ের ফোনে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করি।
যদিও মনে হল স্যার কথাটা বিশ্বাস করেননি।
ঘড়িতে দুপুর একটা বেজে দশ মিনিট। আমি খাতা পত্র গুছিয়ে বললাম স্যার আমাকে যেতে হবে। আমার এমন কথা শুনে অনেকটা রেগে গেলেন। রেগে গিয়ে ই বললেন
ফাজলামি পেয়েছো নাকি! যখন ইচ্ছা আসবে যখন ইচ্ছা যাবে! আবার ক্লাসে বসে ঘুমাবে।
আমি আবারো মাথা নিচু করে চলে যাওয়ার এপ্লিকেশনটা হাতে নিয়ে স্যারের কাছে দিলাম। স্যার দেখেও না দেখার ভান করে রেখে দিলেন। আমি ক্লাস থেকে চলে আসলাম।
এমনিতে ২০ মিনিট পার হয়ে গেছে মায়ের ঔষধের টাইম চলে গেছে। তার মাঝে আবার এক ঘন্টার ভিতরে ডায়ালাইসিসের জন্য নিয়ে যেতে হবে ভাইয়া বাড়ি নেই।
বাবা মাকে একা সামলাতে পারবেন না।
গতকাল রাতে মায়ের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যায়। একে তো প্যারালাইসিস তার সাথে কিডনিতে সমস্যা। বাবার মুখের দিকে তাকানো যায় না আজকাল।
ভাইয়া অনেক দিন পর একটা চাকরির আশায় শহরের বাইরে গেছে।
গতরাতে ভাইয়ার ব্যাগ গুছানো মায়ের দেখাশুনা করতে করতে রাত তিনটা বেজে যায়।
রাত তিনটা পনেরোর দিকে বাবা মেয়ে মিলে খেতে বসি। খাবার সামনে নিয়েও মনে হচ্ছিল বাবা খেতে পারছে না।
আজ অনেক দিন পর শিং মাছের ঝুল রান্না করেছি মায়ের খুব পছন্দের এটা যদিও মায়ের মত এত ভালো পারিনা আমি।
প্লেটে শুধু হাত নাড়ছিলেন বাবা প্রত্যেকবার শিং মাছ রান্না করলে মা সহ আমরা সবাই একসাথে বসে খেতাম। আজ মা বসেনি বিছানায় একপাশে শুয়ে আছে।
পাঁচটায় ভাইয়ার ট্রেন খাওয়ার শেষ করে রুমে যেতে ই ভাইয়া আসলো রুমে।
হালকা সুরে বলল
বাবার রুম থেকে বাবার পুরনো সু-জোড়া এনে দিতে পারবি! চাকরির জন্য মিটিং তো একটু রেডি হয়ে যেতে ই হয়।
আমি একটু মলিন মুখে হেসে বাবার সু জোড়া এনে দিলাম। টিউশন করে যা পায় তাতে নিজের পড়ার খরচ সহ ঘরের টুকিটাকি কাজে সবকিছু চলে যায়। নিজের জন্য ভালো কাপড়চোপর বা নতুন কিছু কেনার মত সুযোগ ই পায়নি ভাইয়া।
বাবা নিজের খুব অল্প আয় দিয়ে সংসার চালান সাথে এখন মায়ের চিকিৎসার খরচ! বাবার জমানো টাকাগুলো দিয়ে ই এখন চিকিৎসা চলছে।
কলেজের বিভিন্ন অনুষ্টানে আমি এক ই বোরখা পড়ে যেতাম বান্ধবীরা সবাই মিলে এক রকম ড্রেস বানাতো। আমাকে বললে আমি বরাবর ই না করতাম বলে তারা এরপর থেকে আমাকে এসবে যোগ করা বন্ধ করে দেয় সাথে কিপ্টা নামক শব্দটা এড করে।
