আজ মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১৯, ২০২১ | ৫ মাঘ, ১৪২৭

শিরোনাম

রিয়াদ আহম্মদ ভূঁঞার ছোট গল্প

বাসর

প্রকাশিত: বুধবার, জানুয়ারী ১৩, ২০২১


বাসর

রিয়াদ আহম্মদ ভূঁঞাঃ


'আপনার কি পর্নাসক্তি ছিলো বা আছে?'
কনে দেখতে এসে এধরণের প্রশ্নের সম্মুখীন হয়তো এর আগে কখনো কাউকে হতে হয়নি। আমিও কিছুটা ঘাবড়ে গেলাম তানহার এমন প্রশ্নে। পাশে থাকা মুরব্বিরাও একে অপরের দিকে হতবাক হয়ে তাকাচ্ছিলেন। এবার নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়ে বললাম,
- আলহামদুলিল্লাহ্, আমার এধরণের কোন আসক্তি ছিলোনা। নেইও।
- আপনি কি বিয়ে পরবর্তী স্ত্রীর সবধরনের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ?
- জ্বী। ইনশাআল্লাহ্ আমি আমার স্ত্রীর সবধরনের অধিকার সুনিশ্চিত করবো। তাঁর যাবতীয় হক আদায় করার সর্বাত্মক চেষ্টা করবো।
- আলহামদুলিল্লাহ্। আমি সম্মতি দিচ্ছি।
শ্বাসরুদ্ধকর এই কথোপকথন অতিবাহিত হওয়ার পর যখন তানহা বিয়েতে সম্মতি দিলো তখন সবাই যেনো হাফ ছেড়ে বাঁচলো। সকলেই সমস্বরে বলে উঠলো, 'আলহামদুলিল্লাহ্। এবার তাহলে বিয়ের দিনক্ষণ পাকাপাকি করে ফেলা যাক।'
কনে দেখতে গিয়েছিলাম শাবান মাসের পাঁচ তারিখ। বিয়ের দিন ধার্য করা হলো একই মাসের বারো তারিখ। সাত তারিখ মাগরিবের নামাজের পর মুঠোফোনে একটা কল এলো। হবু শশুরের ফোন। রিসিভ করলাম।
- আসসালামু আলাইকুম।
- ওয়ালাইকুমুসসালাম।
- কেমন আছেন?
- আলহামদুলিল্লাহ্ ভালো। তুমি?
- জ্বী আলহামদুলিল্লাহ্।
- কিছু বিষয়ে কথা বলার ছিলো। সময় হবে তোমার?
- জ্বী বলুন। অসুবিধে নেই।
- আসলে, বিয়ের তো বেশিদিন নেই আর। যেহেতু আমার উপযুক্ত কোন ছেলে সন্তান নেই আর আমার ভাইও ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত তাই সবধরনের আয়োজন আমার একাই সামাল দিতে হবে। তানহার আম্মার সাথে দুপুরে পরামর্শ করেছিলাম। বললো, তোমার সাথে কথা বলে নিতে।
- হ্যা, বলুন আপনার যা যা বলার আছে।
- আমাদের তো ছোটখাটো আয়োজন করতে হবে। তোমরা কতজন আসবে সেটা যদি জানাতে তাহলে তদনুযায়ী সবকিছু করতাম।
- দেখুন, বরপক্ষ কর্তৃক দলবল নিয়ে গিয়ে কনের বাড়িতে খানাপিনা করার কোন রীতিনীতি আমাদের ইসলাম ধর্মে নেই। বরঞ্চ, এটাও কনের অভিভাবকদের প্রতি একধরণের জুলুমের শামিল। আমাদের সংখ্যাটা দশ-পনেরো জনের বেশি হবেনা সেই আশ্বাস দিচ্ছি। এরপরও রাতে বাড়িতে কথা বলে আপনাকে জানবো।
- আচ্ছা ঠিক আছে।
রাতে বাড়ি ফিরে আব্বা আম্মাকে নিয়ে বসলাম। আব্বাকে তাঁর মতামত জানাতে বললে তিনি বললেন,
- আমি পুরনো দিনের মানুষ। এতকিছু বুঝিনা। তোকে লেখাপড়া করিয়েছি, তুই ভালো বুঝবি কি করে কি করবি। তবে যাই করিস আমাকে আগে থেকে জানাস। এতেই আমি খুশি।
আব্বার স্বরে স্বর মিলিয়ে আম্মাও একই কথা বললেন। বুঝতে পারলাম, তাঁদের সামনে আমার পরিকল্পনা পরিষ্কার করা দরকার। বললাম,
