আজ মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১৯, ২০২১ | ৫ মাঘ, ১৪২৭

শিরোনাম

কাওমি মাদ্রাসার সিলেবাস তথা দারসে নিযামির উৎপত্তি, এর সংস্কার ও কিছু অভিমত

প্রকাশিত: বুধবার, জানুয়ারী ১৩, ২০২১


কাওমি মাদ্রাসার সিলেবাস তথা দারসে নিযামির উৎপত্তি, এর সংস্কার ও কিছু অভিমত

হাবীবুর রহমান : কাওমি মাদ্রাসার সিলেবাস বদল, সরকারের স্বীকৃতি, সহযোগিতা এবং কি সরকারের অধীনতা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে এই দেশে বাহাস হচ্ছে। এই বাহাসের মধ্যে আহাম বাহাস হচ্ছে দেওবন্দের সিলেবাস নিয়ে। এই সিলেবাসের উৎপত্তি এবং সিলেবাসের বদল নিয়েই দীর্ঘ সময় ধরে এই বাহাস চলছে। এখানে তর্ক-বিতর্কের ধরন দুই রকম। মাদ্রাসার গণ্ডিতে যে বাহাস হয় সেটা এক ধরনের। মাদ্রাসার স্কলারদের সাথে সেক্যুলারদের যে বাহাস তা আবার ভিন্ন ধরনের। আমি দেওবন্দি সিলেবাস, সরকারের স্বীকৃতি, সহযোগিতা ও অধীনতা নিয়ে কিছু কথা রাখতে চাই। সেই সিলসিলায় আজকে দেওবন্দি সিলেবাস নিয়ে কিছু আলাপ করতে চাই।
দেওবন্দ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠার ইতিহাস জানা উপর্যুক্ত প্রতিটা বাহাসের ক্ষেত্রে জরুরি। ১৮৫৭ সালের আজাদির সংগ্রাম, শামেলির ময়দানে উপনিবেশিক, জালিম ও কুফরি শক্তির বিরুদ্ধে যে লড়াই কাসেম নানুতবীরা করেছিলেন দেওবন্দ ছিলো ভিন্ন মাত্রায়, ভিন্ন পন্থায় সেই লড়াইয়ের এক্সটেনশন মাত্র। দেওবন্দ হলো একটা চেতনা, একটা লড়াই। এই লড়াই যেমন ইসলামি শিক্ষা, তাহযিব তামাদ্দুনকে সমুন্নত রাখার জন্যে। তেমনি এই লড়াই ছিলো উপনিবেশিক, জালিম শাসককে বিদায় করার লড়াই। দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা করাটা ছিলো একটা নতুন ফ্রন্টের দুয়ার খোলা। যে ফ্রন্টের সামনে থাকবে কেতাব কিন্তু পিছনে থাকবে তলোয়ার। এই কথাটাই দেওবন্দের প্রতিষ্ঠাতা শাইখুল হিন্দ মাহমুদুল হাসান রাহিঃ বলেছেন। তিনি বলেন: "১৮৫৭ সালের পরে নতুনভাবে লড়াই করার জন্যে উস্তাদে মুহতারাম (কাসেম নানুতবী) দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যেই লড়াইয়ের উপরে পর্দা হিশেবে দিয়েছিলেন কেতাব-পত্র"। আর এই জন্যেই শাইখুল হিন্দ রেশমি রুমাল আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। খেলাফত পুনরুদ্ধারের জিহাদে শরিক হয়ে জেল জুলুম বরদাশত করেছিলেন। তাই দেওবন্দ মানে যারা মনে করে শুধুমাত্র একটা নেসাব ও নেযামে তালিম। তারা দেওবন্দ আন্দোলন সম্পর্কে বেখবর। তারা বেখবর শামেলি ময়দান, থানাভবন ইমারাহ, বালাকোটের যুদ্ধ ও আব্দুল আযিয দেহলভির সেই ফাতওয়া সম্পর্কে। মূলত দেওবন্দ একটা লড়াই। যেই লড়াইয়ের সূচনা করেছেন কাসেম নানুতবী রাহিঃ।
দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা হয় ১৮৬৬ সালে। মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন কাসেম নানুতবি, সাইয়েদ মুহাম্মদ আবেদ, ফযলুর রহমান ওসমানি, ইয়াকুব নানুতবি ও রশিদ আহমদ গাঙ্গুহিসহ অন্যরা। ১৭৮০ সালে নিজেদের পছন্দমতো দরবারি মোল্লা ও কেরানি তৈরির জন্যে কলকাতা আলিয়া প্রতিষ্ঠা, ১৮৩৫ সালে মেকলে শিক্ষানীতি পাস, ফার্সির বদলে ইংরেজিকে সরকারের অফিশিয়াল ও শিক্ষার ভাষা হিশেবে ঘোষণা করাটা ছিলো ভারতীয় ও এ দেশের মুসলমানদের প্রতি বড় আঘাত। মেকলে শিক্ষানীতিতে পশ্চিমা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা ও একমুখী শিক্ষা প্রচলন করার কথা বলা হলে এ দেশের তাওহিদি ও লড়াকু জনতা প্রতিবাদ করে। তারা ইসলামকে শিক্ষা থেকে বিদায় করার বিরুদ্ধে ও উপনিবেশিক কুফরির বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই মিশন থেকেই প্রতিষ্ঠা হয় দারুল উলুম দেওবন্দ।
দরসে নিযামি
ভারত উপমহাদেশে ইসলামি শিক্ষায় কয় ধরনের সিলেবাস প্রচলিত ছিলো এ সম্পর্কে সবচেয়ে সুন্দর আলোচনা করেন, আল্লামা আবুল হাসান আলি নদভীর পিতা আল্লামা আব্দুল হাই হাসানি রাহিঃ তাঁর অসাধারণ গ্রন্থ 'আস সাকাফাতুল ইসলামিয়া ফিল হিন্দ' গ্রন্থে। তিনি সেই গ্রন্থে দেখিয়েছেন যে ভারত উপমহাদেশ প্রধানত তিন স্থান থেকে শাসন করা হয়েছে। প্রথমে আরব পরে মাওয়ারায়ুন নাহর তথা খোরাসান ও মধ্যে এশিয়া থেকে। আমির, সুলতান ও মুঘল বাদশাহদের দ্বারা। এই তিন যুগে শাসকদের প্রভাবে সিলেবাস বদলেছে। প্রথম যুগে হাদিস, দ্বিতীয় যুগে ফিকহ এবং তৃতীয় যুগে মানতেক ও ফালসাফার প্রাধান্য ছিলো সিলেবাসে। এই তিনটা সময়ে ইলমের তিনটা ঘরানা সৃষ্টি হয়। যথাক্রমে দিল্লি, লখনৌ ও খায়রাবাদ। এই তিনটা সিলেবাস ও ঘরানাকে সামনে রেখে আল্লামা নিযামুদ্দিন একটা নতুন সিলেবাস প্রণয়ন করেন। সেটাই দারসে নিযামি নামে প্রসিদ্ধ।
দেওবন্দের নেসাব
মোল্লা নিযামুদ্দিন সিহালওয়াভি লাখনভি ছিলেন বাদশাহ আওরঙ্গজেবের প্রিয় আলেম এবং ফাতওয়া আলমগীরী রচয়িতাদের অন্যতম। তিনি সেই সময়কার যুগ চাহিদা ও ইসলামি তাহযিব তামাদ্দুনকে সামনে রেখে ইলমি ইস্তেদাদ তথা যোগ্যতা সৃষ্টির নিমিত্তে দিল্লি, লাখনৌ ও খায়রাবাদের নেসাবকে সমন্বয় করে একটা নেসাব তৈরি করেছিলেন। যা তৎকালীন ভারতীয় ওলামায়ে কেরাম পছন্দ করেছিলেন ও সিলেবাস হিশেবে চালু করেছিলেন। সেই নেসাবকে ভিত্তি ধরে দেওবন্দ মাদ্রাসায় নেসাব চালু করা হয়। যেহেতু ভিত্তি ছিলো দারসে নিযামি তাই দেওবন্দি নেসাবকে দারসে নিযামি নেসাব বলা হয়। তা নাহলে দারসে নিযামির সাথে দেওবন্দের নেসাবের বিস্তর ফারাক বিদ্যমান। এ নিয়ে 'দারুল উলুম দেওবন্দ কি জামে ও মুখতাসার তারিখ' গ্রন্থে (যে গ্রন্থের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন দেওবন্দের মুহতামিম আবুল কাসেম নোমানি সাহেব) বলা হয়, দেওবন্দের বর্তমান যে নেসাব তাকে দারসে নিযামি বলা হয় শুধুমাত্র নামের কারণেই। বাস্তবে একে দারসে নিযামি বলার সুযোগ নেই বললেই চলে। গ্রন্থতে যদিও এই কথার বিস্তারিত ব্যাখ্যা নেই। কিন্তু যারা দারসে নিযামির গ্রন্থাবলির লিস্ট দেখেছেন তারা তা বুঝতে পারবেন। দারসে নিযামিতে সিহাহ সিত্তাহ নেই! অথচ সিহাহ সিত্তাহ ছাড়া দাওরায়ে হাদিস কল্পনা করা যায় না। দারসে নিযামিতে মানতেক ও ফালসাফা নিয়ে ৮-১০ টা গ্রন্থ আছে অথচ বর্তমানে এই টপিকে ২-৩ টা গ্রন্থই মাত্র পড়ানো হয়। তেমনি নিচের দিকে তো দারসে নিযামি ফলো করা হয় না বললেই চলে। সুতরাং পুরোপুরি দারসে নিযামিতে চলছে কাওমি মাদ্রাসার সিলেবাস এটা বলা অজ্ঞতার পরিচায়ক।
সিলেবাস বদল নিয়ে বিতর্ক
দারসে নিযামি বদলানো ঠিক হবে কিনা এই নিয়ে যে বিশাল বিতর্ক কাওমী অঙ্গনের ভিতরে প্রচলিত এই বাহাসকে আমার লেইম মনে হয়। কারণ হুবহু দারসে নিযামি কখনোই মাদ্রাসাগুলির নেসাব ছিলো না। তার উপর দেওবন্দ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নেসাব বদলেছে সময়ে সময়ে। তবে হ্যাঁ, নেসাব বা সিলেবাস বদলের পক্ষে থাকলেও আমি মনে করি এই বদল যেন শুধু শুধু বদল না হয়। একটা বিশেষজ্ঞ কমিটি করে সিলেবাস বদল করা হয়। আরবির প্রতি আরো বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। ফালসাফা ও মানতেক একেবারে উঠিয়ে না দিয়ে তাখাসসুসে পড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়। আকিদা বিষয়ে আরো বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। ইত্যাদি আরো কিছু সুপারিশ আছে।
আমার কাছে সবচেয়ে লেইম ও অযৌক্তক লাগে সেক্যুলারদের কাওমি নেসাব নিয়ে কথাবার্তা। প্রথমত এরা দেওবন্দ কী সেটাই বুঝতে পারে না। বঙ্গীয় ও ভারত উপমহাদেশীয় সেক্যুলাররা ছিলো সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদের দালাল। এরা উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে জিহাদ পরিচালনাকারী দেওবন্দ বুঝবে কীভাবে! দেওবন্দ কে ধারণ করার সেই সাহস ও প্রজ্ঞা এদের আছে বলে মনে করি না।দ্বিতীয়ত দেওবন্দ কোন নেসাবে কেমনে চলে এই নিয়ে তাদের সেই অর্থে কোনো জানাশোনা নেই। নিজেদের এই অজ্ঞতা দিয়ে ওরা যখন সংস্কার নিয়ে, নেসাব নিয়ে জ্ঞান দেয় তখন তা হাস্যকর ঠেকে।
যাইহোক, তাদের মূল কথা হলো দেওবন্দ সিলেবাসকে বদলাতে হবে। সেখানে আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞান ঢুকিয়ে উন্নত করতে হবে! চাকুরির বাজারে যেতে হবে। দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গিয়ে বদলে ফেলতে হবে সব! ব্লা ব্লা ব্লা.. তাদের এমন বক্তব্যের সাথে কাওমি পড়ুয়া অনেককেও একমত হতে দেখি।
