মুরুব্বী ভাবনা ।। মুরুব্বি উহু মুরুব্বী !!

নাজমুল করিম : ইদানীং বাংলাদেশের বেশ কিছু মুরুব্বি রাজনীতিবিদ যাহারা মূলত: গত তেপান্ন বছর রাজনীতির চাল চালিতে যাইয়া গোটা দেশটাকে ধ্বংসস্তূপে পরিনত করিয়াছে, যাহারা মোটামুটি এরশাদ – হাসিনা সরকারের সংগে একধরনের সমঝোতা কিংবা আপন সম্পদ কিংবা নিজেদের জরাজীর্ণ স্বাস্হ্য বাঁচাইতে গিয়া, আন্দোলন আন্দোলন খেলা খেলিয়াছেন, যাহারা হাসিনা পতনের আগের দিনও বিশ্বাস করিতে পারেন নাই, স্বৈরনী হাসিনার পতন ঘটিবে, অত:পর আপামর ছাত্র জনতার নির্ভীক আত্মবলিদানে অসম্ভবকে সম্ভব করিয়া একবাক্যে ড: ইউনুসকে দায়িত্ব প্রদান করিয়া নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করিয়া, এখন সরকারকে ইহা করিতে হইবে, উহা করিতে হইবে বলিয়া প্রতিদিন সবক দিতেছেন।
প্রশ্ন হলো আপনাদের মতো জগৎখ্যতা মুরুব্বী রাজনীতিবিদরা হাসিনা পতনের পরপরই সাহসিকতার সাথে ক্ষমতা নিয়া রাষ্ট পরিচালনায় স্বীয় যোগ্যতা প্রদশন করিলেন না, কেন? তাহলে আপনাদের কারিশমা বুঝিতে পারিতাম। ড: ইউনুসের কি প্রয়োজনিয়তা ছিলো ?আপনারা যেখানে আছেন! নাকি আপনারা শুধু মেহমানের মতো খাইতে আসিবেন , আর বাজার সদাই রান্না -বান্না ড: ইউনুসের মতো লোকেরা করিবেন?
নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করিয়া জাল জালিয়াতির চাল চালানো সহজ। অধম অশিক্ষিত মূ্র্খ জনগোষ্টির সাথে সাপ – লুডু খেলা সহজ ।কিন্তু নিজের ঘর মানে নিজের সন্তানের সাথে একান্তে কথা বলুন, দেখিবেন। শতকরা ৯০% সন্তান আপনাকে রাজনীতিতে চায় না।
মুরুব্বিরা ভুলে গেছেন বোধহয়, হাসিনার শেষ ডামি নির্বাচনে, উত্তরাঞ্চলের জনৈক আওয়ামী এম পি প্রার্থী, ঘটা করিয়া তাঁহার কানাডায় অধ্যয়নরত ছেলেকে দেশে আনিলেন, ছেলে পিতাকে ভোট দিবে, সকালে ছেলে ভোট কেন্দ্রে যাইযা দেখে, তাঁহার ভোট হইয়া গিয়াছে। এমন কান্ডে ছেলে সকলের সামনে পিতাকে এই ধরনের চুরির ভোটে বিজয়ী হওয়া নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করিয়া সেদিনই কানাডার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করিলেন। ঘটনাটি ছোট, কিন্তু প্রেক্ষাপট অনেক বড়, মুরুব্বি রাজনীতিবিদরা নিশ্চয়ই আন্দাজ করিতে পারিবেন।
মুরুব্বিরা আপনাদের স্বীয় গৃহে, নিজেরা চেক করে দেখেন, আপনার সন্তান আপনার সাথে আছে কিনা? নাকি ছাগল – কান্ডের মতিউর, যিনি চুরির টাকায় কলেজ পডুয়া মেয়েকে কানাডায় দামি বাড়ি আর গাড়ি কিনিয়া দিলেন, সেই মেয়ে মতি ধরা খাওয়ার পর প্রকাশ্যে বলিলেন, বাপ পাপের প্রায়শ্চিত্ত করুক, আমি এই গোলামের নাম পিতা হিসাবে স্বীকার করিবো না।
মুরুব্বিরা, আপনারা বেশী বুজিবেন, এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু আপনার সন্তান যাকে টাকা পয়সা খরচ করিয়া শিক্ষা দীক্ষা দিলেন, সে আপনার চেয়ে বেশী তাহার ভবিষ্যৎ বুজে।
সুতরাং রিলে রেসের ডান্ডা তাহাদের হাতে দিয়া, জাতিকে এগিয়ে নেয়ার সুযোগ দিয়া পূর্বের কৃতকর্মের পাপ মোচন করেন, না হয় শেখ সাহেবের মতো নেতা, তাহার কন্যার জন্য, মরনোত্তর যে কষ্ট সহ্য করিতেছেন, কম বেশী আপনাদেরকে ও সেই পরিনতি ভোগ করিতে হইবেক।
‘৭১ এবং ‘৯০ এ তরুনরা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে আপনাদের হাতে ক্ষমতার নাটাই দিয়াছিলো, আপনারা ক্ষমতার অপব্যবহার করিয়া জাতিকে পিছিয়ে দিয়েছেন। এই তেপ্পান্ন বছরে কোন মুরুব্বী নেতা দেশ – জনতার জন্য তাজা রক্ত দিতে দেখি নাই, কেবলই তরুনরা রক্ত দিয়েছে আর আপনারা ডুগডুগি বাজিয়েছেন। এখন টেকনোলজির যুগে তরুনরা অতীত -বর্তমান- ভবিষ্যত কম্পিউটারের বাটন টিপিয়া বুজিতে পারে, আপনিতো কম্পিউটারই চালাতে পারেন না, ইহা না বুজিয়া, কাউয়া কাদেরের খেলার কথা বলিয়া জান লইয়া পলাইছে। আপনাদের কি দশা হইবেক?
মুরুব্বি হইলে শুধু হয় না, মুরুব্বী ত্যাগ আর জ্ঞানের মাধ্যমে উত্তরসূরিদের জয় করিতে হয়। আপনাদের পথ অনেকাংশেই নোংরা কিংবা ভুল, তাহা আপনারা নিজেরাই প্রমাণ করিয়াছেন।
সুতরাং সুন্দরতম বিদায় ভালো, আপনাদের এখন মোটামুটি এই বয়সে আর বেশী সময় স্বাভাবিক ভাবে বাঁচিবার সময় নাই —— তাই যাহারা আগামী আরো অন্তত ৩০-৪০ বছর বাঁচিবে, তাহাদের হাতে ছাডিয়া দেন, তাহারা তাহাদের ভবিষৎ গড়ুক কিংবা গোল্লায় যাক, আমার আপনার কবরে থাকিয়া কিইবা করার আছে? অন্তত মরনোত্তর অসম্মান, অশ্রদ্ধা থেকে কাটিয়া পড়েন।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: আমিও কিন্তু বয়সে এই মুরুব্বী শ্রেনীর প্রাথমিক পর্যায়ে আছি, আল্লাহ হায়াত দিলে আর কয়েক বছর পর দ্বিতীয় শ্রেনীতে পরিবো, সুতরাং দয়া করিয়া ভাবিবেন না, কোনো মুরুব্বিকে অসম্মান করিয়েছি। )
লেখক : সাবেক ছাত্র নেতা