তাতেও আমার বলার কিছু ছিল না কারণ কেউ কারো অবস্থা বুঝবে না একমাত্র ওই উপরওয়ালা ছাড়া আর যদিও বা শোনে তাহলে তাহলে কয়েকটা স্বান্ত্বনা বাক্য আর করুনা ছাড়া আর কিছু মিলে না মানুষের কাছ থেকে।
একদিকে পড়ালেখা একদিকে ঘরের কাজ আর রান্নাবান্না মায়ের দেখাশোনা সব মিলিয়ে যেন চোখ মেলে আশেপাশে তাকানোর সময় ছিল না।
২য় বর্ষের ফাইনাল পরিক্ষা দিয়ে বাসায় আসতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেল!
খুব ক্ষুধা লেগেছে যাওয়ার সময়ও ভালো করে কিছু খেতে পারিনি।
বাসায় গিয়ে ভাত রান্না করে তারপর খেতে হবে তার আগে বাবাকে চা করে দিতে হবে মাগরিবের নামাজের পর চা খান।
তাড়াহুরু করে ঘরে ঢুকে কাপড় বদলে রান্নাঘরে গিয়ে ই দেখি বাবা ভাত তরকারি নিয়ে টেবিলে বসে আছে আমার অপেক্ষায়। আমি তাকিয়ে আছি। বাবা বললেন,,
জানি তো খুব ক্ষিদে লাগবে তোর যাওয়ার সময়ও খাস নি ভালো করে দেখেছি। আর বাইরে থেকে কিছু কিনে খাওয়ার মত মেয়ে তুই না আর কিভাবেই বা খাবি টাকা ই তো আমি দেই একদম হিসেব করে! এত হিসেবে কি আর বাইরে খাওয়া যায়!
মন খারাপ করিস না আজ তোর মা সুস্থ থাকলে এভাবে এত কষ্ট করতে হত না তোকে। একটা মাত্র মেয়ে তার জন্যেও ভালো কিছু করতে পারছি না আমি।
বাবার কথাগুলো শোনে খুব খুব খারাপ লাগছিল মনে। বাবাকে জড়িয়ে ধরে বললাম বাবা সব মেয়ে বাবার কাছ থেকে এই আদরটা ই বা আর কই পায়!! ভাগ্য করে এসেছিলাম বলে তো এমন বাবা পেয়েছি যে এভাবে আমার জন্য সবকিছু রেডি করে বসে আছে মেয়ের অপেক্ষায়।
মেয়ে খাবে বলে!!
বলতে ই কান্না করে দিলাম।
খাওয়া শেষ করে চা বানিয়ে বাবার হাতে তুলে দিতে ই দেখি বাবার হাত অনেকটা পুড়ে গেছে। আমি তাড়াতাড়ি করে মলমটা লাগিয়ে দিয়ে বললাম আর যেন এভাবে রান্না করা না হয়।
মেয়ে বড় হয়েছে সব সামলাতে পারে সে।
রাতে মায়ের আবার খুব শরীর খারাপ হল! চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছেন যেন সবাইকে ভালো করে দেখছেন।। বার বার বমিও করছিলেন। বাবা আর আমি মায়ের পাশে বসে আছি মা বাবাকে কিছু একটা বলতে গিয়েও যেন বলতে পারলেন না সবকিছু ছেড়ে মা চলে গেলেন ওপারে। সুস্থ না হোন মা বলে কেউ একজন তো পাশে ছায়ার মত ছিল মা বলে ডাকার মত তো মানুষ ছিল।
বিধাতা সেই ছায়াটুকুও নিজের কাছে নিয়ে নিলেন।
জানাজার কিছু আগে ভাইয়া মিষ্টি হাতে বাড়ি পৌছলেন।
আজ ভাইয়ার এত খুশির দিনেও মাকে শেষ দেখা দেখে যেতে পারলেন না। ভাইয়া বার বার আফসোস করছিলো।
আজ যখন নতুন দিন ফেরার পথে আমাদের মা চলে গেলেন সব ছেড়ে।