এ বিষয়ে বড়দের বক্তব্য এখনো আমার চোখে পড়েনি। আমার বক্তব্য হচ্ছে, দেওবন্দের ইতিহাস লড়াই ও সংগ্রামের ইতিহাস। যে বৃটিশ উপনিবেশবাদ, যে হিন্দুত্ববাদি সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, যে কুফর ও জালিম রেজিমের বিরুদ্ধে দেওবন্দ লড়াইয়ের পতাকা নিয়ে দাঁড়িয়েছিলো তা এখনো চলমান। প্রশ্ন হচ্ছে, লড়াইয়ের পথে আধুনিক শিক্ষা কি বাধা? উত্তর দেয়ার আগে কিছু কথা বলতে চাই। দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা হয়েছে শিক্ষাক্ষেত্রে পিউর দ্বীনি ইলম শিক্ষা প্রদান করার জন্যে। এ ব্যাপারে একটা ঘটনা বলি। একবার দাক্ষিণাত্যের এক শাসক দেওবন্দকে চিঠি পাঠায়, তাদের সরকারি কাজের জন্যে কিছু দেওবন্দের ছাত্র দিতে। ফকিহুন নাফস রশিদ আহমদ গাঙ্গুহি তা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, দেওবন্দের ছাত্ররা দ্বীনের খেদমৎ করবে। মসজিদ, মাদ্রাসা ও পিউর দ্বীনি কাজে জড়িত থাকবে। সরকারি আমলার নামে রাষ্ট্রের সেবাদাসে পরিণত হবে না। একই কথা রয়েছে দেওবন্দের উসূলে হাস্তেগানার (৮ মূলনীতির) সপ্তম মূলনীতিতে। সেখানে সরকারের সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বা সম্পর্ক রাখতে নিষেধ করা হয়েছে। এই উসূলে হাসস্তেগানা নিজ হাতে লিখে গিয়েছেন মুজাহিদে মিল্লাত, দেওবন্দ প্রতিষ্ঠাতা কাসেম নানুতবী রাহিঃ।
এবার অন্যদিকটা দেখি, বর্তমান দেওবন্দ মাদ্রাসায় কম্পিউটার কোর্স আছে। আছে ইংরেজি শিক্ষার ব্যবস্থা। অনেক মাদ্রাসায় কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা আছে। এই দুই নীতিকে সামনে রেখে এবং দেওবন্দের মূল চেতনাকে মাথায় রেখে বলতে চাই, আধুনিক শিক্ষা ততটুকুই দেয়া উচিৎ যতটুকু না দিলেই নয়। কিন্তু আধুনিক শিক্ষার নামে মাদ্রাসাকে স্কুল-কলেজে রূপান্তরের কোনো সুযোগ নেই। এখন প্রশ্ন অনেকে করবে, স্কুল-কলেজ বা আধুনিক শিক্ষা কি হারাম? আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে মুসলমানরা কি এগিয়ে যাবে না? চিকিৎসায় নার্স কই পাবেন? 😒 এমন হবিজাবি প্রশ্ন! এর উত্তরে আমি বলি, এগুলি যে হারাম সেটা আমি বলছি না। আর মুসলমান শুধু দেওবন্দি মাদ্রাসার ছেলেরা না। আমি বলতে চাচ্ছি, যার যার ক্ষেত্র নিয়ে। দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা হয়েছে বাহ্যত পিউর শরিয়া নিয়ে লেখাপড়ার জন্যে। সুতরাং এই মাদ্রাসার ফোকাস থাকা উচিৎ এই শরিয়াহ বিষয়ে কীভাবে আরো গভীর জ্ঞানার্জন করা যায় তা নিয়ে। সারা দুনিয়ার ইলমি গবেষণার সাথে কীভাবে সম্পৃক্ত থাকতে পারে তা নিয়ে। নিজেদেরকে আরো উন্নতি কীভাবে করতে পারে এসব নিয়ে। এর বাইরে বাকি মুসলমানরা অন্যান্য বিষয় শিখুক। তারা জ্ঞান বিজ্ঞানে উৎকর্ষতা অর্জন করুক। সবাই যেহেতু মুসলমান। যার