- আমরা তিনটি গাড়ি নিয়ে যাব। একটিতে দু-চার জন মহিলা ও তাঁদের শিশুরা থাকবেন। আরেকটিতে আমার কজন লোক থাকবে। বাকিটায় আমি আর আমার বোন, ভাতিজী থাকবো। এই ক'জনই। সবমিলিয়ে প্রায় পনেরো জনের মতো হবে। এর বেশি লোক নিয়ে যেতে চাইনা। যত কম লোক যাওয়া যায় ততোই ভালো।
কথাগুলো শুনে তাঁরা দুজন একে-অপরের দিকে তাকালেন। তারপর আব্বা বললেন,
- আচ্ছা ঠিক আছে। সেটাই হবে।
বললাম,
- আব্বা, আপনি ঠিক করুন অলিমার দিন কতোজনকে দাওয়াত দিতে চান। মোটামুটি একটা তালিকা করিয়ে নিবেন রেহনুমাকে দিয়ে। এরপর পুরো তালিকা ঠিক করে আপনাকে নিয়ে বসব।
আলাপ শেষ করে বাইরে গিয়ে ফোন দিলাম আব্দুর রহমান সাহেবকে। রিসিভ করেই সালাম দিলেন। সালাম বিষয়টাই এমন। অপেক্ষা করতে নেই যে, যেহেতু আমি বড় সেহেতু ছোট যে সেই আগে সালাম দিক। আমি জবাব দিয়ে বললাম,
- আমরা প্রায় পনেরো-সতেরো জন হবো। ড্রাইভারদের নিয়ে বিশ জনের আয়োজন করলেই হবে। এর বেশি না।
তিনি আমার কথায় হাসলেন। বললেন,
- সাথে আসা ড্রাইভাররাও আমাদের অতিথি হবে ইনশাআল্লাহ্। তুমি সেদিকটা খেয়াল রেখেছ আমার খুব ভালো লেগেছে।
- এখন তাহলে রাখছি। আর অলিমার দিন আপনারা কতজন আসতে পারেন সেটার একটা ধারণা আমাকে দিবেন। আমি অপেক্ষায় থাকবো। ব্যবস্থাপনার জন্য ধারণাটা দরকার হবে।
- হ্যা, অবশ্যই জানাবো।
ফোন রেখে দিলাম। রাতে বিছানায় শুয়ে ফেসবুক ঘাটাঘাটি করছি এমন সময় মনে হলো, কেমন হয় যদি সার্চ করে দেখি তানহা তাসনিমের রিয়েল আইডি পাওয়া যায় কিনা! যেই ভাবা সেই কাজ। সার্চ করে বেশ কয়েকটা আইডি পেলাম যেগুলো নামের সাথে সাদৃশ্যতা রয়েছে। সেগুলোর থেকে একটি পেলাম ফুলের ছবি। মনে হলো এটাই। টাইমলাইন ও এবাউট চেক করতে গিয়ে ধারণার সত্যতা পেলাম। হোম টাউন, স্টাডিস ইত্যাদির বিবরণী দেখে বিষয়টা পরিষ্কার হলো। আর এগোলাম না। মেসেজও দিলাম না। ফিরে এলাম। এটাই মঙ্গলজনক মনে হলো।
দেখতে দেখতে বিয়ের দিন চলে এলো। যথারীতি তিনটি গাড়ি নিয়ে আমরা ষোলজন মানুষ রওয়ানা হলাম। ড্রাইভারদের নিয়ে সংখ্যাটা উনিশ হবে তথাপি বিশ জনের বেশি লোক নিয়ে আমরা যাইনি। কাজী সাহেব দুজনের ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি চাইলেন। এগুলো পূর্বেই প্রস্তুত করে রাখা ছিলো। দেয়ার পর মোহরানা কতো হবে সেটা ঠিক করতে যখন দুপক্ষের মুরব্বিদের মাঝে কথাবার্তা শুরু হলো তখন বললাম,
- মোহরানা কতো হবে সেটা বলবেন কনে নিজে। তাঁর চাওয়া অনুযায়ী সেটা নির্ধারণ হবে। কনের অভিভাবকদের কেউ তাঁর থেকে এটি জেনে আসলে ভালো হয়।
কথা শুনে কনের চাচা বললেন,
- ঠিক আছে। আপনারা বসুন। আমি জেনে আসছি।
তিনি চলে গেলেন। এদিকে উপস্থিত প্রতিবেশীদের মাঝে বিষয়টি নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়ে যায় যা আমার নজর এড়ায়নি। কিন্তু তখন কিছু বলার মতো উপযুক্ত সময় ও পরিবেশ নেই ভেবে চুপ করেই রইলাম।
মিনিট পাঁচেক পর কনের চাচা ফিরে এলেন। বললেন,