সেই চার বছর আগের কথা আজ হঠাৎ সবকিছু মনে পড়ে গেল ফার্মেসিতে ঔষধ গুলো হাতে নিতে ই।
ছেলে আয়ানের জন্য মেডিসিন নিতে এসে পাশের একজনকে দেখলাম সেই পুরনো চেনা ঔষধ কিনে নিয়ে যাচ্ছে।
ঔষুধ কিনে তাড়াতারি বাসায় ফিরলাম।
আদিব সন্ধ্যা পর চলে আসবে ও বড় মাছ খেতে পারে না অন্যকিছু রান্না করতে হবে।
বাসায় ঢুকতে ই শোনলাম মায়ের রুমে কেউ একজন কথা বলছে।
কাপড় চেঞ্জ করে রান্নাঘর থেকে গরম পানি নিয়ে তাতে লবণ মিশিয়ে মায়ের মানে আমার শাশুড়ির পা ধুয়ে পরিষ্কার করে দিতে হয়। সাথে তিনবেলা ভেজিটেবল স্যুপ আর খিচুরি টাটকা নতুন রান্না করে খাওয়াতে হয় শরীর খুব বেশি দূর্বল উনার।
রান্নাঘর থেকে ই শুনতে পেলাম পাশের বাসার চাচি বলছেন!
এই বয়সে কে ই বা আর যত্ন করবে! ঘরে চাকরি করা বউ কি আর এসবে এত হাত দিবে অনেক সময় তো ইচ্ছা করে দূরে থাকবে কাজ কাজ বলে।
মা কিছু ই বলছেন না। পিছনে আমি গরম পানি হাতে দাড়িয়ে ছিলাম। মাকে নামিয়ে তোয়ালে আনতে গেলাম। তখন ই মা বললেন,,
হ্যা আমি বউ আনিনি ঘরে একটা মেয়ে এনেছি। ভাবেন তো আপনি এই অফিস থেকে ফিরে কোন বউ এভাবে শাশুড়ির যত্ন করে! করে তো আপন ভাবা মেয়েরা!
বলে ই মা কাশতে লাগলেন।
আসলে আমাদের আশেপাশে এরকম মানুষের অভাব নেই যারা সংসারে ভালো পরামর্শের বদলে খারাপ ভাবনা গুলো ঢুকিয়ে দিতে ওস্তাদ।
আমি আমার মত ই কাজ করছিলাম। উনার সাথে কথা বলার তেমন একটা ইচ্ছাও নেই আমার। ওই চাচির ফোনে ই কল আসল কথায় বুঝা গেল কোন খারাপ সংবাদ কেউ একজন মারা গেছেন।
ফোন রাখতে ই বললেন
বাঁচলো আমার মেয়েটা ঘাড় থেকে আপদ টা শেষ হল । এত জ্বালিয়েছে আমার মেয়েটাকে.......
বুঝলাম উনার মেয়ের শাশুড়ি মারা গেছেন।
তখন ই বললাম আসলে জানেন আমাদের সমস্যা টা কোথায়?
আমরা শিখতে পারিনা বুঝেও অনেক জিনিস বুঝিনা। আমি আমার মাকে খুব বেশি দিন হয়নি হারিয়েছি আমার মাকেও আমি ততটুকু যত্ন করতাম যতটুকু আজ আমার শাশুড়িকে করি।
আমি আমার মায়ের অসুস্থতা থেকে বুঝতে শিখেছি একটা মা অসুস্থ মানে একটা ঘর অন্ধকার একটা পরিবার অর্ধেক দূর্বল।
সেখান থেকে ই আজ আমার এই শিক্ষা!!
আসলে সত্যি আমরা মেয়েরা বুঝিনা আমাদের বোধ শক্তিটা খুব দূর্বল হয়ে যায় এই জায়গায়। পরিবার মানে দুটো ই নিজের সেই মানুষগুলোও আপন। শুধু সঠিক জিনিসটা অনেক সময় বুঝেও এড়িয়ে যাই অনেক সময়।
তবে সবাই এক না সবার ক্ষেত্রে সমান না। সমাজে ভালো যেমন আছে খারাপ লোকও আছে।
চাওয়া থাকে শুধু একটা ই সঠিক শিক্ষা আর একটু বুঝার মত মন মানসিকতা উভয়পক্ষে থাকতে হবে।