যার ক্ষেত্রে বুৎপত্তি অর্জনের পরে পারস্পরিক সমন্বয়ই হবে বুদ্ধিমানে কাজ। এর বিপরীতে একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে সবকিছু শিখতে বাধ্য করা হবে অবাস্তব, অবৈজ্ঞানিক ও নির্বুদ্ধিতা। আমরা যারা ভার্সিটিতে পড়েছি এবং জ্ঞানের শাখাগত বিষয়াবলির বিভিন্নতা, গভীরতা ও ব্যাপকতা দেখেছি তাদের কাছে এই বিষয়গুলি একেবারে দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। এখানে বাড়তি কিছু বলার দরকার নেই।
এবার আসি পূর্বের প্রশ্ন তথা আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান দেওবন্দ আন্দোলনের পথে বাধা কি না এর উত্তরের ক্ষেত্রে। স্পেসেফিকলি আধুনিক শিক্ষা দেওবন্দের যে মূল লড়াই ও চেতনা তার বিরুদ্ধে বাধা নয়। তবে লর্ড মেকলের মানসিকতা, হিন্দু মহাসভার প্রোপাগান্ডা এই লড়াইয়ের পথে বড় বাধা। যারা পুরো দেওবন্দকে আধুনিক করার কথা বলেন, তাদের কথা প্রকারান্তরে মেকলের কথারই অনুরূপ। তারা জানেন, মেকলের মতো এই আমলেও সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় সব ধরনের জ্ঞান চর্চা হলেও পিউর দ্বীনি ইলমের চর্চা হয় না।শুধুমাত্র বেসরকারিভাবে কাওমিতে পিউর শরিয়াহের চর্চা হয়। এখন যদি আধুনিক করার নামে তা নষ্ট করা যায় তবে পিউর দ্বীনি ইলম চাইলেও কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। হিন্দুত্ব সংস্কৃতির রাজত্ব খুব সহজে এখানে প্রতিষ্ঠা করা যাবে। আর আধুনিকতার কথা উঠলেই সরকারি অধীনতার কথাও সামনে আসবে। যা করতে পারলে এই দেশে ভারতীয় আগ্রাসন ও হিন্দুত্ব মহাসভার আগ্রাসনকে ঠেকিয়ে দিতে যে উচ্চকণ্ঠস্বরটি তা স্তব্ধ করা যাবে। দেওবন্দের চেতনা ও লড়াই সরকারি আগ্রাসনের নিচে চাপা পড়বে। আমার সবচেয়ে হাস্যকর লাগে যারা চাকুরির লোভ দেখায়! দেশের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েও মিলিয়ন মিলিয়ন বেকারের এই দেশে চাকুরির কথা বলে যুক্তি উপস্থাপন করলে না হেসে উপায় কি বলুন!
অবশেষে বলতে চাই, দেওবন্দ পুরোপুরি দারসে নিযামির উপর নেই, কখনো ছিলোও না। থাকার দরকারও নেই। বরং আরবিকে আরো গুরুত্ব দিয়ে, বিভিন্ন সাবজেক্টকে গুরুত্ব অনুসারে ভাগ করে, বিশেষজ্ঞ কমিটি দিয়ে নতুন সিলেবাস প্রণয়ন করা হোক। যতটুকু না হলেই নয় এমন আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষা দেয়া হোক। মূল ফোকাস থাকুক দ্বীনি ইলম অর্জনে। মূল ফোকাস থাকুক কাসেম নানুতবীর সেই লড়াইয়ে। যে লড়াই তিনি আরম্ভ করেছেন এবং যা এখনো চলমান। পথ প্রদর্শক হোক উসূলে হাস্তেগানা। পথ প্রদর্শক হোক আকাবিরে দেওবন্দ। যদি পথ ও পন্থা ঠিক থাকে। যদি ইখলাস থাকে। তবে ইনশাআল্লাহ একদিন কাসেম নানুতবীর লড়াই, শাইখুল হিন্দের সংগ্রাম পূর্ণতা লাভ করবে, ইনশাআল্লাহ।