- আমার ভাতিজী বলেছে, সে মোহরানা হিসেবে দু'লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা চায়। এতে সম্মতি থাকলে তার আর কিছু বলার নেই। আর যদি এই পরিমাণটি পাত্রের কাছে কষ্টসাধ্য হয় তবে যেনো আমি আবারো তার কাছে যাই।
আমি বললাম,
- আলহামদুলিল্লাহ্। আপত্তি নেই। কাজ এগিয়ে নেয়া যাক।
অবশেষে, দু'লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা দেনমোহরে আমাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
বিয়ের প্রথম রাত নিয়ে হাজার রকমের রঙ বেরঙের স্বপ্ন থাকাটা দোষের কিছু নয়। তবে, এনিয়ে ভুল ধারণা ও প্রস্তুতি থাটাকা অবশ্যই দোষের। আমি বিষয়গুলো সম্বন্ধে অবগত হলাম। জানার মধ্যে লজ্জা নেই বরং, না জেনে পশুর মতো হয়ে যাওয়াতে লজ্জা ও নিন্দা রয়েছে।
সুসজ্জিত বাসরঘরটি সুগন্ধিতে মৌ মৌ করছে। বিছানায় বসা স্বপ্নের সেই রাণী যাঁকে পবিত্র বিবাহের মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে আমার জন্য হালাল রূপে পেলাম। আজ থেকে তাঁর উপর যেমন রয়েছে আমার অধিকার তেমন রয়েছে বহু দায়িত্বও। সে আমার অর্ধেক। আমি তাঁর অর্ধেক। সে আমার বস্ত্র। আমি তাঁর বস্ত্র। দরজা খোলার শব্দে সে যেনো আঁতকে ওঠলো। সালাম দিলাম। সুরেলা কণ্ঠে ভেসে আসলো জবাব। তবে, তাতে কিছুটা জড়তা ছিলো। থাকাটা স্বাভাবিক। বললাম,
- আমি কি সেই আমানত পেয়েছি যা আমার প্রাপ্য।
- আলহামদুলিল্লাহ্, পেয়েছেন। আমি তা আল্লাহর কৃপায় রক্ষা করেছি। যদিও এজন্য অনেক ঝড়-ঝাপটার মধ্য দিয়ে আমাকে আসতে হয়েছে।
দেনমোহরের পুরো টাকা সমেত চামড়ার ব্যাগটি তার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললাম,
- এই নাও। এতে দেনমোহরের পুরো টাকা রয়েছে। এমুহূর্ত থেকে এর উপর শুধুমাত্র একমাত্র কর্তৃত্ব তোমার। এটাকা কোথায় কিভাবে কখন খরচ করবে তার কোন হিসেব আমি চাইবো না। সে অধিকারও রাখিনা আমি।
কথাগুলো শুনে ও নিজেকে সামলাতে পারেনি। আলিঙ্গন করতে এগিয়ে আসে। আশ্রয় নেয় আসমান জমীনের মাঝে তাঁর সবচে নিরাপদ আশ্রয়স্থলে। আমার কাঁধের নিচে। বাঁ পাশে। যেখানে হৃদয়টা থাকে। ধরে থাকলাম দীর্ঘক্ষণ। ও কাঁদছে। আটকালাম না আমি। কাঁদুক। প্রিয়জনদের ছেড়ে এসেছে। বিয়োগ ব্যথায় এমন কান্নায় ভেঙে পড়া স্বাভাবিক। বলতে লাগলো,
- সবকিছুই এখন থেকে তোমার। যা যেভাবে খুশি নিতে পারো।
বললাম,
- আজ আমাদের সময় কাটবে গল্প গল্পে। তোমার মন শান্ত হওয়া দরকার।
কথা শুনে ও যেনো প্রশান্তির হাফ ছাড়লো। চাপ নিলো না। মনে পড়ে গেলো হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহির লিখা বেহেশতী জেওর কিতাবটির কথা। যেখানে তিনি লিখেছেন, বিয়ের প্রথম রাতেই স্ত্রীর সাথে যৌন মিলনে না যেতে। তিনি সাজেস্ট করেছেন, প্রথম রাতে মেয়েলোকটি ভেতর থেকে প্রিয়জনদের ছেড়ে আসার যাতনায় কাতর থাকে। নতুন পরিবেশে সে নিজেকে একাকী ভাবে। তাকে সময় দেয়া উচিৎ। তার জানা অজানা বিষয়াবলী নিয়ে কথোপকথন করা যেতে পারে। তার পছন্দ অপছন্দের বিষয়ে জানা যেতে পারে। তার শশুরালয়ের লোকেদের মন জয় করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে সহায়তা করা যেতে পারে। তার সাথে বন্ধুর মতো মিশে গিয়ে তার মনের সিংহাসন দখল করা যেতে পারে।