নারীকে অধিকার প্রদানে ইসলামের অবস্থান

নারীকে অধিকার প্রদানে ইসলামের অবস্থান

সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে তারুণ্যের প্রচেষ্টা ফাউন্ডেশন

সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে তারুণ্যের প্রচেষ্টা ফাউন্ডেশন

টিকাদান কর্মসূচির সফলতায় আন্তরিকতার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

টিকাদান কর্মসূচির সফলতায় আন্তরিকতার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জট খুললো ৪০ তম বিসিএস পরীক্ষার

জট খুললো ৪০ তম বিসিএস পরীক্ষার

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি’র উপাচার্যের জন্মদিনে দোয়া

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি’র উপাচার্যের জন্মদিনে দোয়া

মানব সম্পদ উন্নয়নে উচ্চ শিক্ষার ভূমিকা

মানব সম্পদ উন্নয়নে উচ্চ শিক্ষার ভূমিকা

হিঙ্গুলী ইউনিয়ন এ ক্রিকেট ইভেন্ট ফাইনাল সম্পন্ন

হিঙ্গুলী ইউনিয়ন এ ক্রিকেট ইভেন্ট ফাইনাল সম্পন্ন

সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজিজুল হক আর নেই

সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজিজুল হক আর নেই

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড সমঝোতা চুক্তি

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড সমঝোতা চুক্তি

২৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বছর পেরিয়ে পায়নি বিজয় ফুল উৎসবের সরকারি অর্থ

২৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বছর পেরিয়ে পায়নি বিজয় ফুল উৎসবের সরকারি অর্থ

আজিজ ব্রিক ফিল্ড এর হুমকির মুখে কয়েকটি গ্রাম

আজিজ ব্রিক ফিল্ড এর হুমকির মুখে কয়েকটি গ্রাম

কোনোভাবেই মানা হচ্ছে না নদী খননের নিয়মনীতি

কোনোভাবেই মানা হচ্ছে না নদী খননের নিয়মনীতি

ধানের দাম বেশি থাকায় কৃষকদের মুখে তৃপ্তির হাসি

ধানের দাম বেশি থাকায় কৃষকদের মুখে তৃপ্তির হাসি

পাহাড়তলীর অবহেলিত মানুষের পাশে থাকতে চান ওয়াসিম

পাহাড়তলীর অবহেলিত মানুষের পাশে থাকতে চান ওয়াসিম

নরসিংদীর মেয়ে ফারাহ বাইডেন প্রশাসনে

নরসিংদীর মেয়ে ফারাহ বাইডেন প্রশাসনে

৭০০০ কপি গাছ নিয়ে বিপাকে কৃষক

৭০০০ কপি গাছ নিয়ে বিপাকে কৃষক

ভারমুক্ত হলেন আমিনুল হক বাদল

ভারমুক্ত হলেন আমিনুল হক বাদল

এরশাদবিরোধী আন্দোলনের মতো করে কর্মসূচি : মান্না

এরশাদবিরোধী আন্দোলনের মতো করে কর্মসূচি : মান্না

ঢাকায় ছুরিকাঘাতে নিহতের পরিচয় পাওয়া গেছে

ঢাকায় ছুরিকাঘাতে নিহতের পরিচয় পাওয়া গেছে

আসলেই কি নতুন ভবন ও নান্দনিক পার্ক পাচ্ছে তিতুমীর ?

আসলেই কি নতুন ভবন ও নান্দনিক পার্ক পাচ্ছে তিতুমীর ?

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ জিয়াউল হক
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ ছাদেকুর রহমান
প্রকাশকঃ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ

বার্তা বিভাগ মোবাইল: +88 016 01 22 45 45
বাণিজ্য বিভাগ মোবাইল: +88 017 88 445 222

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৩/২, আউটার সার্কুলার রোড, প্রশান্তি হাইটস, স্যুট # এ-৪ (পঞ্চম তলা), রাজারবাগ, ঢাকা-১২১৭ থেকে প্রকাশিত।

ই-মেইল: muktomonnews24@gmail.com
ই-মেইল: muktomontv@gmail.com


© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | মুক্তমন এসএসএস লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান | About Us | Privacy Policy