বাকলিয়ায় ছাত্রলীগ কর্মী হত্যার মূলহোতাসহ গ্রেফতার ২

বাকলিয়ায় ছাত্রলীগ কর্মী হত্যার মূলহোতাসহ গ্রেফতার ২

রাবিতে সোনালী ব্যাংকের ১২২৭তম শাখার উদ্বোধন

রাবিতে সোনালী ব্যাংকের ১২২৭তম শাখার উদ্বোধন

ধোবাউড়ায় বিএনপি নেতার শীতবস্ত্র বিতরণ

ধোবাউড়ায় বিএনপি নেতার শীতবস্ত্র বিতরণ

মিরসরাইয়ে দুটি সেতু বদলে দেবে মানুষের ভাগ্য,অর্থনৈতিক দৃশ্যপট

মিরসরাইয়ে দুটি সেতু বদলে দেবে মানুষের ভাগ্য,অর্থনৈতিক দৃশ্যপট

ঘন কুয়াশায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ

ঘন কুয়াশায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ

রাজবাড়ীর ৮ নং ওয়ার্ডে প্রতিবছর কোটি টাকার উন্নয়ন করা হবে - প্রার্থী পলাশ

রাজবাড়ীর ৮ নং ওয়ার্ডে প্রতিবছর কোটি টাকার উন্নয়ন করা হবে - প্রার্থী পলাশ

একদিনে সারা বিশ্বে করোনায় নতুন আক্রান্ত ৬ লাখ ছাড়িয়েছে

একদিনে সারা বিশ্বে করোনায় নতুন আক্রান্ত ৬ লাখ ছাড়িয়েছে

বার্সার ক্যারিয়ারে প্রথম লাল কার্ড লেখলেন মেসি

বার্সার ক্যারিয়ারে প্রথম লাল কার্ড লেখলেন মেসি

বাহরাইন প্রবাসী বাংলাদেশিদের ফেরাতে সক্রিয় সরকার

বাহরাইন প্রবাসী বাংলাদেশিদের ফেরাতে সক্রিয় সরকার

২০ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা !

২০ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা !

মিরসরাই পৌরসভার উদ্যোগে শীতবস্ত্র ও মাস্ক বিতরণ

মিরসরাই পৌরসভার উদ্যোগে শীতবস্ত্র ও মাস্ক বিতরণ

সিংগাইরে ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধে কৃষক সমিতির স্মারকলিপি

সিংগাইরে ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধে কৃষক সমিতির স্মারকলিপি

প্রেমের বিজ্ঞাপনের প্রভাব

প্রেমের বিজ্ঞাপনের প্রভাব

সিংগাইরে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে কোটি টাকার ক্ষতি,অগ্নিদগ্ধ-২

সিংগাইরে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে কোটি টাকার ক্ষতি,অগ্নিদগ্ধ-২

মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নজিপুর পৌরসভা নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মত বাবু বিজয়ী

নজিপুর পৌরসভা নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মত বাবু বিজয়ী

হল বরাদ্দ না পাওয়ায় ডিএসইসির নির্বাচন ২৫ জানুয়ারি

হল বরাদ্দ না পাওয়ায় ডিএসইসির নির্বাচন ২৫ জানুয়ারি

অস্ত্র নিয়ে মিরসরাইয়ে মৎস্য প্রকল্প দখলের চেষ্টা

অস্ত্র নিয়ে মিরসরাইয়ে মৎস্য প্রকল্প দখলের চেষ্টা

খুলনায় ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের সাথে মতবিনিময় সভা

খুলনায় ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের সাথে মতবিনিময় সভা

শাখাকে লাভজনক করতে ব্যবস্থাপকদের সোনালী ব্যাংকের এমডির নির্দেশ

শাখাকে লাভজনক করতে ব্যবস্থাপকদের সোনালী ব্যাংকের এমডির নির্দেশ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ জিয়াউল হক
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ ছাদেকুর রহমান
প্রকাশকঃ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ

বার্তা বিভাগ মোবাইল: +88 016 01 22 45 45
বাণিজ্য বিভাগ মোবাইল: +88 017 88 445 222

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৩/২, আউটার সার্কুলার রোড, প্রশান্তি হাইটস, স্যুট # এ-৪ (পঞ্চম তলা), রাজারবাগ, ঢাকা-১২১৭ থেকে প্রকাশিত।

ই-মেইল: muktomonnews24@gmail.com
ই-মেইল: muktomontv@gmail.com


© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | মুক্তমন এসএসএস লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান | About Us | Privacy Policy