আমি তাই তাই করলাম। নিজেকে সামলে তাঁকে সময় দিলাম। সে আমার জন্য বেহেশতী ফুল। তাঁর ভালোমন্দের খেয়াল রাখার দায়িত্ব আমার। এর সুষ্ঠু নিবির পরিচর্যায় পরবর্তীতে আমি যখনি খুশি মধু আহরণে নিজেকে তৃপ্ত করতে অসংখ্য সময় পাবো। এরপর আমরা হাজারো বিষয় নিয়ে কথা বলি। হাসাহাসি করি। খুনসুটিতে কাটে আমাদের প্রথম রাত। অতঃপর, সুবহে সাদেকের সময় মুয়াজ্জিনের আজানের সাথে সাথে বিছানা ছেড়ে দুজনেই রবের দরবারে হাজিরা দিতে প্রস্তুতি নিতে থাকি।
দ্বিতীয় রাত :
লজ্জায় লাল হয়ে বসে থাকা তানহাকে উদ্দেশ্য করে বললাম,
- স্বামী-স্ত্রীর সহবাস দাম্পত্য জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ ও পরষ্পরায় মিলেমিশে একাকার হয়ে যাওয়ার জন্য আল্লাহর পক্ষ হতে এক অপার নিয়ামত। বুঝেছো। তবে, এক্ষেত্রে সহবাসের পূর্বে নিয়ত খালেস করে নেয়া অত্যাবশ্যক। 'অর্থাৎ, কাজটির মাধ্যমে নিজেকে হারাম পথ থেকে বিরত রাখার, মুসলিম উম্মাহর সংখ্যা বৃদ্ধি করার এবং সাওয়াব অর্জনের নিয়ত করা।'
এবার ও কিছুটা নিচুস্বরে বললো,
- হ্যা। তুমি ঠিক বলেছ। এ মর্মে হযরত আবু যার রাযি. থেকে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে, 'স্ত্রী সহবাসও সদকা। তারা বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! কেউ যদি স্ত্রী সহবাস করে এতেও কি সে সাওয়াব পাবে? তিনি বললেন, তোমরা কি মনে কর যদি সে কামাচার করে হারাম পথে তাতে কি তার গুনাহ হবে না? অনুরূপভাবে যদি সে কামাচার করে হালাল পথে তবে সে সাওয়াব পাবে। (মুসলিম ২২০১)
বললাম,
- তাহলে কি এবার নদীর সময় হয়েছে সাগরের সাথে মিলিত হবার৷
- হয়েছে। তবে নদী ও সাগরের উচিৎ এই পবিত্র মিলনের পূর্বে দু’রাকাআত নামাজ আদায় করা। যা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতার সাক্ষী হয়ে রবে।
অতঃপর আমরা নামাজে দাঁড়িয়ে গেলাম এবং মিলিত হলাম পরষ্পরায়।
এবিষয়ক কিছু হাদিস ও শরীয়াহর দিকনির্দেশনা উল্লেখ করার প্রয়োজন বোধ করছি যা আপনাদের জ্ঞানের পরিধিকে সমৃদ্ধ করবে ইনশাআল্লাহ্।
▪️ সহবাসের সময় শৃঙ্গার তথা চুম্বন, আলিঙ্গন, মর্দন ইত্যাদি করা। হাদিসে এসেছে, 'রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে আলিঙ্গন, চুম্বন ইত্যাদি করতেন।' (যাদুল মা’আদ ৪/২৫৩)
▪️ সহবাসের শুরু করার সময় দোয়া পড়া–
بِسْمِ اللّهِ اللّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَ جَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا
‘আল্লাহর নামে শুরু করছি, হে আল্লাহ! আমাদেরকে তুমি শয়তান থেকে দূরে রাখ এবং আমাদেরকে তুমি যা দান করবে (মিলনের ফলে যে সন্তান দান করবে) তা থেকে শয়তানকে দূরে রাখ।’
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, এরপরে যদি তাদের দু’জনের মাঝে কিছু ফল দেয়া হয় অথবা বাচ্চা পয়দা হয়, তাকে শয়তান কখনো ক্ষতি করতে পারবে না। (বুখারী ৪৭৮৭)
▪️ যেকোনো আসনে স্ত্রী সহবাসের অনুমতি ইসলামে আছে। মুজাহিদ রহ. نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَّكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّىٰ شِئْتُمْ (তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য ক্ষেতস্বরূপ; অতএব তোমরা যেভাবেই ইচ্ছা তোমাদের ক্ষেতে গমণ কর।)-এই আয়াতের তফসিরে বলেন, قَائِمَةً وَقَاعِدَةً وَمُقْبِلَةً وَمُدْبِرَةً فِي الْفَرْجِ ‘দাঁড়ানো ও বসা অবস্থায়, সামনের দিক থেকে এবং পিছনের দিক থেকে (সঙ্গম করতে পারো, তবে তা হতে হবে) স্ত্রীর যোনিপথে।’ ( দুররে মানছুর ১/২৬৫ তাফসীর তাবারী ২/৩৮৭-৩৮৮ মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবা ৪/২৩২)
▪️ মলদ্বারে সহবাস হারাম। কেননা, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, 'যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর মলদ্বারে সঙ্গম করে, আল্লাহ্ তার দিকে (দয়ার দৃষ্টিতে) তাকান না।' (ইবন মাজাহ ১৯২৩)
▪️ ঋতুবতী অবস্থায় সহবাস হারাম। কেননা, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, 'যে ব্যাক্তি ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সহবাস করলো অথবা স্ত্রীর মলদ্বারে সঙ্গম করলো অথবা গণকের নিকট গেলো এবং সে যা বললো তা বিশ্বাস করলো, সে অবশ্যই মুহাম্মাদ ﷺ -এর উপর নাযিলকৃত জিনিসের (আল্লাহ্‌র কিতাবের) বিরুদ্ধাচরণ করলো।' (তিরমিযী ১৩৫ আবূ দাঊদ ৩৯০৪)
▪️ একবার সহবাসের পর পুনরায় সহবাস করতে চাইলে অজু করে নেয়া মুস্তাহাব। হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, 'যখন তোমাদের কেউ নিজ স্ত্রীর সাথে সহবাস করার পর আবার সহবাস করতে চায় তখন সে যেন এর মাঝখানে ওযু করে নেয়। কেননা, এটি দ্বিতীয়বারের জন্য অধিক প্রশান্তিদায়ক।' (মুসলিম ৩০৮ হাকিম ১/২৫৪)
তবে গোসল করে নেয়া আরো উত্তম। কেননা, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, هَذَا أَزْكَى وَأَطْيَبُ وَأَطْهَرُ এরূপ করা অধিকতর পবিত্র, উত্তম ও উৎকৃষ্ট। ( আবু দাউদ ২১৯)
)
ইবন কুদামা আল মাকদেসী রহ. বলেন, 'স্বামী-স্ত্রী একে অপরের সমস্ত দেহের দিকে তাকানো, স্পর্শ করা, এমনকি যৌনাঙ্গের ক্ষেত্রেও বৈধ। কেননা, যৌনাঙ্গে মিলন হালাল। সুতরাং শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মত তা দেখা ও স্পর্শ করাও জায়েয।' (আল মুগনী ৭/৭৭)
হাশিয়াতুত দাসুকী (২/২১৫)-তে আছে, 'স্বামী-স্ত্রীর জন্য জায়েয একে অপরের সমস্ত দেহের দিকে তাকানো, এমনকি যৌনাঙ্গের দিকেও। বলা হয়, স্ত্রীর গোপনাঙ্গের দিকে তাকালে স্বামীর চোখের জ্যোতি কমে যায়-একথার কোনো ভিত্তি নেই।'

বাকলিয়ায় ছাত্রলীগ কর্মী হত্যার মূলহোতাসহ গ্রেফতার ২

বাকলিয়ায় ছাত্রলীগ কর্মী হত্যার মূলহোতাসহ গ্রেফতার ২

রাবিতে সোনালী ব্যাংকের ১২২৭তম শাখার উদ্বোধন

রাবিতে সোনালী ব্যাংকের ১২২৭তম শাখার উদ্বোধন

ধোবাউড়ায় বিএনপি নেতার শীতবস্ত্র বিতরণ

ধোবাউড়ায় বিএনপি নেতার শীতবস্ত্র বিতরণ

মিরসরাইয়ে দুটি সেতু বদলে দেবে মানুষের ভাগ্য,অর্থনৈতিক দৃশ্যপট

মিরসরাইয়ে দুটি সেতু বদলে দেবে মানুষের ভাগ্য,অর্থনৈতিক দৃশ্যপট

ঘন কুয়াশায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ

ঘন কুয়াশায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ

রাজবাড়ীর ৮ নং ওয়ার্ডে প্রতিবছর কোটি টাকার উন্নয়ন করা হবে - প্রার্থী পলাশ

রাজবাড়ীর ৮ নং ওয়ার্ডে প্রতিবছর কোটি টাকার উন্নয়ন করা হবে - প্রার্থী পলাশ

একদিনে সারা বিশ্বে করোনায় নতুন আক্রান্ত ৬ লাখ ছাড়িয়েছে

একদিনে সারা বিশ্বে করোনায় নতুন আক্রান্ত ৬ লাখ ছাড়িয়েছে

বার্সার ক্যারিয়ারে প্রথম লাল কার্ড লেখলেন মেসি

বার্সার ক্যারিয়ারে প্রথম লাল কার্ড লেখলেন মেসি

বাহরাইন প্রবাসী বাংলাদেশিদের ফেরাতে সক্রিয় সরকার

বাহরাইন প্রবাসী বাংলাদেশিদের ফেরাতে সক্রিয় সরকার

২০ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা !

২০ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা !

মিরসরাই পৌরসভার উদ্যোগে শীতবস্ত্র ও মাস্ক বিতরণ

মিরসরাই পৌরসভার উদ্যোগে শীতবস্ত্র ও মাস্ক বিতরণ

সিংগাইরে ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধে কৃষক সমিতির স্মারকলিপি

সিংগাইরে ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধে কৃষক সমিতির স্মারকলিপি

প্রেমের বিজ্ঞাপনের প্রভাব

প্রেমের বিজ্ঞাপনের প্রভাব

সিংগাইরে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে কোটি টাকার ক্ষতি,অগ্নিদগ্ধ-২

সিংগাইরে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে কোটি টাকার ক্ষতি,অগ্নিদগ্ধ-২

মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নজিপুর পৌরসভা নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মত বাবু বিজয়ী

নজিপুর পৌরসভা নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মত বাবু বিজয়ী

হল বরাদ্দ না পাওয়ায় ডিএসইসির নির্বাচন ২৫ জানুয়ারি

হল বরাদ্দ না পাওয়ায় ডিএসইসির নির্বাচন ২৫ জানুয়ারি

অস্ত্র নিয়ে মিরসরাইয়ে মৎস্য প্রকল্প দখলের চেষ্টা

অস্ত্র নিয়ে মিরসরাইয়ে মৎস্য প্রকল্প দখলের চেষ্টা

খুলনায় ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের সাথে মতবিনিময় সভা

খুলনায় ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের সাথে মতবিনিময় সভা

শাখাকে লাভজনক করতে ব্যবস্থাপকদের সোনালী ব্যাংকের এমডির নির্দেশ

শাখাকে লাভজনক করতে ব্যবস্থাপকদের সোনালী ব্যাংকের এমডির নির্দেশ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ জিয়াউল হক
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ ছাদেকুর রহমান
প্রকাশকঃ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ

বার্তা বিভাগ মোবাইল: +88 016 01 22 45 45
বাণিজ্য বিভাগ মোবাইল: +88 017 88 445 222

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৩/২, আউটার সার্কুলার রোড, প্রশান্তি হাইটস, স্যুট # এ-৪ (পঞ্চম তলা), রাজারবাগ, ঢাকা-১২১৭ থেকে প্রকাশিত।

ই-মেইল: muktomonnews24@gmail.com
ই-মেইল: muktomontv@gmail.com


© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | মুক্তমন এসএসএস লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান | About Us | Privacy Policy